| | রবিবার, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

কোন মেয়ে নিজের ইচ্ছায় নিশিকণ্যা হয় না!

প্রকাশিতঃ ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০৫, ২০১৭

জাহিদুল ইসলাম জীবন : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক বইয়ে লিখেছেন- ‘এক মেয়ে তার দেহের বিনিময়ে ভালবাসা চাইবে না টাকা নিবে তা একান্তই তার সিদ্ধান্ত’।

রাত ১১ টার পর থেকে ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিশিকন্যা’রা জমায়েত হয়। ইচ্ছা করেই নিশিকন্যা বললাম- বেশ্যা বা পতিতা বলতে ইচ্ছা করে না। কারন তারা এ সমাজের মেয়ে? এদের কিছু সংখ্যক পুরুষ বেশ্যা বা পতিতা, নিশিকন্যা বানিয়েছেন। এদের সাথে থাকার জন্য ১০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা খরচ হয়। আমি মনে করি প্রতিটা নিশি কন্যার একটা চোখের আলাদা ভাষা আছে। তারা তো আর চিৎকার করে ডাকবে না- আজ রাতের জন্য আমাকে নাও, আমি অনেক আদর করে দিবো, তার জন্য আমাকে কিছু টাকা দিলেই হবে?
মজার ব্যাপার হলো- এই নিশি কন্যারা সমস্ত পুরুষের চোখের ভাষা এক নিমিশেষই বুঝে ফেলে। ‘বড় হয়ে আমি একজন পতিতা হব’- এই বাসনা কি একজন মেয়ের কি কখনো ছিল? হয়ত তা কখনো না?
এক নিশিকন্যা’র সাথে কথা হলে, তিনি কান্না করে বলেন আমরা নিশিকন্যাদের কেউ চাকরী দেয় না। অন্য কোনো উপায় না থাকায় তারা এই পথ বেছে নেয়। আমাদেরও এই কষ্টের টাকার ভাগ-বেশ কয়েকজনকে দিতে হয়। আমাদের সমাজ যাদেরকে পতিতা বলে। রবীন্দ্রনাথ তাদেরকে বারবনিতা বলেছেন,যাতে কথাটা শ্রুতি কটূক না লাগে। যারা নাইট ক্লাবে নেচে অর্থ উপার্যন করে তাদেরকে নর্তকি বা বাইজি বলা হয়ে থাকে।
অনেকে এই সব মেয়েদের খারাপ মেয়ে বলে থাকেন। আচ্ছা, এই মেয়ে গুলো যদি খারাপ হয়- তাহলে যে সমস্ত পুরুষ- তাদের কাছে যায় তারা কি ? রাতের আঁধার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ময়মনসিংহ শহরের লালবাতির নিচে শুরু হয় এক অন্যরকম জীবন। এ যেন নগর জীবনের এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য। রাত যত গভীর হয় ব্যস্ত ময়মনসিংহের কোলাহল থেমে নীরবতা বাড়তে থাকে। সভ্য মানুষের শহরকে গ্রাস করে নেয় নগ্নতা।
ময়মনসিংহ ১২-১৮ বছর বয়সী প্রচুর কিশোরী মেয়ে ভাসমান নিশিকন্যা। ময়মনসিংহ বিশেষ কিছু স্পট যেমন- মাসকান্দা, ত্রিশাল বাসস্ট্রেন্ট, চরপাড়া, পার্ক প্রভৃতি স্থানে ওদের বিচরণ। এছাড়াও বিভিন্ন সিনেমা হল, ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন, বাস টার্মিনাল ওদের সবার উপস্থিতি দৃশ্যমান।
একজন কিশোরী নিশিকন্যা প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ জনের সঙ্গে মিলিত হয়। ময়ময়সিংহে প্রায় ৫০-৮০ জন বেশি কিশোরী নিশিকন্যা রয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে কিশোরী নিশিকন্যাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য তেমন কোন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেই। ময়মনসিংহ লালবাতির নিচে অপেক্ষমাণ এ কিশোরীদের অধিকার নিয়ে কারও যেন ভাবার সময় নেই।

পতিতা অর্থাৎ বেশ্যারা। এরা হলো সেই সম্পদায়ভুক্ত নারী যারা পুরুষকে যৌন সুখ ভোগ করতে নিজেদের দেহ দিয়ে নিজেদের জীবিকা অর্জন করে। অবশ্য তারা যে কোনও পুরুষকে দেহ দানের বিনিময়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জন করে, তা নয়। তারাও মানুষ- তাদেরও মন আছে, অভিরুচি আছে, ভাল-মন্দ বিবেচনা শক্তি আছে। তাই তাদের বিষয়ে অনেক কিছু সাধারণ মানুষের শিক্ষা নেওয়া উচিত।

অনেক সময় যাদের সঙ্গে যৌন মিলন করবে নিশিকন্যারা, তাদের ভাল লাগতে হবে পুরুষদের। যদি পুরুষদের ভাল না লাগে, পুরুষরা তাদের যত টাকা পয়সা দেয়না কেন, তবু তারা সেই লোককে ফেরৎ দেয়। কারণ সেই নারী তাকে পছন্দ করে না। যৌন মিলনে কিছুটা মনের মিলন প্রয়োজন হয়। এসব নিশিকন্যারা প্রয়োজনমত নিজেকে সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও অলঙ্কারে ভূষিতা রাখে। যেন এক প্রকার পণ্য দ্রব্য। তাই তার বাড়ি এমন থাকবে যেন বাইরের লোক তাকে দেখতে পায় এবং সেও বাইরের লোককে দেখতে পায়। তার আরও জানা উচিত, সৌন্দর্য্য দিয়ে পুরুষকে জয় করতে পারলে তবে তার অর্থ মিলবে বোনাসসহ। বেশ্যাদের আবার ঘটক বা দূত থাকে। তারা অন্য লোককে তার গুণ পণ্য বলে তাকে আকর্ষন করে নিয়ে আসে।
গ্রার্মেন্টস কর্মী,  গ্রামের সহজ সরল মেয়ে, দরিদ্র ও অর্থ লোভী মেয়েদের টার্গেট করে দালালদের মাধ্যমে প্রতারণা করে তাদেরকে নিয়ে দেহব্যবসা চালানো হয়। নারী পতিতা হয় কেন? অর্থাভাবে বা দারিদ্র্যতাবশতঃ অনেক সময়ে মেয়েরা পতিতা বৃত্তি গ্রহণ করে। সংসারের অনাদর বা অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নিশিকন্যা বৃত্তি গ্রহণ করে। স্বামীর অনাদর অত্যাচারও এ পথে যাবার মস্তবড় একটি কারণ। অতিরিক্ত বিলাসের প্রতি আকর্ষণ।

খদ্দের ধরার জন্য এসব পতিতারা প্রাণপণ চেষ্টা চালায় নানাভাবে। খদ্দেরদের আকৃষ্ট করতে যৌন কর্মীরা তাদের দৈহিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে গরু মোটা তাজাকরণ ওষুধ খেয়ে। দালালেরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসব মেয়েদের ধরে এনে যৌন পল্লীর সরদার্নীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেখানেই তাদেরকে অনাবিক নির্যাতন সহ করতে হয়। এমনকি দিনের পর দিন তাদের খাবার না দিয়ে থাকে। এভাবে এক সময় তাদেও সাটিফিকেট  লাগানো হয় যৌনকর্মে। পতিতা পল্লীর মালিক, সর্দারণী এবং দালালরা তার কোন তোয়াক্কা করছে না।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares