| | বুধবার, ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী |

আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকবে জাপান

প্রকাশিতঃ ৮:১০ অপরাহ্ণ | মে ২৮, ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক :জাপান এবং এর জনগণ আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় জাপান আমাদের পাশেই থাকবে।জাপানে রাষ্ট্রীয় সফর শুরুর আগে মঙ্গলবার দেশটির অন্যতম শীর্ষ গণমাধ্যম দ্য জাপান টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন।নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন। ২৮-৩০ মের টোকিও সফরের জন্য মঙ্গলবার সকালে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এটাই তার প্রথম জাপান সফর। এর আগে ২০১৪ সালে তিনি জাপান সফর করেন।

ঈদের কেনাকাটার সময় বোমা হামলা, শিশুসহ নিহত ১২

নিবন্ধে শেখ হাসিনা বলেছেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। বাংলাদেশের জনগণ ‘কারোর পেছনে থাকবে না’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই সামনে এগিয়েছে। এটাই ছিল তাদের এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি। এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫-তে উন্নীত হয়েছে। ‘উন্নয়নের জন্য জাপান-বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শিরোনামে নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আমরা আশা করছি, এই বছর এই প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ তে উন্নীত হবে। খুব দ্রুত এই প্রবৃদ্ধি দুই সংখ্যায় উন্নীত হবে বলে আমি আশা করি। বাংলাদেশকে নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভিশন ২০২১’ এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এখন আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হয়ে উঠতে চাই। আর এই লক্ষ্যে আমরা দেশের তরুণ সমাজকে মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলছি। জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানুষের উন্নততর জীবনমান নিশ্চিত করতে চলমান বৃহৎ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই বিনিয়োগের সবচেয়ে উদার ও উপযোগী পরিবেশের সুযোগ দিচ্ছে।

আফগানদের মুহূর্তেই উড়িয়ে দিল ইংল্যান্ড

জাপানি বিনিয়োগকারীদের একটিসহ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা লিখেছেন, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপান সব সময় ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে।মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপানিদের সহায়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জাপানের শিক্ষার্থীরা তাদের খাবারের টাকা বাঁচিয়ে আমাদের সহায়তা পাঠিয়েছে, আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের দুই দেশের পতাকার মধ্যে অনেক সামঞ্জস্য আছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন, জাপানের পতাকা তাকে সূর্যের উদ্ভাসিত আলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। এই পতাকা তাকে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ ও এদেশের দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।    জাতির জনকের কথা স্মরণ করে তার কন্যা বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি থেকে শিল্পায়নের পথে রূপান্তরে জাপানকে অনুসরণে বঙ্গবন্ধু আমাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।

রাহুলের পদত্যাগের বিষয়ে সম্মতি দিলেন সোনিয়া ও প্রিয়াঙ্কা

১৯৭৩ সালের অক্টোবরে বঙ্গবন্ধুর জাপান সফর ও পরের বছর তার অনুরোধে জাপানের পক্ষ থেকে যমুনা (বঙ্গবন্ধু) সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা পরিচালনার কথাও স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী সবার আগে জাপানি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ১৯৯২ সালে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় একটি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে অংশ নিতে আমার জাপানে আসার সুযোগ হয়েছিল। সেসময় জাপানের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ পাই আমি।তিনি লিখেছেন, ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি প্রথম জাপান সফর করি। সেসময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাপান রূপসা সেতু নির্মাণ করে দিয়েছিল। এছাড়া পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইও করে দিয়েছিল।সেসময় দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে দুদেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসায় ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে জাপানি উদ্যোক্তা বাড়তি আগ্রহে আমরা খুবই উৎসাহিত।জাপানকে বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জাপান আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। জাপান আমাদের বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদার। কর্ণফুলি সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেড, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল এবং দেশের প্রধান শহরগুলিতে পানির সরবরাহসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাপানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এদিকে, জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও সেদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।

‘মেয়েদের কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি শিক্ষায় জোর দিতে হবে’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ২৮০ জাপানি কোম্পানি ব্যবসা করছে, যা গত দশকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপ বলছে, জাপানের অনুমোদিত কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ব্যবসায় উন্নতি করছে।বাংলাদেশে বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, আমরা অর্থনীতির সব খাতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের রাস্তা উন্মুক্ত রেখেছি। আমরা বিনিয়োগকারীদের বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে সব ধরনের সহায়তার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণে কোনো বিধিনিষেধ নাই। ২০১৬ সালের জুলাইতে গুলশানে জঙ্গি হামলায় বাংলাদেশি-বিদেশি নাগরিক নিহত হন। বিদেশিদের মধ্যে জাপানের নাগরিকও ছিলেন। এই হামলার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই প্রাণহানির ঘটনায় জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্ব পরীক্ষিত হয়েছে। সেসময় জাপান বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের রজতজয়ন্তী উদযাপন সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০২২ সালে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের রজতজয়ন্তী উদযাপন করবে। আমি নিশ্চিত যে, শান্তি ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার সঙ্গে আমরা আমাদের জনগণের জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করব। আমাদের পতাকা আমাদের একসঙ্গে বেঁধে রাখবে।

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি, ধরা পড়েনি দালাল রফিক

শৈশবে জাপানের জন্য নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাপানের প্রতি টান তিনি তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে পেয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, শৈশব থেকেই জাপান নিয়ে আমার মধ্যে মোহ কাজ করত। আমি জাপানি চিত্রকলা, ক্যালেন্ডার, ডাকটিকেট, পুতুল ইত্যাদি সংগ্রহ করতাম। জাপান সব সময়ই আমার হৃদয়ের কাছে।এই নিবন্ধে তিনি ‘বাংলাদেশকে আরেকটি জাপান হিসেবে গড়তে’ তার বাবার আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন।শেখ হাসিনার এবারের সফরের আগে জাপানে নতুন সাম্রাজ্য শুরু হয়েছে। নতুন যুগকে ‘আশা ও ঐকতানের’ যুগ হিসেবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন এই যুগ আমাদের আরও কাছে টানুক, সম্পর্ক গভীরতর করুক এবং আমাদের শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সহায়তা করুক।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares