| | সোমবার, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

নেতাকর্মীদের ফুলেল শ্রদ্ধায় সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকে স্মরণ

প্রকাশিতঃ ১০:১৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজারে নানা আয়োজন,ফুলেল শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় পালিত হয়েছে দেশ বরণ্য অর্থনীতিবীদ, মৌলভীবাজার তথা সিলেট বিভাগের উন্নয়নের মহানয়ক, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত এম সাইফুর রহমান এর দশম মৃত্যুবার্ষিকী ।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই প্রয়াত এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার বাহারমর্দনে কোরআন খতম, কবর জিয়ারত ,মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও শিরনী বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা জড়ো হন গ্রামের বাড়ী বাহারমর্দনে কিংবদন্তী এই নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জি কে গউছ প্রয়াত মন্ত্রীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্বা জানান। এর পরে একে একে এম সাইফুর রহমান স্মৃতী পরিষদ, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগটনের নেতাকর্মীরা মরহুমের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ কওে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান (ভিপি) মিজানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, সাইফুর রহমানের পুত্র ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফয়জুল করিম ময়ূনসহ অনেকে। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন , সিলেট মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জল, ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরীসহ পরিবারের সদস্য ও বিএনপির নেতা কর্মীরা।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের নিজ বাড়ী বাহারমর্দন থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের খড়িয়ালা নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরন করেন তিনি।
একনজরে এম.সাইফুর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী:

জন্ম ১৯৩২ খ্রীষ্টাব্দের ৬ অক্টোবর, মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনে। তার পিতার মোহাম্মদ আব্দুল বাছির,মাতার তালেবুন নেছা। ৩ ভাইয়ের মধ্যে সভার বড় ছিলেন তিনি, মাত্র ৬ বছর বয়সে তাঁর পিতা মারা যান। সে সময়ে তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন চাচা মোহাম্মদ সফি।

শিক্ষাজীবন, গ্রামের মক্তব ও পাঠশালা শেষ করে তিনি ১৯৪০সালে জগৎসী গোপালকৃষ্ণ উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৯৪৯সালে কৃতিত্বের সাথে মেট্রিকুলেশনে উর্ত্তীণ হন। সিলেটের এমসি কলেজ থেকে আইকম পাশ করে ১৯৫১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর তিনি ব্যারিস্টারী পড়ার জন্য ব্রিটেনে চলে যান, সেখানে পৌঁছার পর মত পাল্টে যায় তার, ব্যারিষ্টারী পড়ার পরিবর্তে পড়েন র্চাটার্ড একাউন্টেন্সি নিয়ে।

১৯৫৩-৫৮ সময়কালে পড়াশোনার পর ১৯৫৯ সালে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ফেলোশীপ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি আর্থিক ও মুদ্রানীতি এবং উন্নয়ন অর্থনীতিতে বিশেষায়িত শিক্ষা গ্রহণ করেন। বিবাহ ১৯৬০ সালের ১৫ জুলাই বেগম দূররে সামাদ রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ৩ পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। ২০০৩ সালে তার স্ত্রী বেগম দুররে সামাদ রহমান ইন্তেকাল করেন। ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি এক মর্মান্তিক সড়ক র্দূঘটনায় নিহত হন।

তার শেষ ইচ্ছানুযায়ী নিজ গ্রাম বাহারমর্দনে বাড়ির আঙিনায় তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) র’ প্রতিষ্টা লগ্নে দলটির প্রতিষ্টাতা জিয়াউর রহমান আপন করে ডাকলেন দল গঠনে অংশ নিয়ে দেশও জাতীর কল্যাণে নিবেদীত হতে। তিনি তাই করলেন। রাজনীতিতে এলেন আলোকিত করলেন আলোকিত হলেন।

১৯৯৬ সালে ষষ্ট ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ আসন ও ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার -৩ ও সিলেট-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালের ৮ই জুন তিনি সংসদে দ্বাদশ বাজেট পেশ করে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক বাজেট পেশকারী হিসেবে রের্কড গড়েন। তিনি দীর্ঘদিন দেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন ছাড়াও দেশ-বিদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানগুলোতেও নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন কৃতিত্বের সাথে।

আওয়ামী লীগ কখনও ধর্মের বিভাজনে বিশ্বাস করে না : প্রধানমন্ত্রী

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares