ঢেকে দেওয়া হচ্ছে কুয়াকাটা সৈকতের সাবমেরিন ক্যাবল

প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

অনলাইন ডেস্ক : কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বালুর নিচ থেকে অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে এবং ঢেউয়ের ধাক্কায় বেরিয়ে আসা দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের আরটিকুলেটেড পাইপ (এপি) বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে শুক্রবার বেলা আড়াইটা থেকে ঢেকে দেওয়ার কাজ শুরু হয়।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে সৈকতের জিরো পয়েন্টের সংলগ্ন এ আরটিকুলেটেড পাইপটি বালুর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড’র (বিসিপিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম জানান, ২৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল লাইন সমুদ্র থেকে এসে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরে কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা গ্রামে স্থাপিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনে সংযোগ স্থপন করা হয়।

শুক্রবার বেলা আড়াইটা থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই আর্টিকুলেটেট পাইপ (এপি) ঢেকে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়। রাতে জোয়ার আসার আগেই পুরোপুরি পাইপ ঢেকে দেওয়ার জন্য ১০ জন কাজ করেন কিন্তু অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির কারণে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বর্তমানে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিকিউরিটি গার্ড নিযুক্ত করা হয়েছে। কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশকে এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুই দফায় সাগরের প্রবল জোয়ারের চাপে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে অন্তত ২৫ ফুট সাবমেরিন কেবল লাইনের পাইপ বের হয়ে যায়। যে পাইপটি বের হয়েছে, তা প্রায় চার ইঞ্চি পুরু। আর্টিকুলেটেট পাইপের নিচে জিও ব্যাগে বালু ভরে তার ওপর প্রায় সাড়ে তিন মিটার সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রন দিয়ে সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেয়া হবে। এমনভাবে পাইপটি ঢেকে দেওয়া হবে যাতে জোয়ারের চাপে আর পাইপটি বের না হয়।

তিনি আরও বলেন, এসমস্যার কারণে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হবে না। ইন্টারনেটের গতি কমে যায়নি বা যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

উল্লেখ্য ৯ আগস্ট আলীপুরের এক জমির মালিক স্কাবেটর দিয়ে বালু তুলতে গিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের (এসইএ-এমই-ডব্লিউ-৫) পাওয়ার সাপ্লাই অপটিক্যাল ফাইবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। এর ফলে সারা দেশের গ্রাহকরা ইন্টারনেট ব্যবহারে ধীর গতির সমস্যায় পড়েন। পরে ক্যাবলের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত রাখা হয়।