বিএনপি জ্বলেপুড়ে মরছে: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০

অনলাইন ডেস্ক ; আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিএনপি জ্বলেপুড়ে মরছে। বিএনপি বলেছিল মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। কিন্তু যেরকম পরিস্থিতি এখনো আসেনি। এজন্য তাদের কষ্ট হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা এবং শিশু-কিশোরদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই বিতরণ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারমান রকিবুর রহমান। এতে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস মোজাফফর হোসেন পল্টু, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, তরফদার রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধরী, সাংগঠনিক সচিব কে এম শহিদ উল্যা ও দপ্তর সম্পাদক আসাদুল হক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশ দু:সময় পার করছে না, বিএনপির রাজনীতিতে চরম দু:সময় চলছে। যেভাবে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছে, বিভিন্ন নির্বাচন ও উপনির্বাচনে ভরাডুবি হচ্ছে এবং জনগণ প্রত্যাখান করছে- তা তাদের জন্য চরম দু:সময় বটে।

দেশ দু:সময় পার করছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, করোনা মহামারি বিশ্ব জুড়ে সংকট সৃষ্টি করছে। সমৃদ্ধ দেশগুলোকেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাংলাদেশ সীমিত সুযোগ নিয়ে সর্বোচ্চ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। সংকট মোকাবেলায় শেখ হাসিনা সরকারের উদ্যোগ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হলেও একটি দল অবিরাম সমালোচনা করে যাচ্ছে।

করোনার সম্ভব্য দ্বিতীয় তরঙ্গ মোকাবেলায় সরকার সচেষ্টা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্রষ্টার অপার কৃপা ও সরকারের অবিরাম প্রচেষ্টায় সংক্রমন এখনও অনেকটা নিয়ন্ত্রনে। জীবন-জীবিকার সমন্বয় করে অর্থনীতি আবার সচল হতে শুরু করেছে, রপ্তানী, প্রবাসি আয়, রিজার্ভসহ অন্যান্য আর্থ-সামাজিক সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। অর্জিত হয়েছে ঈর্ষনীয় সমৃদ্ধি-এসব অর্জন তারা দেখে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা নিছক কোন সরকার প্রধান নয়। তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। যার ভাবনায় পরবর্তি নির্বাচন নয়, তাঁর ভাবনার আকাশ জুড়ে পরবর্তি জেনারেশন। তাই গ্রহণ করেছেন শত বছরের বদ্বীপ পরিকল্পনা। তিনি নিছক কোনো শাসক নন, নিজেকে দেশের সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিবার মেধা, সাহস ও সততার প্রতিক, সরকার প্রধান হয়েও অতিসাধারণ জীবন যাপন তাঁকে করে তুলেছে অসাধারণ একজন। তাঁর সন্তানদের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাতে দেননি। সরকার প্রধানের সন্তান বলে কোন প্রশ্রয় পাননি, সৃষ্টি করেনি হাওয়া ভবন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, স্কুল কলেজ যথাসময়ে খুলে দেয়া হবে। শেখ হাসিনা এটা নিয়ে বিশষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করছেন। পরিস্থিতি বুঝে স্কুল, কলেজ খুলে দেয়া হবে। আগে জীবন এরপর লেখাপড়া। জীবন বাঁচলে লেখাপড়া করা যাবে। এএইচসি পরীক্ষাসহ অনন্য পরীক্ষা কিভাবে নেয়া যায় সেটা নিয়ে সরকার চিন্তা করছে। যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। করোনা মোকাবেলায় সবাইকে ধৈর্য্যধারণ করে সচেতনার সাথে চলতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও প্রতিনিদিন ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থায় আছে।

শিশু কিশোরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে জীবন গঠন করতে হবে। তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। আগামীতে তোমরাই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তোমাদেরকে কাজ করতে হবে।