ঈদের জামাতে মহামারি থেকে মুক্তির প্রার্থনা

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও মসজিদে মসজিদে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। ঈদের দুই রাকাত নামাজ শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে মহামারি করোনা থেকে মুক্তির ফরিয়াদ জানিয়েছেন তারা।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার প্রধান ও প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। নামাজ শেষে মোনাজাতে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি এবং অসুস্থদের সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়।

বায়তুল মোকাররমে ঈদ-উল-আজহার প্রধান জামাতে অংশ নেয়া সালাম শেখ বলেন, বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই বরিশালের গ্রামের বাড়িতে। মহামারি করোনার কারণে সবাইকে ফেলে ঢাকায় একা ঈদ করছি। এই ঈদ কীভাবে আনন্দের হয়?

তিনি বলেন, ‘করোনা নিয়ে সবার মধ্যে নানা দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। কখন কার চাকরি চলে যায়, কেউ বলতে পারে না। আমরা এক কঠিন সময় পার করছি। বাধ্য হয়ে ঢাকায় পড়ে আছি। কাল থেকেই বাবা-মায়ের জন্য মনটা খুব খারাপ। এই প্রথম বাবা-মাকে ছেড়ে আমার প্রথম ঈদ।’

রামপুরার সালামবাগ জামে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা ইয়ানুর রহমান বলেন, আমাদের মসজিদে ঈদের একটাই জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাতে হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। কিন্তু নামাজ শেষে আগে যেমন একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করা হতো, এবার তেমনটা ছিল না। সবাই নামাজ পড়ে যে যার মত চলে গেছেন।

তিনি বলেন, নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত মোনাজাতে ইমাম মহামারি করোনা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে করোনায় আক্রান্ত হয়ে য়ারা আইসিইউতে আছেন, হাসপাতালে ভর্তি আছেন তাদের সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কোন রকমে ঈদের দুই রাকাত নামাজ মসজিদে আদায় করতে পেরেছি। মসজিদের সবাই মাস্ক পরে এসেছিলেন। তবে সামাজিক দূরত্ব খুব একটা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। মসজিদে জায়গা না হওয়ায় কেউ কেউ রাস্তায় জামাতে অংশ নেন।

তিনি বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাস আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। শুরুতে করোনা ভাইরাস নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, তা এখন নেই। কিন্তু করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে জেঁকে বসা দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। করোনার কারণে অনেকের আয়-রোজগার কমে গেছে। অনেকে অসহায় ভাবে জীবনযাপন করছেন। এ পরিস্থিতিতে ঈদের প্রকৃত আনন্দ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। সবাই এখন করোনা থেকে মুক্তির অপেক্ষায়।