| | মঙ্গলবার, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

চট্টগ্রাম নগরসহ ১৪ উপজেলায় ৮৬ শতাংশ আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত

প্রকাশিতঃ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ | জুন ১২, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরীঃ-চট্টগ্রামে নগরী সহ ১৪ উপজেলায় প্রান্তিক মানুষের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে এ বিভাগে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আর সুবিধা পাবে কিছু দিনের মধ্য এ লক্ষ্যে গৃহীত ৬৭টি বড় প্রকল্পের মধ্যে ৫৮টিই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে সুএে জানাগেছে। এ  প্রকল্পের সংখ্যার  থেকে বাস্তবায়নের হার ৮৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বাকী ৯ প্রকল্পের মধ্যে তিনটির বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আর ছয়টি প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
২৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহ নির্মাণও প্রকল্পের ৯৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবমিলিয়ে বর্তমান সরকারের বৈপ্লবিক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ। তাদের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্যতম আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় ৫০ হাজার ছিন্নমূল পরিবার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানান গৃহহীন জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা পাচ্ছেন প্রায় ৩ হাজার গৃহ। প্রতিটি গৃহের নির্মাণ ব্যয় এক লাখ টাকা। এলাকায় এসব গৃহ ‘লাখ টাকার সরকারি ঘর হিসেবে জনগনের কাছে  পরিচিতি লাভ করেছে। এর মধ্যে ৯৩ শতাংশ গৃহ নির্মাণ শেষে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হচ্ছে ২৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অনুকূলে এ টাকা বরাদ্দ করে বর্তমান সরকার। চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার মধ্যে ১১উপজেলায় ২ হাজার ৭৬১টি গৃহ নির্মাণ কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকী ৩ উপজেলায় ১৯৮টি গৃহ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে বলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। ৩ উপজেলায় বাকী রয়েছে ৭ শতাংশ গৃহ নির্মাণ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১১ উপজেলায় সম্পন্ন হওয়া ২ হাজার ৭৬১টি গৃহ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
নির্মাণ কাজ চলমান আছে ৩ উপজেলার ১৯৮ টি ঘরের। এখানে ব্যয় হবে ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন জানান, আশ্রয়হীন মানুষের ঠিকানা করে দিতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় গড়ে দেয়া হচ্ছে ২৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ হাজারের মতো বাসগৃহ। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, বাঁশখালীতে ২৫২টি গৃহ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্টদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের তত্বাবধানে এসব বাসস্থান নির্মাণ কাজ হয়েছে। নির্মাণের পর ১৬৫টি ঘর বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে লোহাগাড়ায়। এর পেছনে খরচ ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সাতকানিয়ায় ৩ কোটি ১২ লাখ টাকায় ব্যয় করে গড়ে তোলা হয়েছে ৩১২টি বাসগৃহ। চন্দনাইশে ১৬২ ঘরের নির্মাণ কাজ শেষে সংশ্লিষ্টদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে খরচ করা হয় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
বোয়ালখালীতে ১৮০টি ঘর নির্মাণ করতে ব্যয় করা হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের অধীনে সবচেয়ে বেশি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে পটিয়া উপজেলায়। এখানে ৩৯৬টি ঘর নির্মাণ করা হয় ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে। সন্দ্বীপে ২৫২টি ঘর নির্মাণ করে সেগুলোও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা খরচ হয়। হাটহাজারীতে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয় ২৭০টি বাসগৃহ। ফটিকছড়িতে র্নিমিত হয়েছে ৩৬০টি বাসগৃহ। যাতে ব্যয় করা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে রাউজানে নির্মাণ করা হয়েছে ২৫২টি গৃহ। সার্বিক কাজ সম্পন্ন করে সেগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। একইভাবে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে ১৬০টি বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা গৃহ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব পালন করছেন। যাতে সরকারি কাজে কোন ধরনের গাফিলতি না হয়। ৩ উপজেলায় চলমান ১৯৮টি গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে মীরসরাইয়ে ১ কোটি ৮ লাখ ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ১০৮টি বাসগৃহ। আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে ৯০টি গৃহ। যাতে ব্যয় করা হচ্ছে ৯০ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব গৃহ নির্মাণ করা হয়। হাটহাজারীতেও এ ধরনের ২৭০টি গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এতে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হয়।
http://dainiksomoysangbad24.com/archives/64923
এদিকে নতুন আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে পুর্নবাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সন্দ্বীপে ভাষা সৈনিক সালাম আশ্রয়ণ প্রকল্প, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন আশ্রয়ণ প্রকল্প ও ভাষা সৈনিক শহীদ জব্বার আশ্রয়ণ প্রকল্প। তিন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অনুমোদনের পর সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ কর্তৃক ব্যারাক নির্মাণ সম্পন্ন হলে ৬৩০ পরিবার পুর্নবাসিত হবে।
সীতাকুন্ডের নিমতলী ও বাঁশখালীর জংগল চাম্বল প্রকল্প দুটিও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। দুই প্রকল্পে সুবিধাভোগী হবে ৬৫ পরিবার। সন্দ্বীপ উপজেলায় কমরেড মোজাফফর আহমদ আশ্রয়ণ প্রকল্পটিও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যাতে পুর্নবাসিত হবে ৫০ পরিবার।
নদী ভাঙন পাহাড়ধ্বস ও গৃহহীন মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বর্তমান সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প। সমাজের নানা সুবিধা বঞ্চিত মানুষ এখানে এসে নিরাপদ আশ্রয় পায়। এখানে বসবাসরত মানুষ জীবনমান উন্নয়নে চায় কর্মসংস্থানের সুযোগ।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares