| | সোমবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২শে সফর, ১৪৪১ হিজরী |

খাগড়াছড়ির পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা পাহাড়ে স্বর্গের সিড়ি

প্রকাশিতঃ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ | জুলাই ২০, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরীঃ- খাগড়াছড়ি চেঙ্গী ও মাইনী নদীর অববাহিকায় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। অরণ্যভূমি, উপত্যকা, ঝরনা-ঝিরি ও অসংখ্য পাহাড় সুন্দর মনোরম নিয়ে গড়ে উঠেছে পাহাড়ি এই জনপদ। চীর চেনা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আলুটিলা ও রিছাং ঝরনা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ থাকে বেশি।

খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের আগমন বাড়লেও বাড়েনি কিন্তু পর্যটন কেন্দ্র। নতুন নতুন কেন্দ্র গড়ে না ওঠায় পর্যটন ক্ষেত্রে কমে এসেছে জৌলুস। তবে খাগড়াছড়ির নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠছে হাতির মুড়া বা স্বর্গের সিড়ি মনে হয় এক নতুন দিগন্ত । পাহাড়টার অবয়ব অনেকটা হাতির মতো। তাই স্থানীয়রা একে হাতির মুড়া বলে। চাকমাদের কাছে এটি এদো শিরে মোন ও ত্রিপুরাদের কাছে মাইয়োং কপা নামে বেশ পরিচিত লাভ করেছে ।

এর অর্থ হাতির মাথা পাহাড়। আবার অনেকের কাছে এটি স্বর্গের সিঁড়ি নামে পরিচিত। পর্যটকদের কাছে এখন নতুন আকর্ষণ এটি। হাতির মাথার চূড়া থেকে খাগড়াছড়ির সুউচ্চ পাহাড়ের ঢেউ চোখে পড়ে। এছাড়া জেলা সদরের অনেক অংশ এখান থেকে দেখা যায়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে আসতে শুরু করেছেন।

সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে সুষ্ঠুভাবে পরিকল্পনা নিলে হাতির মুড়া বা হাতির মাথা পাহাড় অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে, প্রণোদনার অভাবে আশানুরূপ পর্যটক এখানে আসছেন না। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছু বদলে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ের এই নতুন পর্যটন কেন্দ্র দেখতে আসছেন পর্যটকরা।

খাগড়াছড়ি শহর ছেড়ে দুই পা ফেললেই পেরাছড়া গ্রাম । নিভৃত এই পাহাড়ি পল্লী পেরিয়ে খরস্রোতা চেঙ্গী নদী। আর এ নদী পার হয়ে পাহাড়ি গ্রাম বানতৈসা। এখানে রয়েছে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। বানতৈসা পেরিয়ে হাঁটতে হয় পুরোটা পথ। পথে জুমিয়াদের চাষাবাদ চোখে পড়ে। স্থানীয়রা মূলত কৃষিজীবী। সবুজে মোড়ানো পথে প্রায় ১ ঘণ্টার হাঁটা পথ। উঁচু উঁচু পাহাড় পর্বত পেরিয়ে যেতে হবে হাতির মুড়া।

পঞ্চগড়ে ১০ দিন ব্যাপী বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করলেন রেলপথ মন্ত্রী

সুএে জানাগেছে স্থানীয়দের চলাচলের জন্য ২০১৫ সালে সিঁড়ি স্থাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। মূলত পাহাড়ি গ্রাম মায়ুক কপাল যাওয়ার জন্য সিঁড়িটি নির্মাণ করা হয়। খাড়া পাহাড় বেয়ে ওঠা নান্দনিক সিঁড়ি স্থানীয়দের প্রয়োজন মিটানোর পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। প্রায় ২শ ধাপ সিঁড়ি পেরিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে হয়। স্থানীয় পর্যটকদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন পর্যটকরা।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা জিয়াউর জয় বলেন, ফেসবুকে হাতির মুড়া বিষয়ে জেনেছি। খাগড়াছড়ি আসার পর এখানে ঘুরতে এসেছি। আমি মুগ্ধ। পটিয়া পৌরসদরে থেকে যাওয়া পর্যটক মোস্তাক আহমদ ও বিপ্লব চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ জানান খাগড়াছড়ি এসে হাতির মুড়া বা স্বর্গের সিঁড়ি না দেখলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাঁর মতে গাইড সুবিধাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে হাতির মাথা পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

কর্ণফুলী  থেকে বেড়াতে আসা আবদুর সাক্তার বলেন, বহুকাল ধরে হাতির মুড়ার গল্প শুনেছি। দেখার পর ভালো লেগেছে। পাহাড়ের চূড়ায় বিশ্রামের ব্যবস্থা করা গেলে পর্যটকদের আগমন আরো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, একসময় স্থানীয়রা গাছের গুঁড়ির উপর দিয়ে এ পাহাড়ে আসা-যাওয়া করতেন। এভাবে উঠতে গিয়ে কয়েকজন মারাও গেছেন। স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে সিঁড়িটি নির্মাণ করা হয়।

চন্দনাইশ উপজেলা থেকে য়াওয়া বাদশা জানান, হাতিমুড়া পাহাড় নতুন পর্যটন এলাকায় পরিণত হচ্ছে দেখে কুব সুন্দর লাগছে। এছাড়াও হাতিমুড়া যেতে পর্যটকদের জন্য গাইডের ব্যবস্থা গ্রহণ পুর্বক নতুন করে সরকার উদ্যোগ নিলে রাজস্ব আয়ের উৎস সন্ধান সরকার পাবে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares