| | মঙ্গলবার, ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী |

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থল বন্দরে আবারো রাজস্ব ঘাটতি

প্রকাশিতঃ ১১:৪০ অপরাহ্ণ | জুন ২১, ২০১৯

ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আবারো রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের গত ১১ মাসেও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সোনামসজিদ স্থল বন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে গত ১১ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯৫ কোটি ৯৮ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে ২৯০ কোটি ২৫ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৫ কোটি ৭২ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা রাজস্ব আয় কম হয়েছে। স্থানীয় ভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ ডা: সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল ব্যবসা বাণিজ্যের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করলে গত মার্চ ও এপ্রিল মাস থেকে স্থলবন্দরে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা কিছুটা ফিরে আসলেও গত মে মাস থেকে আবারও ভাটা পড়েছে আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্যে।

বর্তমানে বন্দর দিয়ে ৩৫ ধরনের আমদানী যোগ্য পন্যের মধ্যে আসছে মাত্র ৭ ধরনের পন্য আমদানী হচ্ছে। বর্তমানে সেনামসজিদ স্থলবন্দর পিয়াজ পাথরে বন্দরে পরিনত হয়েছে। যে গুলোর আমদানীর রাজস্ব নেই বললেই চলে। মার্চ-এপ্রিলে বিভিন্ন ধরনের ফল আমদানী হলেও গত মে মাসে স্থলবন্দরে বাণিজ্যেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠন গুলির সমন্নয়ের অভাব, কাস্টমসের শতভাগ রাজস্ব আদায়ে কড়াকড়ি ও জনবল সংকটের ফলে যথাসময়ে পণ্য ছাড়ে বিলম্ব হয়ে থাকে।

এছাড়াও স্থলবন্দরের পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে ত্রুটি। ফলে এই বন্দর দিয়ে অনেকেই আমদানী করতে অনিহা প্রকাশ করে। কাস্টমস দপ্তর সূত্রে জানাগেছে-গত ১১ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯৫ কোটি ৯৮ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে ২৯০ কোটি ২৫ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৫ কোটি ৭২ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা রাজস্ব আয় কম হয়েছে। কাস্টমসের সূত্র থেকে জানা যায়, সোনামসজিদ বন্দরে কাস্টমস কতৃক শত ভাগ রাজস্ব আদায়ের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা অন্য বন্দরে সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় ঐ সব বন্দর দিয়ে পন্য আমদানী করছে।

বাগআঁচড়া টু বাঁকড়া সড়ক এখন মরন ফাঁদ ! আতঙ্কে এলাকাবাসী

অন্যদিকে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট নেতৃবৃন্দ জানায়, দেশের অন্য বন্দরগুলোতে আমদানিকৃত পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মেনে চললে সোনামসজিদ বন্দরেও রাজস্ব আয় বাড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিএন্ডএফ এজেন্ট জানান, বর্তমানে সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েসনের কর্মকর্তারা পূর্বের কমিটির কর্মকর্তাদের মতই কার্যক্রম পরিচালনা করায় বন্দরে আমদানী-রপ্তানী বানিজ্য মুখথুবরে পড়েছে।

বিশেষ করে সি এ্যান্ড এফ এজেন্টদের মধ্যে রয়েছে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগীতা। ফলে তারা ব্যবসা বানিজ্যে মনোযোগী না হয়ে ক্ষমতার দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। আমদানী-রপ্তানীর গতিশীলতা ফিরাতে বর্তমানে সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েসনের কর্মকর্তাদের কোন ভূমিকা নেই। এতে করে রাজস্ব আয় কমেছে অনেক।

এদিকে আমদানী কমে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক হয়ে পড়েছে বেকার। পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিডেটের পোর্ট ম্যানেজার মো: ময়নুল ইসলাম জানান, ইতি পূর্বে পানামায় ৩৫০টি থেকে ৪৫০টি ভারতীয় পন্যবাহী ট্রাক পানামা ইয়ার্ডের ভিতরে প্রবেশ করলেও মে মাসের প্রথম থেকে ১০০টি থেকে ১৭৫ টি পর্য়ন্ত ভারতীয় পন্যবাহী ট্রাক পানামায় প্রবেশ করছে। পণ্য কম আসায় কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

যশোরে র‌্যাবের অভিযানে ৫৭ লিটার দেশীয় বাংলা মদসহ আটক-১

সোনামসজিদ শ্রমিক সমন্নয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মুখলেসুর রহমান জানান, গত মে মাস থেকে পন্য আমদানীর ক্ষেত্রে যে অবস্থা সূষ্টি হয়েছে তা থেকে পনামায় কমর্রত শ্রমিকের ৪ ভাগের ৩ ভাগ শ্রমিককের মধ্যে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, আমদানী-রপ্তানী ক্ষেত্রে যে জটিলতা দেখা দিয়েছে তা সমন্নয়ের ভিত্তিতে সমাধান না করা হলে বন্দরের বানজ্যিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে রাজস্ব আদায়ে, শ্রমিক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারীরা।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares