| | সোমবার, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর

প্রকাশিতঃ ৯:৩০ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২২, ২০১৮

মুসলিম জাহানের জন্য খুশির বাতার্ নিয়ে বছর ঘুরে আবারও ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলমান সম্প্রদায়ের বড় দুটি উৎসবের একটি ‘ঈদুল আজহা’। এটি এমন একটি উজ্জ্বল দিন যা ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর। প্রতি বছর এ উৎসবটি শান্তি, সৌহাদর্্য আর আনন্দের বাতার্ নিয়ে হাজির হয়। যার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো স্রষ্টার উদ্দেশে নিজেকে উৎসগর্ করা। ইসলামী শাস্ত্রে বলা হয়েছে, নবী হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আনুগত্য পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আল্লাহতায়ালা তাকে নিদের্শ দিয়েছিলেন সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি দিতে। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সবচেয়ে প্রিয়। স্নেহ-মমতায় ভরা জগৎ-সংসারে পিতার পক্ষে আপন পুত্রকে কোরবানি দেয়া ছিল অসম্ভব এক অগ্নিপরীক্ষা। কিন্তু আল্লাহর নিদেের্শ হজরত ইব্রাহিম (আ.) বিনা দ্বিধায় আপন পুত্রকে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়ে আল্লাহতায়ালার পরীক্ষায় উত্তীণর্ হন। এ প্রতীকী ঘটনার অন্তনিির্হত বাণী স্রষ্টার প্রতি পরিপূণর্ আনুগত্য ও ত্যাগ স্বীকার। হজরত ইব্রাহিম (আ.) যে উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন তাকে মযার্দা দিয়ে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় প্রতি বছর ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছে।

কোরবানির অথর্ হচ্ছে উৎসগর্ করা। আর পশু কোরবানি হচ্ছে তার মাধ্যম। ত্যাগের মহিমার প্রতীকী আচার এই কোরবানি। যে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণ মূতর্ হয় মানুষের জীবনে, সেই সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জন্য চরম ত্যাগ স্বীকারের প্রতীক কোরবানি। ঈদুল আজহার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিজের অহমিকা ও উচ্চাভিলাষ বিতাড়িত করা। পশু কোরবানির ভেতর দিয়ে মানুষের ভেতরের পশুশক্তিÑ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা ইত্যাদি রিপুকেই কোরবানি দিতে হয়। মূলত মহান আল্লাহর প্রেমে সবোর্চ্চ ত্যাগই হচ্ছে ঈদুল আজহার শিক্ষা।

অনস্বীকাযর্ যে, কোরবানির ফজিলত অজর্ন করতে হলে প্রয়োজন সেই আবেগ, অনুভ‚তি, প্রেম, ভালোবাসা ও ঐকান্তিকতা নিয়ে আল্লাহর খলিল হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর পথ অনুসরণ করা। পশু কোরবানির মাধ্যমে কোরবানিদাতা কেবল একটি পশুর গলায় ছুরি চালান না, বরং তিনি যেন ছুরি চালান সব কুপ্রবৃত্তির গলায়। এটাই হলো কোরবানির মূল শিক্ষা। কিন্তু দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রেই ত্যাগের চেয়ে ভোগ-বিলাসের দিকটিই প্রধান হয়ে ওঠে। আমাদের দেশে অসংখ্য মানুষ আছে, যাদের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে। অনেকেরই দুই বেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না। সমাজের হতদরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর ভেতর দিয়ে আমরা আমাদের ঈদুল আজহাকে নতুন তাৎপযর্ এনে দিতে পারি। সাথর্ক করে তুলতে পারি ঈদের আনন্দ। বঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার ভেতর দিয়ে আমরা স্থাপন করতে পারি সহমমির্তার নতুন দৃষ্টান্ত।

অন্যদিকে এটাও ঠিক যে, পণ্যের অগ্নিমূল্য কিংবা সড়ক দুঘর্টনা, যাত্রা পথের ভোগান্তিসহ নানা সংকটের মধ্যে ঈদুল আজহা উদযাপন করতে হয় আমাদের। প্রতি বছর ঈদের সময় ঘরে ফেরা মানুষের অকল্পনীয় দুভোের্গ পড়তে হলেও তাতে আনন্দ কিছুতেই ভাটা পড়ে না। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পিছপা হয় না দেশের মানুষ। ইসলাম শান্তির ধমর্। এ ধমের্ বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলা হয়েছে। বাস্তবতা হলো, এখনো সেই কাক্সিক্ষত বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ধমীর্য় আদশের্ উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে সবার অনুপ্রাণিত হওয়া সঙ্গত।

সবোর্পরি বলতে চাই, ঈদুল আজহার আদশের্ উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মুসলমানদের ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে উঠতে হবে। পরিত্যাগ করতে হবে সব হিংসা-বিদ্বেষ। মনের পশুর কোরবানি দিতে হবে। বিশ্বের ইসলাম ধমার্বলম্বীদের জন্য ঈদুল আজহা বয়ে আনুক অপার আনন্দ আর উচ্ছ¡াসÑ এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি এটাও বলতে চাই যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যেমন সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, তেমনি দেশের স্বাথের্ ও মানুষের কল্যাণেও কাজ করে যেতে হবে। শুভ কাজের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares