মানবতার কল্যাণে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান

প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাস ছড়ানোর ধরন দেখে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতারা আশঙ্কা করছেন, দেশে এর সংক্রমণের মাত্রা আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আতঙ্কিত বা ভীত না হয়ে মানবতার কল্যাণে স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের নিয়োজিত হতে হবে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে বিএমএ ভবনের শহীদ শামসুল আলম খান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ ও স্বাচিপের পক্ষ থেকে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও আগামী দিনের করণীয় শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

তিনি বলেন, ইতালি-যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর সব দেশ রোগটি নিয়ন্ত্রণে বেসামাল অবস্থায় রয়েছে। এ ধরনের মহামারির সময় দেশের সব গণমাধ্যম, সাধারণ জনগণ, রাজনৈতিক শক্তি, প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মীদের এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির ধরণ অনুযায়ী এটা অনুমান করা যেতে পারে যে, এই রোগটি যেকোনো সময় আমাদের দেশে সংক্রমণের মাত্রা অনেক বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আতঙ্কিত ও ভীত না হয়ে সারাদেশের নাগরিকদের অনুরোধ করবো আপনারা শান্ত থাকুন। অযথা যত্রতত্র ঘোরাফেরা করবেন না, বিয়ে-বাড়ি, ধর্মীয় সমাবেশসহ জনসমাবেশ এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা ভীত না হয়ে মানবতার কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে।

‘জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হবেন না। ধর্মীয় প্রয়োজনে যতটুকু দরকার সেই পর্যন্ত সাবধানে যাতায়াত করবেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিদেশ থেকে আসা আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ম মেনে ১৪ দিন বাড়িতে থাকতে উৎসাহ যোগান এবং বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তির সান্নিধ্যে যারা আসবেন তারাও যেন ১৪ দিন নিজগৃহে একান্তে অবস্থান করেন। প্রয়োজনে আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম কিংবা নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।’

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। এতে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৪ হাজার ৬৯৮ জন। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৯৯ হাজার ১৩ জন।

বাংলাদেশে এ ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সবশেষ সরকারি হিসাবে, দেশে এখন পর্যন্ত ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন দুজন।

করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।