ধর্ষণ মামলায় দেশে প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

অনলাইন ডেস্ক : টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে অপহরণের পর মাদ্রাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সাগর চন্দ্র, সুজন মনি রিশি, রাজন, সঞ্জীত ও গোপী চন্দ্র শীল। এদের মধ্যে সঞ্জীত ও গোপী চন্দ্র কারাগারে থাকলেও বাকিরা জামিনে বের হয়ে আত্মগোপন করেছেন।

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডাদেশ সংক্রান্ত অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর ধর্ষণ মামলায় দেশে এটাই কোন মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলেন আদালত। এ তথ্য জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌশুলী (পিপি) এ কে এম নাছিমুল আক্তার জানান, ২০১২ সালে সাগর শীলের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভুঞাপুরের এক মাদ্রাসাছাত্রীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই বছরের ১৫ জানুয়ারী সাগর ভুঞাপুর এসে ওই ছাত্রীকে কৌশলে মধুপুরে নিয়ে যান।

মধুপুরের চারালজানি গ্রামে রাজনদের বাড়িতে নিয়ে মেয়েটিকে বিয়ে করতে চান সাগর। কিন্তু বিয়েতে রাজি না হওয়ায় সাগর তাকে ধর্ষণ করেন। পরে সেখানে মেয়েটিকে আটকে রাখা হয়। ১৭ জানুয়ারী রাতে মধুপুরে বংশাই নদীর তীরে নিয়ে মেয়েটিকে সাগরসহ পাঁচজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যান। পর দিন সকালে স্থানীয়রা মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে তার অভিভাবকরা এসে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়।

ওইদিনই (১৮ জানুয়ারি) ওই ছাত্রী নিজে বাদি হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে ভূঞাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দিনই পুলিশ আসামি সুজনকে গ্রেফতার করে। সুজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে অন্য আসামিরাও গ্রেফতার হন।

তদন্ত শেষে ভুঞাপুর থানার পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় বৃহস্পতিবার এ রায় দেন আদালত।