অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণে বেড়েছে দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক ; পাবনার চাটমোহর স্টার মোড়েই সুখ্যাতি রয়েছে শুকচাঁদের চায়ের দোকানের। উপজেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই চায়ের দোকানেই চান পান করতে আসেন। কেউবা গুগলের চায়ের স্টল নামেও চেনেন।
বুধবার সকালে ওই দোকানে চাপান করতে গিয়েই আলাপ হয় বেশ কয়েকজন সচেতন নাগরিকের সঙ্গে। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে এই উপজেলায় জনগণের কল্যাণে অপরিকল্পিত ব্যয়ের গল্প। যা জনকল্যাণ নয়, জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

তাদের ভাষ্যানুযায়ী নানা জনকল্যাণের কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টি উঠে আসে। যোগাযোগের রাস্তা নেই, অথচ নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিজ। যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানেও ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। কোনো জায়গায় ব্রিজ নির্মাণ করলেও নেই সংযোগ সড়ক। ব্রিজের সঙ্গে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয় মানুষকে। এমন নানা অসংগতি, অপ্রয়োজনীয় আর অপরিকল্পিত ব্রিজের দেখা মিলল পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। যে ব্রিজগুলো উপকারের পরিবর্তে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এলাকাবাসীর। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, এসব ব্রিজ নির্মাণের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা মেলে চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারপাড়া গ্রামের খলিশাগাড়ি বিল। গ্রাম থেকে এ বিলে যাতায়াতের রাস্তা নেই বললেই চলে। অথচ বিলের শেষ মাথায় কোনো প্রয়োজন না থাকলেও নির্মাণ করা হয়েছে একটি ব্রিজ। ব্রিজের উত্তরপাশে নেই যাওয়ার কোনো রাস্তা বা কোনো গ্রাম। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে অপ্রয়োজনীয় এই ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আলাপকালে তারা অভিযোগের সুরেই বলেন, গ্রামে ও বিলে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন রাস্তার। কিন্তু সেই রাস্তা না করে, ব্রিজ করে। ব্রিজটি মানুষের কোনো উপকারেই আসছে না।

এসব ব্রিজ উপকারের পরিবর্তে উল্টো দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এলাকাবাসীর। অভিযোগ, এসব ব্রিজের নির্মাণকাজও করা হয়েছে নিম্নমানের।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামীম এহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সৈকত ইসলাম জানান, অপ্রয়োজনীয় ব্রিজের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব ব্রিজের রাস্তা নেই সেগুলো রাস্তা করে না দেওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারের বিল দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন ইউএনও।