| | বুধবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী |

মাদ্রাসা ছাত্রী দিপ্তীকে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে সাজ্জাদ

প্রকাশিতঃ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ | জুলাই ২০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদারীপুর সদর উপজেলার চরনাচনার গ্রামের বলাইরচর শামসুন্নাহার বালিকা দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী একই গ্রামের মজিবর ফকিরের মেয়ে সানজিদা আক্তার দিপ্তীর হত্যাকারী মাদারীপুর পৌরসভার পূর্ব খাগদী এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ইজিবাইক চালক মো. সাজ্জাদ হোসেন খানকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে মাদারীপুর র‌্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা।

মাদারীপুর র‌্যাব-৮ এর প্রধান কামান্ডিং অফিসার আতিকা ইসলাম শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকের এ কথা জানান।

এসময় গ্রেফতারকৃত আসামী মো. সাজ্জাদ হোসেন খানের স্বীকারোক্তি উল্লেখ করে দিপ্তীর হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেন আতিকা ইসলাম।

র‌্যাব-৮ এর প্রধান কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম প্রেস ব্রিফিং এ জানান, ১৩ জুলাই অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার। পরে ১৪ জুলাই মাদ্রাসা ছাত্রী দিপ্তীর লাশ হিসাবে পরিচয় পাওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে মাদারীপুর র‌্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা। লাশ উদ্ধার হওয়া পরিত্যাক্ত পুকুরে ১৮ জুলাই আবার তল্লাসী করে র‌্যাব। সেখান থেকে দিপ্তীর পোশাক, ইট ও সিমেন্টের বস্তা পাওয়া যায়। এরই সূত্র ধরে র‌্যাব ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। তাদের তদন্তে ১৯৯২ সালে শিশু হত্যা করার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাভোগ করে ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ইজিবাইক চালক মো. সাজ্জাদ হোসেন খান জড়িত আছে বলে সন্দেহ হয়। তাই সাজ্জাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব ক্যাম্পে নিয়ে আসে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সাজ্জাদ র‌্যাবের কাছে দিপ্তীকে ধর্ষণ ও হত্যা করার কথা স্বীকার করে।

সাজ্জাদ হোসেনের স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে র‌্যাব-৮ এর কমান্ডিং অফিসার আতিকা ইসলাম আরো জানান, ১১ জুলাই বোনের বাসা থেকে শহরের চরমুগরিয়ায় চাচার বাসায় যাওয়ার জন্য ইটেরপুল এলাকা থেকে একটি ইজিবাইকে ওঠে। ইজিবাইকে আর কোন যাত্রী না থাকায় এবং প্রচুর বৃষ্টি থাকায় ইজিবাইক চালক সাজ্জাদ হোসেন জোর করে মুখ চেপে দিপ্তীকে পূব খাগদী এলাকার নিজের খালী বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে চেতনানাশক দিয়ে দিপ্তীকে অচেতন করে ধর্ষণ করে।

অবৈধ সম্পর্কের জেরে হত্যা,রহস্য উদঘাটন করলেন পাগলা থানা পুলিশ

এক পর্যায়ে দিপ্তী অসুস্থ হয়ে পড়লে গলা টিপে তাকে হত্যা করা হয়। পরে গলায় ইট বেঁধে নিহতের লাশ সিমেন্টের বস্তায় ভরে গুম করার জন্য বিদ্যুতের তার দিয়ে কয়েকটি ইটসহ দিপ্তীর পোশাকবিহীন লাশটি বেধে পরিত্যাক্ত পুকুরে ফেলে দেয়। দুই দিন পর লাশটি ভেসে উঠলে দিপ্তী হত্যার ঘটনাটি সামনে চলে আসে।

উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই মাদারীপুরের পূব খাগদী এলাকার একটি পরিত্যাক্ত পুকুর থেকে নগ্ন ও বিকৃত অবস্থায় এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে মাদারীপুর মর্গে পাঠায় পুলিশ। পরের দিন দিপ্তীর বাবা হাসপাতালে এসে লাশটি তার মেয়ে দিপ্তীর বলে নিশ্চিত করেন এবং অজ্ঞাতনামা আসামী করে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা করে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares