| | রবিবার, ৩১শে ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী |

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি, ধরা পড়েনি দালাল রফিক

প্রকাশিতঃ ৯:০৮ অপরাহ্ণ | মে ২৭, ২০১৯

নিউজ ডেস্ক: ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ৩৭ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের দুই মামলার একটিতে শরীয়তপুরের দালাল আক্কাস মাতুব্বরকে গত ১৭ মে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয় সিলেটের ইয়াহিয়া ওভারসিজের মালিক এনামুল হক তালুকদার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া।তবে সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়ের করা মামলায় এখনো গ্রেপ্তার হয়নি দালাল রফিকুল ইসলাম। পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে সে।রফিকুলকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে। মামলাটি করা হয় গত ১৬ মে।

সাংবাদিক জোটন চন্দ্র ঘোষের বাবার মৃত্যু

দালাল পারভেজ লিবিয়ায় : মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং ফিরে আসা বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরখানেক ধরে রফিক এলাকায় বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসা করছে। সিলেটের বিশ্বনাথ থানার বৈরাগিবাজারের নদার গ্রামে তার বাড়ি। রফিকের ছেলে পারভেজ লিবিয়ার ত্রিপলিতে থাকে।পারভেজের সেখানে থাকার সুবাদে রফিক বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ শুরু করে। লিবিয়ায় পারভেজের সঙ্গে কাজ করে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ও লিবিয়ান নাগরিক। সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে পারভেজ। সেই বাসাতেই ইতালি পাঠানোর জন্য মানুষদের রাখা হয়। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছে রফিকুলের মেয়ে ও পারভেজের বোন অনন্যা। পারভেজের বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই লেনদেন হয়।

পটিয়া পরিবেশক ব্যবসায়ী সমিতি ইফতার মাহফিল

পরিবারসহ লাপাত্তা রফিকুলভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে ফিরে আসা ভুক্তভোগী সিলেটের সাইদুল ইসলাম বলেন, দালাল রফিকের সঙ্গে ফোনেই পরিচয়। কথায় কথায় একবার ইতালি পাঠানোর কথা বলে। তার ছেলে পারভেজ লিবিয়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। সেখানে নাকি কাজ করে এবং ইতালি প্রায়ই যায় আর লোকও পাঠায়— এ কথাও বলছিল আমাকে।তিনি বলেন, ‘প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকার মতো দেওয়া হইছে তাকে। রফিকের কাছে পুরা টাকাই দেওয়া হইছে। আমার এতগুলা টাকা গেছে, আমি মামলা করবো তার নামে। রফিকের বাড়ি আমার বাড়ির কাছেই। ও এলাকায় নাই, পুরা পরিবার নিয়ে পালায় গেছে।’

গ্রেপ্তারে অভিযান চলছেসিলেটের বিশ্বনাথ থানায় দায়ের মামলায় রফিকুল ছাড়া অন্য আসামিরা হলো রফিকুলের ছেলে বর্তমানে লিবিয়ায় বসবাসকারী পারভেজ আহমদ (২৮), মেয়ে অনন্যা প্রিয়া ওরফে পিংকি, গোলাপগঞ্জ উপজেলার পুনাইরচর গ্রামের আব্দুল খলিলের ছেলে ও সিলেট রাজা ম্যানশনের ইয়াহইয়া ওভারসিজের কর্মকর্তা এনামুলক হক তালুকদার (৪৫) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ভূইয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া (৩৪)। এদের মধ্যে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে এনামুল ও আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া।

যশোরের বেনাপোলে ভারতীয় রুপি ও ফেন্সিডিল উদ্ধার

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা বলেন, আসামি রফিককে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। এখনো আমরা ট্রেস করতে পারিনি। তার ছেলে পারভেজ লিবিয়ায় আছে— এটুকু জানা গেছে।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেটের (সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সাইফুল ইসলাম বলেন, রফিককে এখনো ধরা যায়নি, তবে চেষ্টা চলছে। পারভেজ লিবিয়ায় আছে, তার বোনও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে তদন্তে জানা গেছে। নৌকাডুবির ঘটনার পর তারা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের ধরতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares