দিনাজপুরে মুক্তিপণ না দেয়ায় ৪ বছরের শিশু হত্যা, ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে চার বছরে শিশু পরশ সাহা হত্যা মামলায় পাঁচজনকে দোষি সাবাস্ত করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।
বুধবার বিকেল পাঁচটায় দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শরীফ উদ্দিন আহম্মেদ আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন। রায়ের পর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কড়া পুলিশ পাহারায় আসামিদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

আসামিরা হলো- জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার কাদিম নগর গ্রামে মো. এহিয়ার ছেলে জিল্লুর রহমান (২৫), মো. জুয়েল হোসেন (৩০), একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন (২৫), ওয়াজেদ আলীর ছেলে ফিরোজ কবির (২৫) ও মাহবুর রহমানের ছেলে হুমায়ন কবির সাগর ওরফে বুলেট (৩০)।

এই মামলার বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) এড. মেহেবুব হাসান চৌধুরী লিটন।

মামলার অভিযোগের সূত্র থেকে জানান, গত ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর বিকেল পাঁচটায় দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার কাদিম নগর গ্রামের মামলা এজাহারকারী কেশব চন্দ্র সাহার চার বছর বয়সের ছেলে পরশ সাহা তার বাড়ির পাশে খেলা করছিলো। এসময় আসামি জিল্লুর ও তার সহযোগীরা পরশ সাহাকে মুক্তিপণ আদায়ের আশায় ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর পরশ সাহাকে তার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ওইদিন সন্ধ্যার পর এলাকায় মাইকিং করে।

পরদিন ১২ নভেম্বর সকাল ৯টায় চার বছরের শিশু পরশ সাহার মৃত দেহ ঘোড়াঘাট কাজীপাড়া গ্রামের কবরস্থানের পাশ্বে আম বাগানে পাওয়া যায়।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা বিষয়টি থানায় ও নিহত পরশ সাহার পরিবারকে জানায়। এরপর আসামি জুয়েল ও জিল্লুর দুই ভাইকে ঘোড়াঘাট থানার পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। গ্রেফতারকৃত দু’ভাই পুলিশের কাছে পরশ হত্যার ঘটনার বিষয় স্বীকার করে। পরে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন ঘোড়াঘাট থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) ইমতিয়াজ কবির গ্রেফতারকৃত দুই আসামি জিল্লুর ও জুয়েলকে দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম রেজাউল বারীর নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য সোপর্দ করেন। বিচারকের নিকট ওই দুই আসামিঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ কর্মকর্তা ১১ জন আসামি বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। বিচারক দীর্ঘ সময়ে ২৬ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহন করেন।

উভয় পক্ষে মামলার যুক্তিতর্ক শোনার পর আজ বুধবার বিকেল পাঁচটায় ওই পাঁচজন আসামিকে দোষী সাবাস্তে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে রায় ঘোষণা করেন। মামলার অপর আসামি কামাল উদ্দিন (৫৫), ফেরদৌস আলী (৩৫), তারা মিয়া (৫০), মোছা. অন্তরা বেগম (২৪), মোছা. নুর বানু (৪৫) ও মোছা. শেফালী বেগমের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদেরকে মামলার দায় থেকে বেকুসুর খালাস প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী ও নিহত পরশের বাবা কেশব চন্দ্র সাহা জানান, তিনি এই রায় প্রদান করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। দেশে অপরাধ করলে বিচার হয় এই রায়ের মাধ্যমেই সেইটি প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি বলেন।

মামলাটি বাদীপক্ষে পিপি মেহেবুব হাসান চৌধুরী লিটন, এড. আনিসুর রহমান চৌধুরী এবং আসামিপক্ষের এড. আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম পরিচালনা করেন।