| | রবিবার, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

পটিয়ায় ভারী বর্ষণে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিতঃ ১০:২১ অপরাহ্ণ | জুলাই ১০, ২০১৯

পটিয়া(চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরীঃ চট্টগ্রামেের পটিয়ায় গত ৩ দিনের বারী বর্ষণে মানুষের বাডি ঘর শত শত পুকুর ডুবে গিয়ে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।বিশেষ করে পটিয়া- কর্ণফুলীতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি.। এ ছাডাও কর্ণফুলী নদী উপচে পানি ঢুকছে ডাঙ্গারচর গ্রামে।

গত দুইদিনের ভারী বর্ষণ, কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়া এবং পাহাড়ি ঢলের পানি নিুাঞ্চলে ঢুকে পড়ে পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। ফলে সোমবার সকাল থেকে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে গতকাল বুধবার পর্যন্ত । অনেকে বাড়ি-ঘর থেকে কেউ সকাল হতে বের হতে পারেনি। বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারী অফিস-আদালত জনশূন্য হয়ে পড়ে।

পটিয়া পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ড সহ উপজেলার ভাটিখাইন, ছনহরা, হাইদগাঁও, কেলিশহর, কচুয়াই, খরনা, ধলঘাট, জঙ্গলখাইন, আশিয়া, কুসুমপুরা, কাশিয়াইশ, শোভনদন্ডী, হাবিলাসদ্বীপ, জিরি কোলাগাও ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা, চরলক্ষ্যা, চরপাথরঘাটা, জুলধা ও বড়উঠানে বৃষ্টি ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি একাকার হয়ে যায়। যার কারণে উপজেলার পটিয়া ও কর্ণফুলী এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েন। এদিকে উপজেলার পটিয়া ও পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলায় মুরগীর খামার ও দুগ্ধ গাভীর খামারে হাটু পরিমান ঢুকে খামারীদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এছাড়াও পানিতে চাষাবাদের বীজতলা ও সবজি মাঠ ডুবে যাওয়ায় কৃষকদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা জানান।

স্থানীয় জানায়, গত দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়ত থাকায় পটিয়া উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী উপজেলার নিম্মাঞ্চল প্রাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ৫ শতাধিক পুকুরের মাছ। এদিকে, পটিয়ার ভাটিখাইন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে দুইদিন ধরে বৃষ্টির পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় ভাটিখাইন, ছনহরাসহ আশপাশের লোকজন পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।

তাছাড়া ভাটিখাইন ও ছনহরা বেড়িবাঁধ এলাকার সহস্রাধিক পরিবার ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। যে কোন সময় বেড়িবাঁধের বাকী অংশ ভেঙে অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পটিয়া বাইপাস সড়কের ঠিকাদারের অবহেলার কারণে বেড়িবাধ কেটে একটি ব্রীজ নির্মাণের কারণে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত বাড়ী-ঘরে ঢুকে পড়ছে। রবিবার বিকেলে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের শ্রীমাই এলাকায় খালের পাড় ধসে সাজ্জাদ হোসেন (১৬) নামের এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে। সে চক্রশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। বর্তমানে শ্রীমাই খালের পানি বিপদ সীমার উপর দিতে প্রবাহিত হচ্ছে।

যশোরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার ভূমি মিল্টন রায় বলেন, গত দুই দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে পটিয়ার যে সব নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তা তালিকা করার জন্য উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাকে (পিআইও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে ত্রান সামগ্রী এলেই তা বিতরণ করা হবে।

পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, উপজেলার পটিয়ায় গত দুইদিনের বৃষ্টিতে ২৪০ হেক্টর আমন বীজতলা নষ্ট হয়েছে এবং ২০ হেক্টর সবজি খেতের ক্ষতি হয়েছে। এতে উপজেলার প্রায় ৫ হাজার কৃষকের ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছেন তারা।

এদিকে কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানিতে কর্ণফুলী উপজেলাধীন জুলধাই ইউনিয়নের ১,২,৩ নং ওয়ার্ড ডাঙ্গারচর গ্রাম ও ৬ ও ৭নং ওয়ার্ড জুলধা গ্রামে পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়ির বেতরে হাটুর অধিক পানি ঢুকে যাওয়ায় রাতযাপন দুসাধ্য হয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা, ডাঙ্গাচর এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের দেখতে যান ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক আহমদ। চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন, কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানিতে জুলধা ইউনিয়নের ৫টি ওয়ার্ড পানির নিচে চলে গেছে। বাঁধ না দেয়ায় ভারী বর্ষন হলেও এসব গ্রাম ডুবে যায় বলে তিনি জানান। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি।

জুলধা ইউনিয়ন ছাড়াও শিকলবাহা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড পানিতে তলিয়ে গেছে কর্ণফুলী নদীর পানিতে। শিকলবাহা ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার দানু মিয়া জানান, তার এলাকা বর্তমানে পানিতে তলিয়ে গেছে। যার কারনে তার ব্যক্তিগত ৫ লাখ টাকার অধিক মাছ চাষের পুকুর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়াও দুই শতাধিক পরিবার পানির কারনে ক্ষতিগ্রস্থ বলে তিনি জানান। শিকলবাহা ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর স্থানীয়ভাবে সহযোতিার জন্য বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানানো হচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্লাবিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থতের সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।

পটিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোতাহের বিল্লাহ জানান, কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় কর্ণফুলী এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। এছাড়াও অনেক বিদ্যালয়ে প্লাবিত এলাকার লোকজন আশ্রয় নিয়েছে। তাই কয়েকদিন শিক্ষা কার্যক্রম শিতিল রাখার জন্য বলা হয়েছে। বর্তমানের পটিয়ার মৎস্য চাষীদের মাথায় হাত পডেছে বলে অভিযোগ করেন জাতীয় পুরুস্কার প্রাপ্ত এম, এম, এজাহার।

তিনি বলেন তার ৫০ টি পুকুর এর মধ্যে ৩০ টি ডুবে গিয়ে ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপর মৎস্য চাষী পৌর সদরের মোঃ জসিম জানান তার ৩০ টি পুকুরের মধ্যে ২২টি ডুবে গিয়ে ১৪ লক্ষ টাকার লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধিত হয়েছে।একই ভাবে মৎস্য ব্যাবসায়ী রমিজ এর ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান,সৌখিন মৎস্য ব্যাবাসয়ী রাজার বাডির তার পুকুর ডুবে গিয়ে ২ লক্ষ টাকা ছনহরা ইউনিয়ন মেম্বার জায়দুল হকের ৩ লক্ষ টাকা, কমল মুন্সি হাট এলাকায় বাদল এর ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।এ প্রতিবেদকে শত শত ক্ষতিগ্রহস্ত মানুষ মোবাইমোবাইল ফোনে তাদের বিভিন্ন দুঃখ দুর্দশা এবং ক্ষতির কথা জানান।

পটিয়া পৌরসভার ক্ষতি গ্রহস্তারা মেয়র কে দায়ি করেন। এর কারণে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ফলে তাদের পুকুর ঘর বাডি ডুবে গিয়ে তারা এ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সাবেক পটিয়ার পৌরসভার মেয়র শামসুল আলম মাষ্টার এবং সাবেক কমিশনার নুরুল ইসলাম জানান।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares