বোয়ালমারীতে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জলাভূমি বেদখলের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২১

ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্র চৌরাস্তা সংলগ্ন কয়েক শতাংশ সরকারি জলাভূমি কৌশলে দখল করে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কয়েক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্তৃত্বাধীন ওই জলাশয়ের পেছনে কারো কারো দেড়/দুই শতাংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা রয়েছে।

তারা নিজেদের জায়গায় যাওয়ার অজুহাতে যার যার সামনের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ৪/৫ শতাংশ করে জলাভূমি দখল করে মাটি ও বালু দিয়ে ভরাট করে রাস্তা তৈরি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কেউ কেউ মার্কেট বানানোরও পাঁয়তারা করছে।

জানা যায়, মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জলভূমির পশ্চিম সীমানায় পৌরসভার শিবপুর মৌজার ৫৯১ নং দাগে মো. রিজাউল হক, মো. রেজাউল করিম, মো. আমীর হোসেন ও মো. জামির হোসেনের ব্যক্তিমালিকানাধীন ৮ শতাংশ জলাজমি রয়েছে। এই জমি লাগোয়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তিন কোটি টাকার অধিক মূল্যের আরো প্রায় ২৫/৩০ শতাংশ জলাভূমি বেশ কিছুদিন ধরে রাতের আঁধারে ভরাট করছে ওই ব্যক্তিরা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সরকারি জলাভূমি দখলকারী মো. আমীর হোসেন বলেন, সড়ক ঘেঁষা আমাদের বেশ কয়েকজনের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। মুলত জমির সামনের জমি আরও অনেকেই ভরাট করছে। তবে সরকারি জমিতে আমি কোন স্থাপনা নির্মাণ করছি না। শুধু নিজের জমির সামনে ভরাট করছি।

ফরিদপুরের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. ম. রকিবুল বারী বলেন, আমি এসও সাহেবকে পাঠাচ্ছি। তাদেরকে নোটিশ দিয়ে মাটি দিয়ে জলাশয় ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যেই সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণ করে দিতে। তারা সীমানা নির্ধারণ করে দিলেই সকল ধরনের দখল উচ্ছেদে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে আল-নূর চক্ষু হাসপাতাল নামে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতালের মালিকও তার মালিকানাধীন জায়গার সামনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বেশ কয়েক শতাংশ জলাভূমি দখলের পর ভরাট করে ব্যক্তিগত রাস্তা তৈরি করেন।