পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক ; নীলফামারীর জলঢাকায় চলতি বছর পাট চাষের বাম্পার ফলনের আশা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং গত কয়েক বছর ধরে ভালো দাম পাওয়ায় পাট চাষে ঝুঁকছেন এখানকার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও চাষ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে।

এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। আকস্মিক কোন দুর্যোগ না হলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ।

কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল গ্রামের কৃষক মো. সুবান বলেন, প্রতি একর জমিতে পাট চাষে শ্রমিক ও চাষ বাবদ খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আর বীজ, রাসায়নিক সার ও সেচ বাবদ খরচ হয় আরও ১৮ হাজার টাকা। এতে করে প্রতি একরে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে একর প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ মণ পাট পাওয়া যায়। গড়ে প্রতিমণ পাট আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা করে হলে দাম পাওয়া যাবে প্রায় এক লাখ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকার মতো।

তিনি বলেন, পাট ঘরে তোলা, বাছাই ও বাজারজাতকরণে আরও প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ বাদ দিলেও লাভ থাকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। তবে এই দামে পাট বিক্রি করতে হলে মৌসুমের শুরুতেই নয়, একটু অপেক্ষা করতে হয়।

উপজেলার ডাউয়াবারী গ্রামের কৃষক আলম জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় দিন দিন পাট চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে। এ বছর পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

বালাগ্রামের কৃষক মো. মফিজুর ও জোমাদ্দার জানান, গতবার পাটের ভাল দাম পেয়েছেন। তাই অধিক লাভের আশায় এবারও তারা পাট চাষের প্রতি ঝুঁকছেন। তাছাড়া এবার আবহাওয়া ভালো রয়েছে। প্রাকৃতিক কোনও দুর্যোগ না হলে এবার পাটের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যায়। সেচ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও কীটনাশক দিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়।

ইউনিয়নভিত্তিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে লোহাগড়ার কৃষকদের কাছে পাট প্রধান অর্থকরী ফসল। তাই দিন দিন তারা এর আবাদে ঝুঁকছেন। কৃষকরা যেন কোনও ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হয় সে জন্য কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, পাটের ভালো ফলন হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এটি বজায় থাকলে পাটের বাম্পার ফলন হবে।