| | বৃহস্পতিবার, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

জনপ্রতিনিধিদের জনগণের হৃদয় জয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ৯:১৪ অপরাহ্ণ | মে ২৭, ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক:নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু ভোটে জয়লাভ করলেই চলবে না, জনগণের হৃদয় জয় করতে হবে। আপনি যদি জনস্বার্থে কাজ করেন, যদি মানুষের হৃদয় জয় করতে পারেন তাহলে দেখবেন জনগণই আপনার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে। তাহলে তারা আপনাকে তাদের সেবা করার সুযোগটা বারবার দেবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আপনাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তাই তাদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব রয়েছে। রাজনীতিটা যদি ব্যক্তি স্বার্থে হয় তাহলে সে রাজনীতি কখনও জনগণের কল্যাণ করতে পারে না। খবর বাসসের।সোমবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন তিনি।

 

নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের ওপর বিরাট দায়িত্ব। মনে রাখতে হবে- জনপ্রতিনিধি হওয়া মানেই জনগণের জন্য। শুধু যারা আপনাকে ভোট দিয়েছে তারা নয়, আপনি এলাকার সব মানুষেরই প্রতিনিধি।তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি। কিন্তু যখন প্রধানমন্ত্রী তখন সমগ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দলমত নির্বিশেষে সবার কল্যাণ করাই আমার দায়িত্ব। আপনারাও সেভাবে নিজেকে মনে করবেন এবং স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করবেন।শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বের দরবারে যে মর্যাদার আসন করে নিয়েছে সেটা অব্যাহত থাকবে। আপনারা সেভাবেই কাজ করবেন। আমার তরফ থেকে সবরকম সহযোগিতা পাবেন।বর্তমান সরকারের আমলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৩ জুন জাতীয় সংসদে এ বছরের বাজেট পেশ করা হবে। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হবে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। উন্নয়ন বাজেট যা অতীতে ছিল মাত্র ১৯ হাজার কোটি টাকা সেটার আকার দাঁড়াবে এবার প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়নের ছোঁয়াটা কেবল শহরভিত্তিক নয়, একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামভিত্তিক যেন হয়। আর এবারেও আমরা ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করেছি।দেশের বাজেটের ৯০ শতাংশ সরকার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বাস্তবায়ন করে থাকে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনাদের গণসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এসব প্রতিরোধে একযোগে কাজ করতে হবে।শেখ হাসিনা বলেন, ময়মনসিংহসহ এই অঞ্চলের মানুষের যেন সার্বিকভাবে কল্যাণ হয় সেদিকে দৃষ্টি রেখেই ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন করা হয়েছে। কাজেই নতুন সিটি কর্পোরেশনে কাজের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সচেষ্ট থাকার জন্যেও নির্বাচিতদের প্রতি আহ্বান জানাই।

 

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিব বর্ষ পালন এবং নেদারল্যান্ড সরকারের সহায়তায়তায় সরকার গৃহীত শতবর্ষ মেয়াদী ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে তার সরকারের উদ্যোগও তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র একরামুল হক টিটুকে শপথ বাক্য পাঠ করান। পরে সংরক্ষিত আসনসহ ৪৪ জন কাউন্সিলরকে শপথ বাক্য পাঠ করান এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক।অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক এলাহী চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন।গত ৫ মে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী একরামুল হক টিটু বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। ৩৩টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের জন্য প্রায় ২৪২ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া ১১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৭০ জন। এ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হয়।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares