| | রবিবার, ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী |

হাঁটু ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পেতে

প্রকাশিতঃ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | জুন ২৯, ২০১৯

হাঁটু ব্যথা সব বয়সী মানুষের হতে পারে। হাঁটুর মাংসপেশি, লিগামেন্ট, মেনিসকাস, বারসা, তরুণাস্থি বা অস্থির বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে হাঁটু ব্যথা হতে পারে।

কারণ

হাঁটুতে আঘাত বা খেলাধুলার সময় হাঁটু মচকানোর ফলে লিগামেন্ট আংশিক বা পুরোপুরি ছিঁড়ে যায়। ফলে হাঁটুতে ব্যথা ও হাঁটু ফুলে যায়। হাঁটুর ভেতর দুই দিকে রাবারের মতো স্থিতিস্থাপক বস্তু থাকে। এদের নাম মেনিসকাস। আঘাতজনিত বা ক্ষয়জনিত কারণে এ মেনিসকাস ইনজুরি হয়। ফলে হাঁটুতে ব্যথা ও ফুলে যায়। হাঁটুর চারপাশে অনেক বারসা থাকে, যা এক ধরনের থলে, এর ভেতর তরল পদার্থ থাকে। বারসা হাঁটুর চারদিকের টেন্ডনের চলাফেরা মসৃণ রাখে। বারবার ঘর্ষণের ফলে প্রদাহজনিত কারণে বারসা ফুলে হাঁটুতে ব্যথা হয়। হাঁটুর বাটির নিচের প্রান্ত থেকে পেটেলার টেন্ডন সিন বোনকে সংযুক্ত করে।

এই টেন্ডনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে প্রদাহজনিত কারণে পেটেলার টেন্ডনাইটিস হয়। ফলে হাঁটুতে ব্যথা হয়। আঘাত বা ক্ষয়জনিত কারণে হাঁটুর হাড় বা তরুণাস্থির কোনো অংশ ভেঙে যায় এবং এই ভাঙা অংশ জোড়ার ভেতর থেকে যায়। যাকে লোজ বডি বলে। এই লোজ বডি হাঁটু ব্যথার কারণ এবং হাঁটু নড়াচড়াতে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এই লিগামেন্ট সংকুচিত বা টাইট হয়ে যায়। যার ফলে চলাফেরার সময় তা ঊরুর হাড়ের বাইরের অংশের দিকে ঘষা খায় ও ব্যথা হয়।

চিকিৎসা

আঘাতজনিত কারণে হাঁটু ব্যথা ওফুলে গেলে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। হাঁটুতে বরফের সেঁক দেওয়া। হাঁটুতে ক্রেপ ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা। শোবার সময় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে হাঁটু উঁচু করে রাখা। এছাড়া রক্তও প্রস্রাব, ব্লাড সুগার, ইউরিক এসিড পরীক্ষা করা । ভিডিআরএল, এমটি হাঁটুর, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং আর্থোস্কপি। হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে পায়ে প্লাস্টার করে রাখা। ইন্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট এবং পস্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে আর্থোস্কপির সাহায্যে ছেঁড়া লিগামেন্ট বা মেনিসকাস ছিঁড়ে গেলে আর্থোস্কপির সাহায্যে মেনিসকাস মেরামত বা মেনিসকাস ট্রিমিং করা।

বারসাইটিসের ক্ষেত্রে বারসাতে যাতে আঘাত না লাগে, লক্ষ রাখা। সিরিঞ্জ দিয়ে বারসার তরল বের করা। বারসার ভেতরে ইনজেকশন স্টেরয়েড দেওয়া যেতে পারে। বিশ্রাম ও পাশাপাশি ওষুধ সেবন করা। মেকানিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রে লোজ বডি, হাঁটু নড়াচড়া বাধাপ্রাপ্ত না হলে কিছু করা লাগে না। তবে হাঁটু আটকে গেলে অপারেশন করে লোজ বডি বের করা। হাঁটুর বাটি সরে গেলে। বাটি আগের সঠিক জায়গায় বসানোর পর পায়ে প্লাস্টার করে চার সপ্তাহ রাখা। কোনো ক্ষেত্রে অপারেশন করা। ইনফেকশনের ক্ষেত্রে বিশ্রামের পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা। অস্টিওআর্থ্রাইটিস বিশ্রামের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, গ্লুকোজঅ্যামাইন ও কনড্রয়টিন সালফেট-জাতীয় ওষুধ সেবন করা। অনেক সময় আর্থোস্কপির সাহায্যে হাঁটু সেভিং করা। প্রদাহজনিত অন্যান্য কারণে হলে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়া।

ডা. আমিনা আফরোজ অনু

এমবিবিএস (ডিইউ), (ডিএমইউ)

ডেলটা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

লেকচারার, ট্রমা আইএমটি অ্যান্ড ম্যাটস

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares