| | মঙ্গলবার, ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

বাগেরহাটে নদী ভাঙ্গনে বেড়িবাঁধসহ বাড়ীঘর নদীগর্ভে, ১০ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশিতঃ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ | জুলাই ০৭, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের সাউথখালী ইউনিয়নের ‘আশারআলো’ মসজিদ সংলগ্ন বেড়িবাঁধে নতুন করে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। শনিবার রাত থেকে আকষ্মিক ভাবে বলেশ্বর নদীর ভাঙ্গনে বাঁধের বিভিন্ন অংশের ৩ শত মিটার বেড়িবাঁধ, বেশ কয়েটি বসতবাড়ী-দোকানপাট ও ফসলী নদগর্ভে বিলিন হয়েছে। আরো আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ১০টি গ্রামের বসতবাড়ী ও ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এই অবস্থায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লোকজন বাড়ীঘর সরিয়ে নিচ্ছেন।

এলাকাবাসী জানায়, বিগত ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরের আঘাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারটি লন্ডভন্ড করে দিয়ে শরণখোলা মারা যায় শত-শত মানুষের প্রান কেড়ে নেয়। এরপর সরা বিশ্বের কাছে ‘মৃত্যুপুরি’ পরিচিতি পাওয়া বাগেরহাটের শরণখোলার সর্বস্তরের মানুষ বলেশ্বর নদী শাষন করে টেকসই- উচু বেড়িবাঁধের দাবীতে আন্দোলন শুরু করে। অব্যাহত এই আন্দোলনের মুখে সরকার ২০১৭ সালে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ানে এই বেড়িবাঁধটি টেকসই ও উচু করে নির্মানের জন্য ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

এই প্রকল্পের কাজটি পায় চীনের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে প্রকল্প থেকে বলেশ্বর নদী শাষন বাদ দেয়া হয়। জরাজীর্ন বেড়িবাঁধের উপ দিয়ে শুরু হয় নতুন বেড়িবাঁধ নির্মান কাজ। চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বোড়বাঁধের চরম ঝঁকিপূর্ন অংশে কাজ না করে কম ঝুকিপূর্ন অংশে কাজ করতে থাকে। এই অবস্থায় বোড়বাঁধের চরম ঝঁকিপূর্ন অংশের ভাঙত চলতে থাকে। গত ৪ মে রাতে সাইক্লোন ‘ফণী’র আঘাতে বেড়িবাঁটির বিভিন্ন অংশ বলেশ্বর নদীতে বিলিন হয়ে যায়। সর্বশেষ শনিবার রাত থেকে আকষ্মিক ভাবে বলেশ্বর নদীর ভাঙ্গনে বাঁধের বিভিন্ন অংশের ৩ শত মিটার বেড়িবাঁধ, বেশ কয়েটি বসতবাড়ী-দোকানপাট ও ফসলী নদগর্ভে বিলিন হয়েছে।

বাগেরহাটে কিশোরীকে গণধর্ষণ, ২ যুবকের যাবজ্জীবন

নতুন করে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ওই এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ১০টি গ্রামের আমনের বীজতলা, মাছের খামার ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। আরো আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। নতুন করে বেড়িবাঁধে ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। লোকজন বাড়ীঘর সরিয়ে নিচ্ছেন।

সাউথখালী ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদী সংলগ্ন আশার আলো মসজিদের দক্ষিন পাশ থেকে পাউবোর ৩ শত মিটার বেড়িবাঁধসহ বেশ কয়েটি বসতবাড়ী-দোকানপাট ও ফসলী বলেশ্বর নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। আরো আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। এখনো ভাঙ্গ অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি এখনশাউথখালী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের বাড়ীঘরে পানি ওঠানামা করছে। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাাত্রা ব্যাহত, আমনের বীজতলা ও মাছের খামার তলিয়ে গেছে।

বাগেরহাট পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী, নাহিদ-উদ- জামান বলেন, এখন জোয়ারের পানির উচ্চতা কম থাকায় ভাঙ্গা অংশ দিয়ে লোকালয়ে খুব বেশী পানি প্রবেশ করতে পারেনি। সোমবার সকাল থেকে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় রিংবাঁধ নির্মান কাজ শুরু হবে। রিংবাঁধ নিমার্ন শেষ হলে ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে আর পানি প্রবেশ করতে পারবে না। বলেশ্বর নদী শাষনের বিশ্ব ব্যাংকে কাছে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares