| | সোমবার, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

প্রথম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত অভিন্ন সিলেবাস

প্রকাশিতঃ ১:৪৭ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে সমতা আসছে। বর্তমান কারিকুলামে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চার স্তরের সিলেবাস চালু রয়েছে। ফলে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে উঠলেই শিক্ষার্থীদের প্রায় তিন গুণ পাঠ্য বই পড়তে হয়। হঠাৎ বাড়তি বইয়ের চাপ সামলাতে কোচিংনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠছে। অনেকেই ঝরে পড়ছে। এক স্তরের সঙ্গে পরবর্তী স্তরের সমন্বয় রেখে পাঠ্যপুস্তকের কন্টেন্ট (পাঠ্যসূচি) তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এ উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসক সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিভিন্ন মাধ্যম ও ধারা যেমন বাংলা মধ্যম, ন্যাশনাল কারিকুলামের ইংরেজি ভার্সন, সাধারণ মাদ্রাসা, কওমি মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষা দেয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা, পরমতসহিষ্ণুতার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ও আংশিক বা একদেশদর্শী দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় হচ্ছে। ফলে জাতি গঠনে এ ধরনের শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারছে না। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন মাধ্যম ও ধারার শিক্ষার্থীদের মনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নীতিবোধ ও সর্বজনীন মানবাধিকার বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে অভিন্ন একটি কোর্স চালু করা যেতে পারে বলে মত দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এমন নির্দেশনার পর গত ৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দপ্তরকে তা বাস্তবায়নের জন্য দ্রম্নত কার্যক্রম নেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অভিন্ন কোর্স চালুর জন্য দ্রম্নত কার্যক্রম শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কাজ শুরু করেছে এনসিটিবি।

এ ব্যাপারে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা যায়যায়দিনকে বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে কারিকুলাম যুগোপযোগী করার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপকৃত হবেন। কারণ প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত একটি সিলেবাস হলে বইয়ের বোঝা কমার পাশাপাশি সিলেবাসের মধ্যে সমন্বয় ঘটবে। খসড়া তৈরি করতে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিচ্ছি।’ দ্রম্নত সময়ের মধ্যে খসড়া তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কর্মকর্তারা বলেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চারটি স্তরের সিলেবাস ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় শ্রেণি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কারিকুলাম পরিবর্তন হয়। ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ৫টি বই পড়লেও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েই তাকে ১৪টি বই পড়তে হয়। অভিন্ন বা সমতা সিলেবাস হলে বইয়ের সংখ্যা কমবে, পাশাপাশি একটি শ্রেণির ব্যবধানে বই দ্বিগুণ বা তার বেশি হবে না। একই কনটেন্ট একাধিক শ্রেণিতে পড়ানো হবে। বিষয়ভিত্তিক সমতা আসবে।

জানা গেছে বর্তমানে দেশে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক-এই চারটি স্তরের সিলেবাস চালু রয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের কেবল শিক্ষার সঙ্গে পরিচয় ও স্কুলগামী করতে শিক্ষা দেয়া হয়। প্রাথমিক স্তরে ৬টি বিষয়ে পড়তে হয়। প্রাথমিক স্তর শেষ করে মাধ্যমিক স্তরে তথা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলে ১৪টি বই পড়তে হয়। হঠাৎ করে বই ও সিলেবাসের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই চাপ সহ্য করতে পারে না। এতে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ে।

এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মতামত নেয়া হচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট এনসিটিবিতে এ সংক্রান্ত একটি কর্মশালা হয়েছে। তাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, এটুআই প্রকল্পের পরিচালক, ঢাকা শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমির অধ্যাপক, ইউনিসেফ ও পস্ন্যান বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় অংশ নেয়া মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর সরকার আবদুল মান্নান যায়যায়দিনকে বলেন, আরও আগেই কারিকুলামের সমন্বয় হওয়া উচিত ছিল। নতুন মন্ত্রী আসার পর কারিকুলাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। সব শ্রেণির সিলেবাস একটি ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় আসলে সিলেবাসের সমন্বয়ের পাশাপাশি পাঠ্যবই ও বইয়ের কন্টেন্ট-দুটিই কমবে। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী এক মাসের ব্যবধানে পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলে তার ওপর ৫-৬টি বই থেকে ১৪টি বই চাপিয়ে দেয়া হয়। এত বোঝা সে সহ্য করতে পারে না। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকেই পড়াশোনা বাদ দিয়ে দেয়।

সোনার বারসহ কেবিন ক্রু আটক

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares