| | রবিবার, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

কিশোরগঞ্জে আটদিনে ৯ খুন

প্রকাশিতঃ ৬:২৮ অপরাহ্ণ | আগস্ট ২৪, ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক :কিশোরগঞ্জে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে সহিংসতা ও খুনের ঘটনা। জমি ও পারিবারিক বিরোধ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটছে সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনা।১৪ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত আটদিনে নয়টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২১ আগস্ট একদিনে সাত ঘণ্টার ব্যবধানে জেলার চার উপজেলায় খুন হয়েছে চারজন। নিহতদের মধ্যে দুই বছরের শিশু ও এক নারী রয়েছে। তবে এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং অন্তত ১৭ জনেক গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

২১ আগস্ট দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মেয়ের জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হন শাশুড়ি হালিমা খাতুন (৫০)।

ওই দিন সকালে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পাকুন্দিয়া উপজেলার চরটেকি গ্রামের মৃত হারুনর রশীদের ছেলে মতি মিয়া তার বড় ভাই মুকুল মিয়াকে (৫৬) ছুরিকাঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্পে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মতি মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া এলাকায় বাড়ির রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর বল্লমের আঘাতে নিহত হন শাহজাহান মিয়া (৬০) নামে এক ব্যক্তি। তিনি ঘাগড়া গ্রামের ধনু মিয়ার ছেলে।

একই দিন দুপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের সুতারপাড়া গ্রামে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে সুলাল মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত সুলাল মিয়া সুতারপাড়া গ্রামের আব্দুল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

kishorgonj

২০ আগস্ট ভৈরব উপজেলার জামালপুর গ্রামে গণপিটুনিতে রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। নিহত রফিকুল উপজেলার মধ্যেরচর গ্রামের কালা গাজীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকার চিহ্নিত গরু চোরের সরদার।

১৭ আগস্ট অষ্টগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ওয়াসিম নামে দুই বছরের এক শিশুকে জবাই করে হত্যা করা হয়। নিহত ওয়াসিম একই গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে। উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডালারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগের দিন ১৬ আগস্ট ইটনা উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মচারীকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। নিহত মেরাজ মিয়া (৫০) এলংজুড়ি গ্রামের আ. জব্বারের ছেলে। তিনি এলংজুড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন। এ ঘটনায় ছয়জনেক গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

১৪ আগস্ট বাজিতপুরে পূর্ব বিরোধের জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ফুরকান (৩২) ও শরীফ (৩৫) নামে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন অন্তত সাতজন। উপজেলার দুর্গম হাওর মাইজচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, হঠাৎ করেই বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares