কাদের মির্জা ও বাদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

সময় সংবাদ ডেস্কঃনোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পৃথক সংবাদ সম্মেলন থেকে পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী সোমবার বসুরহাটে মানববন্ধন কর্মসূচি আবদুল কাদের মির্জা। একই দিন বসুরহাটে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি দিয়েছেন মিজানুর রহমান বাদল।

শনিবার সকাল ১১ টায় বসুরহাট রূপালী চত্ত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করেন, শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনের সহযোগীতায় মিজানুর রহমান বাদলের লোকজন সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তার অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থককে আহত করেছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আগামী সোমবার সকালে বসুরহাটে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন আবদুল কাদের মির্জা। এ মানববন্ধন আওয়ামী লীগের ডাকে নয় উল্লেখ করে সকল দল, সমাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের লোকজনকে এতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটা আওয়ামী লীগের ডাকে না, এটা হলো আবদুল কাদের মির্জার ডাকে। সব ব্যবসায়ী, সব পেশাজীবী, সব সাংস্কৃতিক সংগঠন, সকল দল যারা যদি ভালো মনে করেন আপনারা আসতে পারেন আপনাদের স্ব স্ব ব্যানারে।’

সংবাদ সম্মেলনে আগের মতো আবদুল কাদের মির্জার সাথে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কাউকে দেখা যায়নি।

অপরদিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় কোম্পানীগঞ্জের পেশকার হাটে সংবাদ সম্মেলন থেকে মিজানুর রহমান বাদল অভিযোগ করেন আবদুল কাদের মির্জা গত দুই মাস থেকে কোম্পানীগঞ্জকে জিম্মি করে রেখেছে। শুক্রবার মির্জার লোকজন তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক কর্মী সমর্থককে আহত করেছে।

বদাল বলেন, ‘সত্যবচন নামধারী এই কাদের মির্জা প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে আসছেন। তিনি নিজে অপরাজনীতির আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা, অনিয়মতান্ত্রিক অগণতান্ত্রিকভাবে কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। ঠিক একইভাবে কোম্পানীগঞ্জের সকল দপ্তরে টেন্ডারবাজি করে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জের এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে তার চাঁদাবাজিতে হাত পড়েনি। তার সন্ত্রাসের শিকার হয়ে অসংখ্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জীবন দিতে হয়েছে এবং ছাড়তে হয়েছে ঘরবাড়ি।’

শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের সম্পর্কে আবদুল কাদের মির্জা একের পর এক কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে নেতাকর্মীদের অনুভূতিতে আঘাত করছে অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বাদল। সংবাদ সম্মেলনে মির্জার অপরাজনীতির বিরুদ্ধে আগামী সোমবার সকালে বসুরহাটে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন বাদল। এ সময় আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হরতাল শিথিল, আইন শৃঙ্খালা বাহিনীর কঠোর অবস্থান-

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী হরতালের সমর্থনে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেন। মিছিলটি বসুরহাট রূপালী চত্বর থেকে থানার দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় থানার সামনে অবস্থানকারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাক বিতন্ডা হয় কাদের মির্জার। এক পর্যায়ে কাদের মির্জা মিছিল নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পেছন থেকে পুলিশ ধাওয়া দেয় এবং লাঠিচার্জ করে। এ সময় মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে গেলেও কাদের মির্জা সড়কের ওপর প্রায় আধাঘণ্টা বসে থাকেন। পরে দলীয় নেতাকর্মী ও পরিবারের লোকজন তাঁকে সেখান থেকে পৌরসভা কার্যালয়ে নিয়ে যান।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, সকালে কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে থানার দিকে হামলা করতে আসেন। এ সময় থানার সামনে অবস্থাকারী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে কাদের মির্জা অশালীন মন্তব্য ও মারমুখী আচরণ করেন। এক পর্যায়ে কাদের মির্জা তার সমর্থকদের নিয়ে থানার ভেতরে ঢুকেতে চাইলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় কাদের মির্জা থানার সামনে সড়কের ওপর প্রায় আধা ঘণ্টা বসে থাকেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে বসুরহাট পৌরসভা হলরুম থেকে নিজের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার ৬টা থেকে পূর্ণ দিবস কোম্পানীগঞ্জে হরতাল সফল কার ডাক দেন আবদুল কাদের মির্জা। পরে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ডিগ্রি ২য় বর্ষের পরীক্ষার জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত হরতাল চলবে বলে ঘোষণা দেন মির্জা।