| | শুক্রবার, ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে সফর, ১৪৪১ হিজরী |

পটিয়ায় ভূমি কর্মকর্তাদের সহায়তায় সরকারি জায়গা বেদখল

প্রকাশিতঃ ২:০০ অপরাহ্ণ | জুলাই ১১, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার চাপড়া ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সহায়তায় উপজেলার কোলাগাও ইউনিয়নে গড়ে উঠা বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, বেসরকারি মালিকানাধিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সরকারি জায়গা প্রতিযোগিতা দিয়ে নিজেদের দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

দখলকৃত জায়গার মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রবাহমান খাল, কর্ণফুলী নদীর পাড়, ভেল্লা পাড়া খাল, বোয়ালখালী খালসহ বিভিন্ন জোয়ার ভাটার প্রবাহমান খালের জায়গাও তারা দখল করে নিয়েছে। সম্প্রতি পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভ’মি সাব্বির আহমদ সানি মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে কর্ণফূলী বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখলে রাখা একটি খালের জায়গা দখলমুক্ত করলেও পুণরায় দখলে নিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

চাপড়া ভূমি অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলার কোলাগাও, হাবিলাসদ্বীপ, জিরি, কুসুমপুরাসহ চারটি ইউনিয়নের ২৬টি মৌজায় ৯১২.২৫ একর সরকারি জমি রয়েছে। এরমধ্যে লীজ যোগ্য রয়েছে ১১৪ একর বাকী ৭৯৮.২৫ একর জমি বাকী থাকার কথা থাকলে লিজ দেয়া হয়েছে প্রায় ৫০০ একরেরও বেশী সরকারি জায়গা। প্রশাসনের একটি অসাধু চক্রের সাথে হাত করে সরকারি জায়গার উপর শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকা শর্তেও তারা পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন মানছে না।

সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আল বারকা পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, আকলিমা পাওয়ার প্ল্যান লিমিটেড, কর্ণফুলী পাওয়ার প্ল্যান লিমিটেড, ফোর এইচ গ্রুপ, ওয়েস্টিন মেরিন শীপ ইয়ার্ড লিমিটেডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান। পরিবেশ বিনষ্ঠকারী বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো জনবসতিতে স্থাপন করায় এর প্রতিবাদে কোলাগাও এলাকার সচেতন এলাকাবাসী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। পরিবেশ নষ্ঠ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের পাশাপাশি সরকারি নদী নালা, খাল বিল, তারা দখলে নিচ্ছে বলে সচেতন নাগরিক কমিটির সংগঠক মোহাম্মদ পারভেজ রানা জানান।

এছাড়াও অফিসের দায়িত্ব প্রাপ্তদের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি, অব্যবস্থাপনার অফিসে কর্মকর্তা কর্মচারিরা ঠিক সময়ে অফিসেও আসে না এবং বহিরাগত কিছু লোকজন অফিসে চেয়ার টেবিল নিয়ে ভূমি কর্মকর্তা সাজিয়ে অফিস করার দৃশ্যও ধরা পড়েছে। রবিবার উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের চাপড়া ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে প্রচুর লোকজনের ভিড়, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারি অনেকে সাড়ে ১২টা বেজে গেলেও অফিসে আসেনি। ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রমিজ আহামদ নিজেও ছিলেন অনুপস্থিত।

অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা এ.বি.এম বখতিয়ার হোসেন, উপসহকারী কর্মকর্তা রাজীব দে, অফিসের কাজ কর্ম বাদ দিয়ে বাইরের দালালদের সাথে গল্প গুজব নিয়ে ব্যবস্থ সময় পার করছেন। অফিসের বহিরাগত মোহাম্মদ সুমন ও কেশব দাশ কেউ ২০ বছর আর কেউ ৩/৪ বছর অফিসে কাজ করে যাচ্ছেন। কোলাগাও এলাকায় সরকারি জায়গা বিভিন্ন শিল্পকারখানে লীজ দিতে সযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে পটিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা ও কোলাগাও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামশুল ইসলামের বিরুদ্ধে। লোকালয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠায় পরিবেশে বিপর্যয় ঘটার ঘটনায় এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও কোন সুরহা পাইনি বলে এলাকাবাসী জানায়।

ডুবেছে হাজারো হেক্টর ফসলি জমি, ভাঙনে বিলীন অর্ধশত বাড়ি

তাদের হাতে ভূমি অফিসের গুরুত্বপুর্ণ ফাইল পত্রগুলো দেখা গেছে। কোলাগাঁও ইউনিয়নের চাপড়া এলাকার মৃত লাল মোহন চৌধুরীর পুত্র তপন চৌধুরী একই এলাকার তাপস চৌধুরী অবৈধভাবে সরকারি জায়গা লীজ নেয়ার ঘটনায় পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২০১০ সালে লীজ বাতিল করেন। বাতিলকৃত সরকারি লীজের জায়গা পটিয়া ভুমি অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারি মিলে গোপনে লীজ দেয়ার চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন।

এছাড়া কোলাগাও চাপড়া এলাকার মৃত মদন মোহন চৌধুরীর পুত্র তাপস চৌধুরীর বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ জন লিখিত অভিযোগও করেছেন। তাপস চৌধুরী বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি অফিস থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পত্র চুরির অভিযোগে বিচারাধিন একটি মামলাও রয়েছে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও অভিযোগকারী তপন চৌধুরী জানায়।

এ প্রসঙ্গে কোলাগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ নুর বলেন, আমার এলাকার সরকারি খাস জায়গাগুলো বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকেরা অবৈধভাবে দখলে নেয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)’কে জানানোর পরও কোন কাজ হয়নি, সরকারি কিছু কর্মকর্তাও এই সব কর্মকান্ডে জড়িত আছেন বলে তিনি জানান।

চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রমিজ আহামদ জানান, সরকারি খাস জায়গা দখলের বিষয়টি আমরা এসিল্যান্ডকে স্যারকে জানিয়েছি, সম্প্রতি এসিল্যান্ড স্যার মোবাইল কোর্টের অভিযান চালিয়ে একটি কারখানার কবল থেকে সরকারি খালের জায়গা উদ্ধার করে দখলমুক্ত করেছেন।

ভূমি কর্মকতাদের সহায়তায় সরকারি জায়গা শিল্পকারখানায় দখলে নেয়ার প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির আহমদ সানি বলেন, কিছুদিন আগে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরকারি জায়গা দখল করার খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করেছি, সুনিদিষ্ঠ অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares