| | সোমবার, ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে চামঁড়া শিল্প

প্রকাশিতঃ ১০:১৬ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৮, ২০১৯

আতিয়ার রহমান,খুলনা : আস্তে আস্তে নানা কারণে গত কয়েক বছর পশুর চামড়ার দাম তলানিতে নেমেছে। হতাশ ব্যবসায়ীরা ব্যবসা গুটিয়ে অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন। বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও খুলনা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে চামড়া শিল্প। ঐতিহ্য হারিয়েছে শেখপাড়ার চামড়াপট্টি। কাঁচা চামড়ার দাম তলানিতে হলেও জুতা, স্যান্ডেল ও ব্যাগসহ চামড়াজাত পণ্যের মূল্য ক্রমোর্ধ্বমুখী।

সূত্রমতে, গেল কোরবানির সময় প্রতি বর্গফুট কাঁচা চামড়ার মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৫ টাকায়, ঢাকার বাইরে ৩৫ টাকা। অর্থাৎ একেকটি গরুর চামড়া হাতবদল হয়েছে তিনশ’ থেকে আটশ’ টাকার মধ্যে। ২০১৩ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার মূল্য ছিল ৯০ টাকা। চামড়ার দাম কমে এখন অর্ধেকেরও নিচে। এবারে চামড়া শিল্পের সংকট আরও ঘনীভূত হবার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাঁচা চামড়ার সবচেয়ে বড় মৌসুম ঈদুল আযহা। আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাদে কোরবানী। এরই মধ্যে অর্থ ও স্তান সংকটে নগরীর শেখপাড়া চামড়া পট্টির চামড়া ব্যবসায়ীরারা ভালো নেই। জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ঢালী বলেন, চামড়া প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত করতে এক সপ্তাহ থেকে দশদিন সময় লাগে। এবার চামড়া পট্টির সামনের শের এ বাংলা রোড সংস্কার কাজ চলছে। বকেয়া অর্থ আদায়, ব্যাংক ঋণ সুবিধা ও প্রক্রিয়া জাতকরণের জায়গা না পেলে ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কায় এবার চামড়া কেনা থেকে বিরত থাকতে পারেন শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, সিটি মেয়র চামড়া ব্যবসায়ীদের আশ্বাস্ত করেছেন এক সপ্তাহ সময় দেয়া হবে চামড়া প্রসেসিংয়ের জন্য।

চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোঃ সাইদুর রহমান সাইদ য়ায়যায়দিনকে বলেন, খুলনার অনেক চামড়া ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়েছেন। গত দেড় যুগ ধরে ট্যানারীর কাছে পাওনা টাকা আদায় করতে পারছে না খুলনার ব্যবসায়ীরা। টাকার অভাবে অনেকে পেশা পরিবর্তন করে অন্য দোকান িিদচ্ছেন। কেউ আবার ইজিবাইক চালাচ্ছে। অথচ খুলনায় চামড়া শিল্প ছিল অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
ব্যবসায়ীদের সূত্র জানিয়েছে, চামড়া কেনা বন্ধ থাকলে চোরাই পথে ভারতে পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া দামও কমতে পারে। মৌসুমী ফড়িয়া সিন্ডিকেট চামড়া কিনে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করতে পারে এমন আশঙ্কাও সংশি¬ষ্টদের। সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে খুলনার চামড়া আদায় করা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো।

ডেঙ্গুতে আতংক নয়, সচেতনতা প্রয়োজন -সিটি মেয়র

তারা আরও জানান, কোরবানীর পর নগরীর শেখপাড়া চামড়া পট্টিতে পশুর চামড়া আসে এবং সেখানেই প্রক্রিয়াজাত করে চামড়া পাঠানো হয় নাটোর, ঈশ্বরদি অথবা সরাসরি রাজধানীর ট্যানারিতে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।

ফুলতলার সুপার এস লেদার লিমিটেডের ব্যবস্তপনা পরিচালক ফিরোজ ভূঁইয়া জানান, প্রতিষ্ঠানটির এ পর্যন্ত প্রায় একশ’ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে চামড়া ব্যবসায়। তবুও এবার তিনি খুলনা অঞ্চলের সব চামড়া বাজার দর অনুযায়ী কিনবে সুপার এস লেদার। তাই চামড়া নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই বলেও অভয় দিচ্ছেন তিনি। ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেও প্রক্রিয়াজাত না করেও তার প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য ফুলতলা মহিলা কলেজের প্রভাষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “তৈরি পোশাক শিল্পের পর দেশের অন্যতম সম্ভাবনায় খাত চামড়া। গেল অর্থবছরে (২০১৭-১৮) আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৪ কোটি ডলার কমে রপ্তানি আয় হয়েছে ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। যদিও ২০২১ সাল নাগাদ এ খাত থেকে ৫শ’ কোটি ডলার রপ্তানির আয়ের লক্ষ্য আছে। রপ্তানিতে মন্দার পাশাপাশি নানা অজুহাতে চামড়ার দাম প্রতি বছরই কমে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এমন যে গত কয়েক বছরের হিসেব দেখলে মনে হবে, চামড়া দামহীন পণ্য হয়ে পড়েছে। অথচ, জুতা, স্যান্ডেল ও ব্যাগসহ চামড়াজাত পন্যের মূল্য সবসময়েই উর্ধ্বমুখী।”

খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদ আহমেদ খান যায়যায় দিনকে জানান, বিভাগের ১০ জেলায় সাত লাখ ৩১ হাজার ৮৪৪টি কোরবানীযোগ্য পশু রয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে খুলনা অঞ্চলে এবার কোরবানীর পশুর আধিক্য থাকবে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares