মুজিববর্ষে ১ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি আইসিটি মন্ত্রণালয়ে

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার : মুজিববর্ষে নতুন করে ১ লাখ যুবসমাজকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ করে দেয়া হবে। লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং, হাইটেক পার্ক, মোবাইল গেমস অ্যাপ্লিকেশনসহ বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগে আয়োজিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে আইসিটি বিভাগের সার্বিক আয়োজন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অতিরিক্ত সচিব মো. মামুন আল রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। তার আলোকে আইসিটি মন্ত্রণালয় ৮টি উদ্যোগ ও কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট-২০২০ (বিআইজি), জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের হলোগ্রাফিক প্রোজেকশন, অনলাইনে মুজিববর্ষ, মোবাইল গেইম ও অ্যাপ্লিকেশনে দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গৃহীত উদ্যোগ, আইসিটি ডিভিশনের ১০০ প্লাস কৌশলগত পরিকল্পনা, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) ১০ বছর উদযাপন উপলক্ষে মহাসম্মেলন আয়োজন, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০২০ আয়োজন এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন কার্যক্রম রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর কীর্তিময় জীবনের কথা জানাতে হলে তাদের উপযোগী মাধ্যমে এবং তাদের মতো করে কন্টেন্ট তৈরি করা প্রয়োজন। বর্তমানে এনিমেশন ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সম্পৃক্ত নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন সময়ের কন্টেন্ট তরুণদের বেশি মনোযোগী করে তোলে। এ কারণে মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশন দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে নেয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ।

তিনি বলেন, গত ৮ বছরে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করা হয়েছে। নতুন করে আরও ৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ চলছে। মুজিববর্ষে নতুন করে ১ লাখ যুবসমাজকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ করে দেয়া হবে। লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং, হাইটেক পার্ক, মোবাইল গেমস অ্যাপ্লিকেশনসহ বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।

জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা ‘মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থের আলোকে একটি এনিমেশন বেজড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ভিত্তিক একটি এনিমেটেড মুভি নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের ভিজুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) নির্মাণ ও তার স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলোতে তার প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে, মুজিববর্ষের ওপর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নির্মাণ, ‘আমার মুজিব গেমিং কুইজ’ নির্মাণ উল্লেখযোগ্য।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের হলোগ্রাফিক প্রোজেকশন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও সিআরআই, এটুআই ও ডিওআইসিটির আওতায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা, এনিমেশন ভিডিও, অডিও বুক, বঙ্গবন্ধুর এই দিনে, অনলাইন নিউজ ফিচার, বঙ্গবন্ধু ব্লগ, অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা, আমার বঙ্গবন্ধু, কম্পিউটার গ্রাফিকস ভিডিও, সাক্ষাতকারভিত্তিক ভিডিও, ডিজিটাল কার্ড প্রভৃতি নির্মাণ ও প্রচারের বছরভিত্তিক কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কন্টেন্টের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাতির পিতার জীবন ও কর্মের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে। এ ক্ষেত্রে সিআরআই-এর ইয়াং বাংলা ও এটুআই প্রকল্পের বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ টিম ও নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম সমন্বিতভাবে কাজ করবে।