| | বুধবার, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

পটিয়ায় যানজট ও ধুলাবালিতে জন দুর্ভোগ চরমে ১৮ মাসের কাজ শেষ হয়নি আড়াই বছরেও

প্রকাশিতঃ ৯:২৬ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসদরে নিত্য যানজট ধুলাবালি ও শব্দ দূষণ এই ৩ যন্ত্রণা নিয়ে নিদারুন চরম দুর্ভোগের শিকার পটিয়া পৌরবাসী। মহাসড়কের পাশে পৌর ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ মাসের মধ্যে ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ করার সিডিউল থাকলেও কাজ শেষ হয়নি আড়াই বছরেও। ধীরগতিতে নির্মাণ কাজ করার কারণে লোকজনের দুর্ভোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও ড্রেণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে পটিয়া পৌরসভার ছবুর রোড, তালতলা চৌকি, ওয়াপদা রোড, রামকৃষ্ণ মিশন রোড, মক্কাভিলা এলাকায় রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা।

এসব এলাকার দোকানদার ও ব্যবসায়ীগণ তাদের ব্যবসা বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবে চালাতে পারছে না। গেল বর্ষা মৌসুমে লোকজন সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। আগামী বর্ষায়ও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে পটিয়া পৌরবাসী।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মিউনিসিপ্যাল গভর্ন্যান্স এন্ড সার্ভিস প্রজেক্ট (এমজিএসপি) প্রকল্পের আওতায় পটিয়া পৌরসভায় মহাসড়কের পার্শ্বে মাজার গেইট থেকে কালীবাড়ি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার ড্রেন, ফুটপাত, স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য সরকার ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নেজাম আলী চৌধুরী (জে.বি) কনষ্ট্রাকশন কার্যাদেশ পেয়ে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে কাজ শুরু করে। একই সনে উক্ত প্রকল্পের অধীন পটিয়া থানার মোড় থেকে তালতলা চৌকি ও তালতলা চৌকি থেকে মমতা আবাসিক পর্যন্ত ১ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের জন্য আরো ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।

একস্থান থেকে কাজ শুরু ও শেষ না করে বিভিন্নস্থানে নালা খনন করার দরুন পৌরসদরের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো কার্যত অচল হয়ে যায়। ফলে সড়কের যানজট ছাড়াও বর্ষার সময় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে লোকজনের চলাফেরা কষ্টকর হয়ে উঠে। এর মধ্যে পটিয়া মাজার গেইট থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত ড্রেনের আর.সি.সি ঢালাই এর কাজ শেষ হলেও ড্রেনের পাশে মাটি, বালি, লোহার রড়সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জমাট করে রাখার দরুণ সড়কে ঠিকমতো যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। বৃষ্টি হলে কাদা এবং রোদ থাকলে ধুলাবালি সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পথচারীদের মাক্স পরে চলাচল করতে দেখা যায়। এর মধ্যে থানার মোড় থেকে পটিয়া কলেজ গেইট পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের কাজ গত ১ বছরেও শেষ করতে পারেনি।

সেইখানে নালা খননের মালামাল রাস্তার উপর যত্র-তত্র ফেলে রাখায় যানজট লেগে আছে। গত ৬ মাসে এই নালায় পড়ে গিয়ে শিশুসহ ১০/১২ জন লোক আহত হয়েছেন। এছাড়াও সড়ক পারাপারে সর্বশ্রেণীর লোকজন বিতৃষ্ণা হয়ে পড়েছে। পটিয়া বাসস্টেশন থেকে পোস্ট অফিস পর্যন্ত যানজটের কারণে কক্সবাজারগামী যানবাহন দীর্ঘক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে। পর্যটকবাহী গাড়িতে থাকা মাইকের আওয়াজে লোকজনের মধ্যে শব্দ দুষণ হয়। সড়ক জুড়ে ধুলাবালি কিংবা কাদায় জনসাধারণ ছাড়াও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থা করুণ।

এ ব্যাপারে পটিয়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, এ ড্রেন নির্মান কাজে প্রশাসনিক ভাবে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। পটিয়া থানার পাশে ড্রেনের জায়গা ছেড়ে না দেওয়ায় র্দীঘদিন ধরে কোয়াটার কিলোমিটার কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। ড্রেনের কাজ ৭০ভাগ শেষ হলেও মহাসড়কের ড্রেনের দুইপাশে বালি আর মাটি সড়িয়ে সড়কের কাজ করার জন্য সওজ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে ৬মাস পূর্বে। কিন্তু তারা এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এছাড়া মহাসড়ক ও বিল্ডিং রক্ষা করে কাজ করতে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এগিকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় পটিয়া পৌরবাসীকে যানঝট, ধুলোবালি অতিক্রম করে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। এব্যাপার পটিয়ার আপামর জনসাধারণ দ্রুত ড্রেন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে মানুষের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানান।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares