দিনাজপুরে গৃহবধূকে হত্যা: স্বামী-সতীনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: ১০:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীতে গৃহবধূকে হত্যা মামলায় স্বামী, সতীন ও তার ছেলের মৃত্যুদণ্ডসহএকজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও একজনকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক মো. এসএম রেজাউল বারী এই আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন- ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিন সুজাপুর গ্রামের মৃত বিবেকানন্দ চৌধুরীর ছেলে সাধনা নন্দ চৌধুরী (৬৩), আকাশ চৌধুরী (২৭), সাধনানন্দ চৌধুরীর স্ত্রী শ্রীমতি প্রতিমা রানী চৌধুরী (৪৫), চকচকা গ্রামের রবীন্দ্রনাথ দাশের ছেলে জীবন চন্দ্র দাস (৩০), কাটাবাড়ী গ্রামের কার্তিক চন্দ্র মহন্তের ছেলে কাজল মহন্ত (৩১)।

এদের মধ্যে প্রতিমা রানী চৌধুরী, আকাশ চৌধুরী ও কাজল মহন্তকে মৃত্যুদণ্ড, নিহতের স্বামী সাধনা নন্দ চৌধুরীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং জীবন চন্দ্র দাসকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে জীবন চন্দ্র দাসকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সাধনা নন্দ চৌধুরী তার প্রথম স্ত্রী তপতী রানী চৌধুরীর সাথে সংসার করার সময় ২০১৪ সালের দিকে প্রতিমা রানী চৌধুরীকে বিবাহ করেন। এরপর থেকেই তপতী রানী সাধনা নন্দ থেকে আলাদা থাকতো। তাকে ভরণ-পোষণ দেওয়া হতো না। এই বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়তই পারিবারিক কলহ লেগেই ছিল। ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল রাত ৯ টার পর থেকে তপতী রানীকে স্বামী, সতীন ও সতীনের ছেলেসহ ৫ জন মিলে শারীরিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে ৫ জন মিলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের একটি বাঁশবাগানে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে শুভ নন্দ চৌধুরী বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগ দায়ের করে। মামলার ৪ জন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। পরে আদালাতে মামলাটি চলাকালে ২২ জন স্বাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী পাবলিক প্রসিউকিউটর এ্যাড. রবিউল ইসলাম এবং আসামীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এ্যাড. হামিদুল ইসলাম।

পাবলিক প্রসিউকিউটর এ্যাড. রবিউল ইসলাম বলেন, আদালতের এমন রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।