| | সোমবার, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

কোটা সংস্কার আন্দোলন

প্রকাশিতঃ ২:২৪ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০৬, ২০১৮

রাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবস্থায় পরিচয় ও অবস্থানের নিরিখে নাগরিকদের জন্য কোটার ব্যবস্থা রাখা হয়। এর উদ্দেশ্য ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোত্র-লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার জন্য নূন্যতম রাষ্ট্রীয় সুযোগ নিশ্চিত করা। আধুনিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো যেখানে রয়েছে সেখানে কোটা কোথাও নাম ভিন্ন হতে পারে ব্যবস্থা রয়েছে।
অগ্রসর বা সংখ্যাগুরু কোনো পক্ষের জন্য কিঞ্চিৎ বঞ্চনামূলক হলেও সমাজের ও রাষ্ট্রের পিছিয়ে পড়া অংশের জন্য এ ব্যবস্থা কল্যাণজনক। এ কথাও মনে রাখা উচিত, কোটা পদ্ধতির অপপ্রয়োগও হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এর বহু নজির রয়েছে, রয়েছে অন্য দেশেও। তাই সময়ে সময়ে সংস্কার করে ব্যবস্থাটিকে সচল রাখা উচিত। কেননা সংস্কারহীনতা অচলায়তন সৃষ্টি করে। এতে নাগরিকের যত না লাভ তার চেয়ে অনেক বেশি লাভ স্বার্থান্বেষী মহলের।

স্বার্থান্বেষী মহলের লাভের কারবারের অনেক দৃষ্টান্ত এ দেশে রয়েছে। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহার তারা করেছে। সামরিক শাসনামলে এবং বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা পাননি, এ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। ভুয়া সনদ ব্যবহার করে প্রচুর অমুক্তিযোদ্ধাও এ সুবিধা নিয়েছেন বা তাঁদের দেয়া হয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বা তাঁদের উত্তরাধিকারীরা এখনো যে খুব সুবিধা পাচ্ছেন তা নয়।

আওয়ামী লীগ সরকার তাঁদের মর্যাদা রক্ষা ও ভাতাপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করেছে। এটি নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। তবে এখনো এ কোটার সুবিধা অনৈতিকভাবে কেউ নিচ্ছেন না তা নয়। বেশ বড় পদের আমলারা পদোন্নতির জন্য, সরকারের কৃপা পাওয়ার জন্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করেছেন_এ কথা গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য কোটার অপব্যবহারের চেষ্টাও করা হয়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে এবং কর্মসংস্থানের তাগিদে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন শুরু হয়। এ নিয়ে অপ্রীতিকর অনেক ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্যে-সস্নোগানে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টি বেশি উচ্চারিত হওয়ায় সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেকের কাছে ভিন্ন বার্তা পৌঁছেছে। অনেকে তা কাজে লাগানোর চেষ্টাও করেছে।

আন্দোলন যৌক্তিক হওয়ার পরও শুধু এ কারণে কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বা তাদের সঙ্গে ভিড়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। তাদের অপচেষ্টাকেই তুরুপের তাস বানানোর চেষ্টা করেছে সরকারি দলের সহযোগী কিছু সংগঠন। মন্ত্রী-এমপিরাও গলা চড়িয়েছেন, ষড়যন্ত্র খুঁজেছেন এবং খুঁজছেন। আর সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠন চড়াও হয়েছে আন্দোলনকারীদের ওপর। পুলিশও হামলা চালিয়েছে। এটা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।

প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কারের ঘোষণা বেশ আগেই দিয়েছেন; ছাত্রদের আশ্বস্ত করেছেন কিন্তু আমলাতন্ত্র তাঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সময়মতো পদক্ষেপ না নিয়ে। অবশেষে একটি কমিটি হয়েছে। তারা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক, সেটাই চাই। অন্তর্বর্তী সময়ে সরকার তার সমর্থক গোষ্ঠীকে দুর্বৃত্তপনা থেকে নিবৃত্ত করুক এটাও একান্তভাবে কাম্য।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares