| | বুধবার, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

চট্টগ্রাম -দোহাজারি রেলপথে যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড়ঃ জনভোগান্তি

প্রকাশিতঃ ১১:০৩ অপরাহ্ণ | জুন ১২, ২০১৯

পটিয়া(চট্টগ্রাম)থেকে সেলিম চৌধুরীঃ-চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে বেড়েছে যাত্রী। সে সাথে বেড়েছে সরকারের আয়। এ পথে ৫টি বগি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে দুই জোড়া যাত্রীবাহী রেল। যাত্রী বাড়ায় গাদাগাদি করে রেলবগিতে যাতায়াত করছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ। অনেকে ছাদে উঠে পড়ছেন বগিতে ঠাই না হওয়ায়। আবার অনেক বৃদ্ধ ও মহিলারা ট্রেনে উঠতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাছে বাডিতে । ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণ।
যাত্রীর চেয়ে রেলে বগি কম হওয়ায় উপচে পড়া ভীড়। এতে নির্ধারিত গন্তব্য যাত্রায় নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। রেলযাত্রীদের দাবি, এ ভোগান্তি লাঘবে যদি আরো কয়েকটি বগি বাড়ানো ও আর এক জোড়া ট্রেন যদি এ পথে চলাচলা করে তাহলে যাত্রীদের যাত্রা হতো স্বস্তিদায়ক হবে।
 রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারি পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার পথটি রেলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এক সময় চার জোড়া যাত্রীবাহী রেল আসা যাওয়া করতো। কিন্তু ট্রেনের কোচ ও ইঞ্জিন সংকটের কারণে ধীরে ধীরে ট্রেসন সার্ভিস কমিয়ে দেয়া হয়। নব্বইয়ের দশকে সংস্কারবিহীন এ পথে যাত্রীবাহী রেল এক জোড়ায় নামিয়ে আনা হয়। এতে বিপাকে পড়েন দক্ষিণ চট্টগ্রামের ট্রেন যাত্রী সাধারণ।
http://dainiksomoysangbad24.com/archives/65001
গত একদশকে রেল লাইন, সেতু, রেল গেইট ও স্টেশন নির্মাণের মধ্য দিয়ে নতুন রূপ দেওয়া হয় এ রেলপথকে। চট্টগ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৩ নভেম্বর আরো একজোড়া রেল যুক্ত করা হয়। ফলে দুই জোড়া রেল সকাল-বিকেল এ পথে চলাচল শুরু করলে রেলমুখী হয় দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রী সাধারণ।
পটিয়া পৌরসদরে সদরের বাসিন্দা আবদুর রহমান বাবুল ও মোস্তাক আহমদ,আবুল কালাম আজাদ জানান এ রেল সড়ক পথে নগর যাতায়াত খুবই কস্টকর চট্টগ্রাম নগররীতে কালুরঘাট সেতুতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকা পড়তে হয়।তাছাডা  বোয়ালখালীতে গত দুই দশক ধরে বাস সার্ভিস বন্ধ ।
এসব ঝক্কি ঝামেলা এড়িয়ে সময় ও অর্থ বাঁচাতে রেলে যাতায়াত নিরাপদ। এ সময় পাশে থাকা আরেক যাত্রী বোয়ালখালী উপজেলার আকুবদন্ডী গ্রামের মোঃ ইউসুপ বলেন, যানজট মুক্ত ও কম খরচে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা হচ্ছে রেল। এ রুটে যদি আর এক জোড়া ট্রেন চলাচল করতো, তাহলে সড়ক পথে চাপ ও দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যেতো।
বগি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে সরকারি চাকুরিজীবী মো. আমজাদ হোসেন বলেন প্রতিদিনই যাত্রী ভীড় থাকছে এ রেল পথে। বিশেষ করে সকালে নগরমুখী ট্রেনটিতে প্রচুর ভীড়। এ সময় অনেকেই ট্রেনে উঠতেই পারে না। বগি কম থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
পটিয়া স্টেশন এলাকার মোঃ শহিদ জানান সকাল ও সন্ধ্যায় প্রচুর যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে ৪টি রেল। কালুরঘাট সেতুর ভোগান্তি এড়াতে রেলমুখী হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রাম মানুষজন। সে অনুযায়ী যদি সেবাও বাড়ানো হয় তবে সরকারি রাজস্ব আরো বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রয়েছে ১৭টি স্টেশন। এর মধ্যে কালুরঘাট সেতুর পর গোমদ-ী, বেঙ্গুরা, ধলঘাট, খানমোহনা, পটিয়া, চক্রশালা, খরনা, কাঞ্চন নগর, হাশিমপুর, খাঁনহাট ও দোহাজারী স্টেশন। গোমদ-ী স্টেশন থেকে দোহাজারী স্টেশন পর্যন্ত প্রতিজন যাত্রীর টিকিট মূল্য ৮টাকা ও গোমদ-ী স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম নগরে যাওয়ার টিকিট মূল্য ৬ টাকা।
এ রেল পথের ১৭টি স্টেশনের মধ্যে গোমদ-ী রেলওয়ে স্টেশনে গত বছরের অক্টোবর মাসে সাড়ে ১৬ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে, যাত্রী ছিলেন ৩ হাজার ১শত ৫৭ জন। দুই জোড়া রেল চালুর পর নভেম্বর মাসে টিকিট বিক্রি হয়েছে ২৭ হাজার ৯শত ১৫ টাকার ও যাত্রী ছিলেন ৫ হাজার ৯৭ জন।
ডিসেম্বর মাসে টিকিট বিক্রি হয়েছে ৪৩ হাজার ৬শত ৫৮ টাকার ও যাত্রী ছিলেন ৭ হাজার ৮শত ২১ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হয়েছে ২ লক্ষ ১৩ হাজার ১শত ২৩ টাকার ও যাত্রী ছিলেন ৩৬ হাজার ৫৭ জন।
গোমদ-ী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন আগের তুলনায় এ স্টেশনে যাত্রী বেড়েছে দ্বিগুণ। রেলযাত্রীরা এখন অনেক সচেতন। নিজে তো রেলের টিকিট কাটেনই পাশাপাশি অন্যযাত্রীও টিকিট নিয়েছেন কি না জানতে চান যাত্রীরা।
তিনি আরো বলেন,  আপ-ডাউন রেলে ৫টি বগি নিয়মিত আসা যাওয়া করছে। যাত্রীদের কথা চিন্তা করে আরো এক জোডা ট্রেন বাডানোর দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ট্রেন যাএীরা।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares