| | রবিবার, ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী |

চিতলমারীতে তথ্য আপা সেবা কার্যক্রমে সাফল্য

প্রকাশিতঃ ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৮, ২০১৯

বিভাষ দাস, চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : “শেখ হাসিনার সহায়তায়, তথ্য আপা পথ দেখায়” স্লোগানকে সামনে রেখে বাগেরহাটের চিতলমারীতে ‘তথ্য আপা’ সেবাটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঘরে বসে ডিজিটাল সেবা পাওয়ার এই সরকারী উদ্যোগ চিতলমারীর নারী সমাজ ব্যাপক আকারে গ্রহণ করছে। গ্রামীন নারীরা স্বাগত জানিয়েছে ঘরে বসেবিশে^র সংগে যোগাযোগের এই উদ্যোগকে। বিনা ব্যয়ে ডিজিটাল বিভিন্ন সেবা সমূহ গ্রহণ করতে পেরে তৃণমূল নারীরা সমাজ উন্নয়নে ব্যপক ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রীরা এখান থেকে বেশি সুবিধা গ্রহণ করছে।

‘তথ্য আপা’ ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত নারীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়নেরউদ্দেশ্যে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জাতীয় মহিলা সংস্থা। এ উপজেলায় গত ছয় মাসে অন্তত ৩৮০৮ জন নারী বিনা মূল্যে সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ডোর টু ডোর থেকে ২৮৫৬ জন,তথ্য কেন্দ্র থেকে ৪৫২ জন এবং উঠান বৈঠক থেকে ৫০০ জন মহিলা বিনা মূল্যে সেবা গ্রহণ করেছেন। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে সারা দেশে ৪৯০ টি উপজেলায় এক যোগে তথ্য কেন্দ্র চালু করা হয়।

চিতলমারী উপজেলা তথ্য কেন্দ্র কার্যালয়ে তথ্যসেবা কর্মকর্তা মোসা: মুর্শিদা আক্তার,দুই তথ্যসেবা সহকারী বিউটি পাইক ও মিতা রানী মন্ডল এবং অফিস সহায়ক মো: শহিদুল ইসলাম কর্মরত রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে চরবানিয়ারী ইউনিয়নের শেরে বাংলা ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী রাধীকা হালদার তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে সেবা নিচ্ছেন।  চরবানিয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের ছাত্রী কৃষ্ণা মন্ডল বলেন,‘আমি এমএ পাশ করছি, এখন চাকরির জন্য চেষ্টা করছি। চিতলমারী তথ্যকেন্দ্রে তথ্য আপাদের কাছে গিয়ে বিনামূল্যে অনলাইনে সরকারী প্রতিষ্ঠানে ৬ টি চাকরির দরখাস্ত করেছি। ’
চৌদ্দহাজারী গ্রামে রেশমা বেগম বলেন,‘আমার শারীরিক সমস্যার বিষয়ে তথ্য আপাকে জানিয়েছিলাম। তারাঁচিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেন।’

উপজেলারচরলাটিমা গ্রামের গৃহবধূ তৃপ্তি বৈরাগীবলেন, ‘তথ্য আপারা গ্রামে এসে ইন্টারনেট,স্বাস্থ্য,শিক্ষা, কৃষি, জেন্ডার,ব্যবসা এবং আইন বিষয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করেথাকেন। তাঁরা আমাদের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোহিতা করেন।’ দলুয়াগুনী গ্রামের গৃহবধু অঞ্জনা রানী মন্ডল বলেন,‘তথ্য আপা মিতার সহায়তায় হাঁস-মুরগী পালনের সপ্তাহ ব্যাপি প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তিনি এসহায়তা না করলে প্রশিক্ষণ নেয়া সম্ভব হতো না।’

উপজেলা তথ্যসেবা সহকারী বিউটি বলেন,‘অফিসের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ডিজিটাল সেবা কী, কিভাবে এ সেবা পাওয়া যাবে সে বিষয়েবিভিন্ন সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন করে থাকি। সময়ের সাথে সাথে এ উপজেলায় তথ্য আপা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।’
তথ্যসেবা কর্মকর্তা মোসা: মুর্শিদা আক্তার বলেন, ‘কিছু দিন আগেও যে মেয়েরা ইন্টারনেটের কিছুই বুঝতো না,ইন্টারনেট বলতে বুঝতো শুধু ফেসবুক, আজ সেই মেয়েরা অনলাইনে বই পড়ছে,নিজের পরীক্ষার রেজাল্ট নিজেরাই দেখছে। কিছু দিনের মধ্যে আরো সেবা বাড়ানো হবে। তথ্যকেন্দ্রে সব সেবা বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। এখানে শুধু নারীদের সেবা দেওয়া হয়।সরকারের এ মহৎ উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত নারীরা আজ আলোর মুখ দেখছে।’

চিতলমারীতে নারীদের ডিজিটাল সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে তথ্য আপা কার্যক্রম ব্যপক সাফল্য অর্জন করছে বলে বিশিষ্টজননেরা মত প্রকাশ করেছেন। এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে তাঁদের জোর দাবীও রয়েছে। মাত্র ছয় মাসের এ কার্যক্রম ইতিমধ্যে চিতলমারীতে ব্যপক সাড়া ফেলতে সমর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীরা বিনা মূল্যে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ গুলো বাড়ীতে অথবা তথ্য আপা অফিসে এসে করতে পারছে। গরীব ও মেধাবী ছাত্রীরা বেশি উপকৃত হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares