| | মঙ্গলবার, ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী |

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সারাদেশের ন্যায় বিলুপ্তির পথে দেশী ফল সুমিষ্ট আতা

প্রকাশিতঃ ৯:৪৯ অপরাহ্ণ | জুলাই ১০, ২০১৯

ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ; চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এক সময় প্রতি গ্রামে প্রায় বাড়ির উঠানে ও আশেপাশে আতা ফলের গাছ চোখে পড়তো। এখন তা প্রায় বিলুপ্তির পথে। বিগত দু’দশকের ব্যবধানে দেশি ফল আতা এ অঞ্চল থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, যেসব আতা ফল এখন বাজারে দেখা যাচ্ছে সেই ফল পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানিকৃত। তবে এই সুমিষ্ট ফল আতা নিয়ে আশার কথা হচ্ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নাচোল উপজেলায় খলসি বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে রয়েছে ৪ একর জমির উপর একরামুল হকের আতা বাগান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার আবদ্ধে থাকা ফলটাও সবুজাব, দু সবুজেই মিলেই একরামুল হকের স্বপ্ন প্রস্ফুটিত হচ্ছে। দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় সবুজে সবুজে ভরা এই আতা বাগান। এই আতা বাগান মালিক একরামুল হক জানান, প্রায় ৭ বছর থেকে ২৫০ টি আতা গাছ পরিচর্যা করেন তিনি। একরামুল হক এই আতা নিয়ে এখনো স্বাবলম্বী না হলেও, আশার আলো দেখছেন শতভাগ। কয়েক বছরের মধ্যে এই সুমিষ্ট ফল আতা বিক্রি করে আশার আলো দেখবেন এই আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি। আতা গাছে ফল ধরে, বাংলা ফাল্গুন মাস থেকে আষাঢ় মাসের শেষ পর্যন্ত এবং আতা ফল পাকা শুরু করে বাংলা ভাদ্র মাস থেকে অগ্রহায়ণ মাসের শেষ পর্যন্ত এবং পর্যায়ক্রমে এই সুমিষ্ট ফল আতা শেষ হয়ে যায়।

একরামুল হক জানান, আতা ফলের বাগান করে এখনো লাভবান হয়নি। তবে, জেলা কৃষি অধিদপ্তরের কাছে সার্বিক সহায়তার দাবী জানিয়েছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশ থেকে বিলুপ্তের হাত থেকে ফিরিয়ে এই সুমিষ্ট ফলের প্রশার ঘটাতে পারবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। এবং দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানির আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। উল্লেখ্য, আতা গাছের আদিনিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। পৃথিবীর প্রায় সব গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে আতা গাছ জন্মে। আতা হলো অ্যানোনেসি পরিবারভুক্ত এক ধরনের যৌগিক ফল। এটি শরিফা ও নোনা নামেও পরিচিত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ বছরের কর্মপরিকল্পনার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন বিষয়ক কর্মশালা

এই ফলের ভিতরে থাকে ছোট ছোট কোষ। প্রতিটি কোষের ভিতরে থাকে একটি করে বীজ, বীজকে ঘিরে থাকা নরম ও রসাল অংশই খেতে হয়। পাকা ফলের বীজ কালো এবং কাঁচা ফলের বীজ সাদা। বীজ বিষাক্ত। এর বেশ কয়েকটি প্রজাতি ও প্রকরণ আছে। ইংরেজিতে সেগুলোকে কাস্টার্ড অ্যাপল, সুগার অ্যাপল, সুগার পাইন অ্যাপল বলা হয়। বাংলায় ‘আতা’, শরিফা নামে ডাকা হয়। আতার গুণাগুণ : আতায় রয়েছে ভিটামিন এ।

ভিটামিন এ শুধু চোখই ভালো রাখে না, চুলকেও পরিপুষ্ট করে। ডায়াবেটিস রোগীদের আতা খাওয়া চলবে না। যাদের অ্যাজমার টান রয়েছে তাদের উচিত নিয়মিত আতা খাওয়া। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন বি-৬ শ্বাসনালির প্রদাহকে কমায়। ভবিষ্যতে অ্যাজমার হাত থেকে বাঁচতে চাইলে, সুরক্ষা কবচ হিসেবে আতা খান। আতায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম কার্ডিয়াম মাসেলকে রিলাক্স রাখতে সাহায্য করে। ফলে, হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এই খনিজ উপাদানটি রক্তপ্রবাহের প্রাচীরকে রিলাক্সে রাখতে সাহায্য করে। যে কারণে রক্তচাপ ক্রমে নিয়ন্ত্রণে আসে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares