ইয়াবা পাচার-বিক্রির কাজে স্ত্রীর সাংবাদিক পরিচয় দিতেন শফিক

প্রকাশিত: ১০:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২২

অনলাইন ডেস্ক ; মো. শফিক। ২০১৭ সালের দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা বহনের কাজ করতেন তিনি। ২০২০ সালে মরিয়ম বেগম ওরফে সুমিকে ২য় বিয়ে করার পর তাকে নিয়ে ডেমরা এলাকায় ইয়াবা-আইসের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। ইয়াবা পাচার ও বিক্রির জন্য প্রাক্তন স্ত্রীর সাংবাদিক ও টিভি আর্টিস্ট পরিচয় ব্যবহার করতেন তারা।

২০২১ সালের প্রথম দিকে ১০ হাজার ইয়াবাসহ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের হাতে গ্রেফতার হয়। ২০২২ সালের অগাস্টে জামিনে বের হয়ে ফের একই কাজে জড়িয়ে পড়েন।

সোমবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘গত রোববার রাতে রাজধানীর ডেমরা বক্সনগর ও স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে কক্সবাজারভিত্তিক মাদক সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. শফিক এবং তার প্রাক্তন স্ত্রী ‘ক্রাইম রিপোর্টার ও টিভি আর্টিস্ট পরিচয় প্রদানকারী’ মরিয়ম বেগম ওরফে সুমি ও মো. সুমন ফকিরকে (৩৮) আটক করা হয়। সে সময় তাদের নিকট থেকে ১১ হাজার ইয়াবা ও ১১০ গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) উদ্ধার করা হয়। তাদের গ্রেফতারের পরে বেরিয়ে আসে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত শফিক জানায়- ইয়াবা ও অত্যন্ত উচ্চমূল্যের মাদক আইস (ক্রিস্টাল মেথ) তার স্ত্রীর মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতো। একইসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে নারায়ণগঞ্জের চনপাড়া এলাকার মাদকের গডফাদারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।’

সুব্রত সরকার বলেন, ‘গত সপ্তাহে আইস পাচারকারী চক্রের মূলহোতা চন্দন রায়কে আটক করার পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার কেন্দ্রিক একটি ইয়াবা-আইস পাচারকারী নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায়। এই নেটওয়ার্কের মূলহোতা মো. শফিক। ইতোপূর্বে ১০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে ধরা পড়ে তিনি। গত অগাস্ট মাসে জামিনে বের হয়ে তার প্রাক্তন স্ত্রী সাংবাদিক পরিচয় প্রদানকারী মরিয়ম বেগম ওরফে সুমিকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় চক্রকে সক্রিয় করে।’

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে ক্রেতা সেজে এই চক্রের এক সদস্য মো. সুমন ফকিরকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মো. শফিক ও সুমির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে ১০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও ১১০ গ্রাম আইস জব্দ করা হয়।’

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বলেন, ‘সেবনকারী পর্যায়ে প্রতি পিস ইয়াবার মূল্য ৩০০-৫০০ টাকা এবং প্রতি গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ) ৪০০০-৫০০০ টাকা। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থানায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া করা হয়েছে। এই অপরাধের সর্বনিম্ন সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড।