| | মঙ্গলবার, ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী |

পটিয়ায় ইন্দ্রপোলে নকল আয়োডিন লবণ কোম্পানির নামে প্রতারণা

প্রকাশিতঃ ৮:১১ অপরাহ্ণ | জুলাই ১২, ২০১৯

পটিয়া(চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামের পটিয়ায় সদরের ইন্দ্রপোল লবন শিল্প এলাকায় আয়োডিন লবণ ও বিভিন্ন নামকরা ব্রান্ডের প্যাকেট নকল করে লবণ বাজারজাত করে আসছে একটি প্রতারক সিন্ডিকেট। প্রতারক সিন্ডিকেটটি বিএসটিআই অনুমোদিত বিভিন্ন কোম্পানির নাম নকল করে এবং আয়োডিনবিহীন লবন বাজাওে ছড়িয়ে দিয়ে এই ব্যাবসা করে যাচ্ছেন বলে জানায়।

জানা গেছে, পটিয়া সদরের ইন্দ্রপোল লবণ শিল্প এলাকায় চট্টগ্রামের নাকমরা লবণ কোম্পানি পুপুলারের ব্রান্ড নকল করে পপুলাল নাম দিয়ে লবণ বাজারজাত করছে এরকম একটি লবণ কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই কারখানায় মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে আয়োডিনবিহীন পপুলাল কোম্পানির নামে এক ট্রাক লবণ প্রায় ১০ হাজার প্যাকেট লবণ জবদ্ধ করেছে মোবাইল কোর্ট। এছাড়া মোল্লা সল্ট, কোম্পানির লবণের প্যাকেট নকল করে ছোট মোল্লা, বড় মোল্লা নামের কয়েকটি লবণ কোম্পানি ইন্দ্রপোল থেকে লবণ বাজারজাত করার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানায় পটিয়া সদরের ইন্দ্রপোল লবণ শিল্প এলাকার এস এম আলী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদিত লবনগুলো ”পপুলার লবন” কোম্পানির নাম নকল করে পপুলাল আয়োডিন লবন হিসেবে বাজারজাত করায়। আয়োডিন লবণের নামে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে কারখানায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে লবনের কারখানায় ৭ জুলাই রবিবার দুপুরে মোবাইল কোর্টের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন। এসময় কারখানাটির গ্রোডাইনে রক্ষিত লবনের মধ্যে থেকে ১০ প্যাকেট লবন সিম্পল হিসেবে আয়োডিন ল্যাব টেস্ট করা হয়। প্যাকেটে শুন্য আয়োডিন পাওয়া যায়। সরকারী আদেশ অমান্য করে গ্রাহকের সাথে প্রতারণা অভিযোগে কারখানাটিকে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রায় ১০,০০০ প্যাকেট আনুমানিক ১ ট্রাক লবণ জব্দ করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন পটিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সাব্বির রাহমান সানি। পটিয়া ইন্দ্রপুল শিল্প কারখানায় প্রায় ৫০টি লবণ কারখানা রয়েছে। এখান থেকে কাঁচা লবণ প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বাজারজাত করা হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন সুনামধন্য ব্র্যান্ডের লবণ নকল করে বাজারজাত করছে।অধিকাংশ লবণ কোম্পানির বিএসটিআই এর অনুমোদন না নিয়ে লবণ বাজারজাত করে আসছে চক্রটি।

সম্প্রসারিত হচ্ছে মন্ত্রিসভা,পূর্ণমন্ত্রী হলেন ইমরান, নতুন প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা

পটিয়া সদরের ইন্দ্রপোল লবণ শিল্প এলাকার এস এম আলী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মোহাম্মদ আলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতারণা করে পপুলার লবণ কোম্পানির প্যাকেট নকল করে পপুলাল লবণ বাজারজাত করণ তিনি অস্কীকার করেন। পপুলাল নামে লবণের বৈধ কাগজ পত্র রয়েছে বলে দাবি করেন এবং ব্যাবসায়িক বিরোধের কারণে তার কারখানায় জরিমানা করা হয়েছ বলে জানায়, তবে পপুলার লবন কোম্পানির প্যাকেট নকল করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নারাজ।

চট্টগ্রাম নগরীর মাঝিরঘাট এলাকার পপুলার সল্টের নাম ও প্যাকেট নকল করে পপুলাল হিসেবে বাজারজাত প্রসঙ্গে পপুলার সল্ট ইন্ডাষ্ট্রিজের পরিচালক প্রশান্ত নন্দী জানিয়েছেন, তাদের ব্র্যান্ড নকল করে পপুলাল নাম দিয়ে পটিয়ার ইন্দ্রপুল থেকে এসএম আলী সল্টের মালিক মোহাম্মদ আলী লবণ বাজারজাত করে ব্যবসা করছে। আয়োডিন ছাড়া লবণ খেলে মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি সৃষ্টি হবে। পপুলার সল্ট প্যাকেটজাত আয়োডিনযুক্ত করে দীর্ঘদিন থেকে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাদের মান ক্ষুন্ন করতে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী পপুলাল নাম ব্যবহার করে প্রতারনা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে কয়েকবার অভিযোগও দেওয়া হয়েছে

পটিয়া উপজেলা বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, ইন্দ্রপোলের প্রতিটি লবণ কারখানাকে বিএসটিআই এর কাগজ পত্র নিয়ে সবাইকে অফিসে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনেকে বিভিন্ন নামকরা কোম্পানির প্যাকেট না নকল করে লবণ বাজারজাত করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তথ্যের ভিত্তিতে এম আলী সল্ট ইন্ড্রাট্রিজে মোবাইল কোর্টেরর মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছ। বিভিন্ন কারখানায় কাগজ পত্র দেখে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফজলুল হক আল্লাই বলেন, কিছু অসাধু ব্যাবসায়ির কারণে পটিয়ায় লবণ শিল্পের সুনাম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে লবণ নিয়ে প্রতারণা করতে না পারে বিষয়টি আমরা সমিতির পক্ষ থেকে সবাইকে সজাগ থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৈধ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে যা প্রয়োজন সমিতির পক্ষ থেকে তা করতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares