| | সোমবার, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

মূল হোতাদের ধরতে হবে

প্রকাশিতঃ ৫:০৯ অপরাহ্ণ | মে ২৭, ২০১৮

মাদকের ভয়াবহ থাবা দেশের তরুণসমাজকে রীতিমতো পঙ্গু করে দিচ্ছে। শহরে তো বটেই, প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ংকর সব মাদকের নেশা। আর তার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে নানামাত্রিক অপরাধ কর্মকা-। ভেঙে পড়ছে সামাজিক শৃঙ্খলাও। এ অবস্থায় ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে যেমন অভিভাবকরা আতঙ্কিত, তেমনি নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়ায় সব মানুষই উদ্বিগ্ন। এমনই প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো দেশব্যাপী মাদকবিরোধী যে অভিযান শুরু করেছে, তাকে সবাই স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানের ধরন দেখে অনেকেই কিছুটা হতাশাও প্রকাশ করেছে। অভিযান নিয়ে কেউ কেউ নানা ধরনের প্রশ্নও তুলেছে।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। অর্ধশতাধিক মাদক বিক্রেতা বন্দুকযুদ্ধে মারাও গেছে। যতদূর জানা যায়, তারা প্রায় সবাই নিচের স্তরের মাদক কারবারি। এক সহযোগী পত্রিকার খবর থেকে জানা যায়, শুধু ঢাকায়ই শতাধিক বড় ডিলার বা কারবারি রয়েছে। এখন পর্যন্ত তেমন কারো গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দেশে বহুল আলোচিত অনেক মাদক কারবারি রয়েছে, যাদের নাম আমরা অতীতে পত্রপত্রিকায় দেখতে পেয়েছি, তারাও কেউ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। সংগত কারণেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছে, মূল হোতাদের না ধরে কিছু খুচরা বিক্রেতাকে শাস্তি দিলে দেশে মাদকের বিস্তার কমবে কি? অভিযান শেষ হলে মূল হোতারা আবার এই কারবারে নামবে এবং নতুন নতুন খুচরা বিক্রেতা বানিয়ে নেবে। বন্দুকযুদ্ধের যেসব ঘটনা ঘটছে, সেগুলো প্রকৃতই বন্দুকযুদ্ধ কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে অনেকে। অতীতে কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। অনেকে মনে করে, সেই পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযানের মুখে নিজেদের দোষ ঢাকতে এবং প্রমাণ গায়েব করতেই বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজাচ্ছেন। এটি সত্য, যারা এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত, তাদের অনেকের হাতে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। কোথাও কোথাও গোলাগুলির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বন্দুকযুদ্ধের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অনেক রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে অনেক ক্ষমতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদকের কারবারে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে পুলিশের অনেক বড় কর্তার বিরুদ্ধেও। তাঁদের ছত্রচ্ছায়ায়ই বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার পরিচালিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মত, মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রথমেই তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু কিছু খুচরা কারবারিকে শাস্তি দিয়ে এ অভিযান সফল করা যাবে না। পাশাপাশি যেসব রুট দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশ করে, সেই রুটগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মাদক ছাড়া আসামি গ্রেপ্তার করতে না পারা, দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়াসহ আইনের কিছু দুর্বলতার কথাও বারবার আলোচনায় এসেছে। সেভাবে আইন সংশোধন করতে হবে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে নানামুখী কর্মসূচি নিতে হবে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares