| | শুক্রবার, ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ই সফর, ১৪৪১ হিজরী |

পটিয়ায় মৌসুমী ফল আম-কাঠাল’র বাজার সয়লাভ : ক্রেতাদের ভিড়

প্রকাশিতঃ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ | জুন ২৮, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী : চট্টগ্রামের পটিয়ায় মৌসুমী ফলের বাজার সয়লাভ হয়েছে। এতে করে ক্রেতরা মৌসুমী ফল কিনতে হাট-বাজারে ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে ক্রেতারা মৌসুমী ফলকে ফরমালিনমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে এবার আমের চেয়ে কাঠালের দাম বেশী বলে ক্রেতা সূত্রে জানা গেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এবারের মধুমাসের বৈশাখ থেকেই রমজান পড়ে যাওয়ায় ফলের বাজারে কিছুটা মন্দাভাব থাকলে ও ইতিমধ্যে সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে জমে উঠছে চট্টগ্রামের কৃষি প্রধান জনপদ পটিয়া উপজেলার ভেজালমুক্ত আম কাঠালের মৌসুমী ফলের সেরা হাট পটিয়ার নতুন থানার হাট।

এছাড়া কমবেশী ফল পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় হয়। ভৌগোলিকভাবে বিস্তীর্ণ পাহাড়ী জনপদে সমৃদ্ধতার কারণে পটিয়া পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর মৌসুমী ফল আম, কাঁঠাল, জাম, আনারস, লেবু, পেয়ারার জন্য এই বাজারের সুখ্যাতি ব্যাপক। এবারও সকল ফলের বাম্পার ফলন হয়। ফলে জ্যৈষ্ঠ মাসের আগেই পটিয়ার বিভিন্ন হাট বাজারে বসছে বিশাল আম কাঁঠালের হাট। এসব ফল পটিয়ার কেলিশহরে উৎপাদন বেশি হয়। এ বাজারে শুক্রবার ও সোমবার হাট বসে থাকে। এবাজারে দশ লক্ষাধিক টাকার ফলের কেনাবেচা হয় বলে ফলের দোকানি আবদুল নুর সওদাগর জানান।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসে নানান মৌসুমী ফল ক্রয়ের উদ্দেশ্যে। সড়কপথে যোগাযোগ ও তুলনামূলক কম দামে পাইকারি ক্রয় বিক্রয় হয় বলে পটিয়ায় মৌসুমি ফলের হাট জমজমাট থাকে। আবার পটিয়া মধ্যবর্তী শান্তির হাট জমে কাঁচা বাজারসহ আম, কাঠাল সহ মৌসুমী ফলের। পটিয়া উপজেলার পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ে বড় একটি অংশ উঁচুুনিচু টিলা আর পাহাড়বেষ্টিত বলে এসব ফল সহজে চাষাবাদ হয় ঐ এলাকায়। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন নানা জাতের ফল চাষাবাদ, বাজারজাত ও বিক্রয়ের অন্যতম একটি স্থান হলো পটিয়া উপজেলার পৌরসদরে কামাল বাজার, ডাক বাংলো, বাস ষ্টেশন, কমল মুন্সির হাট, শান্তির হাট, আদালত রোড, ছবুর রোড, রেলওয়ে ষ্টেশনে, খরনা, কচুয়াই, রৌশন হাট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মডেল ফার্মেসী উদ্বোধন

একসময় সীমিত আকারে বড় ও এর আশপাশের এলাকায় আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, জাম্বুরাসহ নানা জাতের মৌসুমি ফল উৎপাদন করা হতো। এখন এসব এলাকার সর্বত্রই আর্থিক উপার্জনের কথা ভেবেই বসতবাড়ির আঙিনা, খোলা পতিত জমি, এমনকি বন্দোবস্তি জমি নিয়ে খাস জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফল চাষাবাদ করা হচ্ছে। এভাবে পটিয়ার খরনা, কেলিশহর, কচুয়াই, হাইদগাঁও এলাকায় বেশ কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ফলের বাগান গড়ে উঠেছে। এসব বাগানে বানিজ্যিকভাবে প্রচুর পরিমাণে আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু, পেঁয়ারা, পেপে, ইত্যাদি চাষাবাদ করে বছরে প্রচুর পরিমাণে আয় হয় বলে তথ্য সূত্রে প্রকাশ। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ফলের চাষ হয় থাকে।

এসব এলাকায় কয়েকশত আম, কাঁঠাল, লেবুসহ বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতিকালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠছে লিচু বাগান। মধুফলের এই মৌসুম এলেই পটিয়ার বাজারের চেহারা বদলে যায়। বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশে চলে আম, জাম, কাঁঠাল, আনারস, জামরুল ও লিচু, লেবু’র খুচরা পাইকারি বিক্রেতাদের বিকিকিনি। এলাকাটি তখন একটি মিষ্টিমধুর গন্ধে ভরে যায়। অধিকাংশ সময় বাজারের নির্দিষ্ট স্থানে সংকুলান না হওয়ায় বিক্রেতারা রাস্তার ওপরেই ফলের পসরা সাজিয়ে বসে পড়ে বিকিকিনি করতে। হাট বারের আগের রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আম, কাঁঠাল, আনারস নিয়ে বিক্রেতারা বাজারে আসতে থাকে। মূলত পাইকারি বিক্রয় বেশী হলেও খুচরা বিক্রয় পরিমাণও কম নয়। পাইকাররা হাট বার ভোর থেকেই স্থানীয় চাষী ও বিক্রেতাদের কাছ থেকেই ফল সংগ্রহ শুরু করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাইকাররা তাঁদের সংগ্রহ করা ফল নিজস্ব পরিবহনে করে বোঝাই করে নিয়ে যায়। এখানকার কাঁঠাল রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে পাইকাররা। এবাজারে আম কাঁঠাল, বিকিকিনি বেশি হলেও আনারস, লেবুর বিক্রয় উল্লেখ করার মতো। আনারস প্রতি হালি ৫০-১০০ টাকা দরে, লেবু প্রতি ডজন ৫০-৬০ টাকা দরে, পাকা আম ৭০-১০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী যান “ঘোড়ার গাড়ী” কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে

এছাড়াও কলা, আমলকি, জলপাইসহ নানান ফল কেনাবেচা হয় বছরের অন্যান্য সময়। পটিয়া পৌরসভার নতুন থানার হাটের মৌসুমি ফলের বাহার বসে বলে পটিয়ার পৌর ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল খালেক ও ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মন্নান এবং ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলল শেখ সাইফুল ইসলাম জানান। তারা বলেন, আগামীতে ফলের আলাদা বাজার বসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পটিয়া থানা হাটটি আরো সুসজ্জিত করে তোলার জন্য আমরা বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছি। আর তা খুব শীঘ্রই পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটিয়া উপজেলা মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা টিটন কুমার দে বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় পটিয়ার প্রতিটি বাজারের প্রায় সব মৌসুমী ফলই ফরমালিন তথা বিষমুক্ত। তবে বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় ফল দ্রুত উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্থানীয় চাষীরাও কীটনাশক, রাসায়নিক সার ও ফরমালিন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

মালিকের স্বার্থ দেখলে চলবে না, সাংবাদিকদের শিল্পমন্ত্রী

এদিকে বিভিন্ন মৌসুমী ফল ক্রেতাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, মৌসুমী ফলে ফরমালিন থাকায় আমরা শংকিত। কেননা এ ফল খেলে নানান রোগব্যাধি সৃষ্টি হয়। সুস্বাদু মৌসুমী ফল খেলে যেখানে শরীর ভাল থাকার কথা সেখানে ফরমালিমুক্ত ফল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকে। বিষয়টি পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাবিবুল হাসান ও সহকারী কমিশনার ভূমি পটিয়া ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে পটিয়াতে মৌসুমী ফলকে ফরমালিনমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares