| | মঙ্গলবার, ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ই সফর, ১৪৪১ হিজরী |

চট্টগ্রাম হাসপাতালে ছাঁটাইয়ের পর স্বস্তি রোগী-স্বজনদের

প্রকাশিতঃ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ | মার্চ ১০, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের স্পেশাল আয়া ও ওয়ার্ডবয়দের ছাঁটাইয়ের পর তাদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি মিলেছে রোগী ও স্বজনদের। স্বাস্থ্যসেবা পেতে আগে যে হয়রানি পোহাতে হতো, তা থেকে এখন অনেকটাই পরিত্রাণ পাচ্ছেন রোগীরা। একইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও দুর্নাম ঘুচানোর সুযোগ পেয়ে রয়েছেন স্বস্তিতে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জোর দিয়েই বলেছেন, ছাঁটাই আওতায় থাকা লোকদের কোনমতেই আর হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

স্পেশাল আয়া ও ওয়ার্ডবয়দের স্থলে আগেই সরকারি ও বেসরকারি (চুক্তিভিত্তিক) ২০৭ জন আয়া ও ওয়ার্ডবয়কে নিযুক্ত করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের সেবায় কিছুটা ধীরগতি হলেও সেবার মান আরও বাড়াতে প্রয়োজনে আরও জনবল নিয়োগ দেয়ার কথা জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আগামী দু’একদিনের মধ্যে আরও এক’শ জনের জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর চিঠি পাঠানো কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলাম।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিত্র ছিল আগের মতোই। যেখানে আগের যেকোন সময় রোগী আসার আগেই আয়া ও বয়দের প্রস্তুতি থাকলেও গতকাল ছিল ভিন্ন। সেখানে রোগীদের তুলনায় আয়া ও ওয়ার্ডবয় কম থাকায় রোগীর স্বজনরাই রোগীকে স্ট্রেচার (ট্রলি) বা হুইল চেয়ারে করে চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যায়। এতে করে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা পেতে কিছুটা ব্যাঘাত হলেও হয়রানি বন্ধ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

কয়েকজন রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, আগের মতো লোক না থাকলেও যে ধরনের হয়রানি হতাম, তা থেকে অন্তত বাঁচা যাচ্ছে। তাদের বিভিন্ন সময়ের অনৈতিক কাজের চেয়ে নিজেরা নিজেদের কাজ করতে সমস্য নেই। তবুও তাদের হয়রানি বন্ধ থাকুক।

এদিকে, আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার জন্য গতকালও হাসপাতালে এসে অবস্থান করেন ছাঁটাই হওয়া প্রায় অর্ধশত অবৈতনিক বা স্পেশাল আয়া ও ওয়ার্ডবয়। সুফিয়া বেগম নামে এক আয়া বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালে ছিলাম। এখন হঠাৎ করে কোন কারণ ছাড়া আমাদের বের করে দিয়েছে। এখন আমরা পরিবার নিয়ে কি করবো।

এসব অবৈতনিক বা স্পেশাল আয়া ও ওয়ার্ডবয়দের কোন মতেই রাখা সম্ভব নয় জানিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ বলেন, তারা কোন নিয়োগকৃত নয় যে, চাইলে তাদের আমি রাখতে পারবো। তাদের এখানে থাকারও কোন অধিকার নেই। তাদের দ্বারা হাসপাতালে বিভিন্ন সমস্য সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালে কোন অনির্ধারিত লোক রাখা না রাখার বিষয়ে আমার কোন ক্ষমতা নেই। কারণ এদের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কোন অনুমতি নেই। আর সরকার আমাদের একটা বাজেট দিয়েছে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নেয়ার জন্য। আমরা সেই নিয়ম অনুযায়ী ইতিমধ্যে জনবল নিয়োগ দিয়েছি।

যদি প্রয়োজন হয় আরও জনবল নিব। তবুও তাদের রাখা সম্ভব নয়। কেননা তাদের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের হয়রানিসহ নানান অভিযোগ ছিল। তাদের জন্যতো আর আমি হাসপাতালের দুর্নাম হতে দিতে পারি না। তবে সরকার যদি চিন্তা করে, তাহলে ভবিষতে ভিন্নভাবে চিন্তা করা যেতে পারে।

এদিকে, হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী কম থাকায় সেবা কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এর মধ্যে রোগীদের তুলনায় আয়া-ওয়ার্ডবয় কম থাকায় এ সমস্যা আরও বেড়েছে। তবে শীঘ্রই এসকল সমস্যা দূর করার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে আরও এক’শ জন নতুন কর্মচারীর নিযুক্ত করতে আগামী দু-একদিনের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এখন কয়েকটি জায়গায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে। এর মধ্যে সেবার মান শতভাগ নিশ্চিত করতে আরও এক’শ জনবল চেয়ে অধিদপ্তর বরাবর চিঠি পাঠানো হবে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে চিঠিটি পাঠানোর কথা রয়েছে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares