বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাসে হাইড্রেটের সন্ধান

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২২

অনলাইন ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাস হাইড্রেটের সন্ধান পাওয়া গেছে। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, সমুদ্রে গ্যাস হাইড্রেট ও জেনেটিক সম্পদের গবেষণায় বঙ্গোপসাগরে বিপুল বাণিজ্যের সম্ভাবনা হিসেবে ২২০ প্রজাতির শৈবাল ও ৩৪৭ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সমুদ্র সীমা অনুবিভাগ) রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ খুরশেদ আলম।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় বঙ্গোপসাগরে গ্যাস হাইড্রেট পাওয়া গেছে। এটি মূলত, উচ্চচাপ ও নিম্ন তাপমাত্রায় গঠিত জমাট বরফ আকৃতির এক ধরনের কঠিন পদার্থ, যা স্তূপ আকারে থাকা বালির ছিদ্রের ভেতরে ছড়ানো স্টম্ফটিক আকারে কিংবা কাদার তলানিতে ক্ষুদ্র পিন্ড, শিট বা রেখা আকারে বিদ্যমান থাকে। এই গ্যাস হাইড্রেট থেকে মিথেন গ্যাস পাওয়া সম্ভব।

গবেষণায় দেখা যায়, মহীসোপানের প্রান্তসীমায় ৩০০ মিটারের বেশি গভীর সমুদ্রের তলদেশে গ্যাস হাইড্রেট পানি ও মাটির চাপে মিথেন বা স্টম্ফটিক রূপে পাওয়া যায়। সাধারণত এই গ্যাস হাইড্রেট ৫০০ মিটার গভীরতায় স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে। স্থিতিশীল গ্যাস হাইড্রেট সমৃদ্ধ এ অঞ্চল সমুদ্রের তলদেশে প্রায় ১০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, গবেষণায় বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ভেতরে ২২০ প্রজাতির শৈবাল (সি উইড), ৩৪৭ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪৯৮ প্রজাতির ঝিনুক, ৫২ প্রজাতির চিংড়ি, ৬১ প্রজাতির সি-গ্রাস, পাঁচ প্রজাতির লবস্টার এবং ছয় প্রজাতির কাঁকড়া চিহ্নিত হয়েছে। গবেষণায় নির্দিষ্ট প্রজাতির কিছু সমুদ্র শৈবাল ব্যবহারের মাধ্যমে পাঁচটি বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (সমুদ্রসীমা) মোহাম্মদ খুরশেদ আলম বলেন, ২০১১ সালে জাতিসংঘে মহীসোপানের সীমানা নির্ধারণ বিষয়ক কমিশনে বাংলাদেশের পেশ করা মহীসোপানের দাবি সংবলিত বাংলাদেশের প্রতিবেদন তৈরির সময় বাংলাদেশ সরকার ২০০৭-২০০৮ সালে বঙ্গোপসাগরে ফ্রান্সের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিন হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার এবং ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রায় তিন হাজার লাইন কিলোমিটার সিসমিক ও ব্যাথিম্যাট্রিক জরিপ সম্পন্ন করে। এ দুটি জরিপে ৩৫০ নটিক্যাল মাইলের ভেতরে মহীসোপানে ছয় হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার পর্যন্ত সমুদ্র অঞ্চলে থাকা সম্পদের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে, যা বাপেক্স, পেট্রোবাংলা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্রসীমা অনু বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে। এসব জরিপের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই একটি ‘ডেস্কটপ স্টাডি’ পরিচালনা করা হয়।