| | শনিবার, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী |

স্বাধীনতা ৪৮ বছর পর চন্দনাইশে ৪ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হচ্চে ব্রিজ

প্রকাশিতঃ ১১:৫৭ অপরাহ্ণ | জুন ১০, ২০১৯

পটিয়া( চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরীঃ দক্ষিণ চট্টগ্রামে চন্দনাইশের দ্রুত নির্মাণ কাজ চলছে জিরোবুক ব্রিজের। ফলে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর পাহাড়ি জনপথ ধোপাছড়ির সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ব্রিজটি পুরোপুরি নির্মাণ কাজ শেষ হলে ধোপাছড়ি বাজার থেকে চিরিংঘাটা হয়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। ধোপাছড়ির মানুষ ৪ চাকার গাড়ি করে চিরিংঘাটা হয়ে লালুটিয়া চৌকিদার ফাঁড়ি মাষ্টারঘোনা থেকে সরাসরি দোহাজারী পৌরসভা সদরে আসা-যাওয়া করতে পারবেন জনগন নির্বিগ্নে। এর মধ্যো জিরোবুক ব্রিজের ৪৫% কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা ইঞ্জিয়িার ম. বিল্লাল হোসেন।

তিনি বলেন, ৮১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭.৩ মি. প্রস্থের ব্রিজটি ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করা হয় ঠিকাদারী প্রতিষ্টান আনোয়ার ল্যান্ড মার্ককে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রিজটি নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করা হয় উক্ত প্রতিষ্ঠানকে। ব্রিজটি নির্মাণে ২ বছর সময় নির্ধারণ করা হলেও দূর্গম পাহাড়ি জনপথ হওয়ায় ব্রিজটির নির্মাণ সামগ্রী আনা-নেয়ায় সময় প্রয়োজন হচ্ছে। তাই পুরোপুরি নির্মাণ কাজ শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরো কিছুদিন অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে জানালেন তিনি।

গুইমারা রিজিয়নের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

জানা যায়, নদী ও পাহাড় বেষ্টিত দূর্গম জনপথ ধোপাছড়ি ইউনিয়নের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সৃষ্টির অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার দলীয় এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরী দোহাজারী চৌকিদার ফাঁড়ি মাষ্টারঘোনা এলাকা থেকে চিরিংঘাটা হয়ে ধোপাছড়ি বাজারের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় জিরোবুক ব্রিজটি নির্মাণের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেন তিনি। উঁচুনিচু পাহাড় বেয়ে সড়কটি দোহাজারী চৌকিদার ফাঁড়ি মাষ্টারঘোনা থেকে চলে গেছে চিরিংঘাটা হয়ে সরাসরি ধোপাছড়ি বাজারে। বর্তমানে সড়কটির অর্ধেক কার্পেটিং ও অর্ধেক ব্রিক সলিন দ্বারা কাজ করা হয়েছে। ব্রিজটি নির্মিত হলে পুরো সড়কটি কার্পেটিং করা হবে বলে জানান উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বলেন কোয়ালিটিপূর্ণ কাজ হচ্ছে। ব্রিজের নির্মাণ শেষ হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানে আসবে আমূল পরিবর্তন।

চন্দনাইশ উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম বাবর আলী ইনু বলেন, ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে যোগাযোগ অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে। ধোপাছড়ি ও চিরিংঘাটা এলাকার মানুষ যুগ যুগ ধরে শুধুমাত্র সড়ক যোগাযোগের অপ্রতুলতার কারণে নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসলেও ব্রিজটি নির্মাণ শেষ হলে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে বৃদ্ধি পাবে নাগরিক অনেক সুযোগ সুবিধা। এছাড়া এ অঞ্চলে অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন পরিবহন প্রবেশের সুযোগ না থাকায় মুমূর্ষু রোগীরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পেতো না। অগ্নি দুর্ঘটনার মতো ভয়াবহ কোনো ঘটনা ঘটলেও ঢুকতে পারে না ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও জরুরি নিরাপত্তার প্রয়োজনে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িও সহজে ঢুকতে পারে না এ অঞ্চলে। ব্রিজটি নির্মাণ শেষ হলে এসকল সুযোগ সুবিধা পাবে দূর্গম ধোপাছড়িবাসী।

ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সড়কপথে সরাসরি বাজারজাত করতে পারবে। ফসলের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিশ্চিত হবে তাদের। এছাড়া মাষ্টারঘোনা থেকে সড়ক পথে ধোপাছড়ি যেতে পাহাড়ি অঞ্চলের মনোরম প্র্রাকৃতিক পরিবেশ যে কোন ভ্রমণ পিপাসু মানুষের মন কাড়ে। জিরোবুক ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে এখানে মানুষের আনাঘোনা যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি সৃষ্টি হবে পর্যটনের অপার সম্ভাবনাও।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares