| | বৃহস্পতিবার, ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে উপকূলে কাঁচা ঘর ও ভেড়িবাঁধে ভাঙন

প্রকাশিতঃ ৯:০৩ অপরাহ্ণ | মে ০৫, ২০১৯

আতিয়ার রহমান খুলনা : ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ উপকূলীয় জেলাগুলোতে পৌঁছায় দুর্বলভাবে। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে বিশাল জনগোষ্ঠী। তবে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের সহস্রাধিক কাঁচাঘর ও গাছপালা ভেঙে কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ভেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে লোনা পানিও প্রবেশ করেছে কয়েকটি এলাকায়।

স্থানীয়দের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ মেরামত করায় ব্যাপক পাল্লবিত হবার খবর পাওয়া যায়নি। গত তিন দিন যাবত ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতের পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানিয়েছেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে খুলনায় ৪ হাজার ৬৪০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ এছাড়া ভেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের সময় কয়রা ও দাকোপ উপজেলার দু’টি স্থান থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। তিনি বলেন, ঝড়ে খুলনার দু’টি গ্রাম পল্লবিত এবং এক কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিনের চাল ভেঙে পড়ে একজন আহত হন। তবে কোথাও কারও প্রাণহানি ঘটেনি।

সান্তাহারে মন্দিরে চুরি যাওয়া ১৯ মূর্তি উদ্ধার, গ্রেফতার ১

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানান, ঘূর্ণিঝড়ে খুলনায় ৯৯০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং তিন হাজার ৬৫০টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত কয়দিন ধরে খুলনার ৩২৫টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ও প্রায় ৫০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। স্থানীয় লোকজন জানান, দুপুরে জোয়ারের সময় দাকোপের বানিশান্তা এবং কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের গোলখালী গ্রামের ভেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে নোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে।
খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোঃ আমিরুল আজাদ জানান, খুলনায় সকাল ৯টায় ঘূর্ণিঝড় খুলনা অতিক্রম করে।

এর প্রভাবে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। তবে দুপুরের পর আশ্রয় কেন্দ্র থেকে লোকজন নিজ নিজ ঘর বাড়িতে ফিরতে শুরু করে। শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনাঞ্চলে মাত্র ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গরবার কোথাও কোথাও দু/এক পশলা বৃষ্টিপাত হতে পারে। নিম্নচাপের কারণে মোংলা বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, ঝড়ে সুন্দরবনের গাছপালা, বন্যপ্রাণি কিংবা বন বিভাগের অবকাঠামো ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

৮৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেল নিহত নাবিকের পরিবার

কয়রা : গত তিনদিনে কয়রা উপজেলায় চার শতাধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতি ও প্রায় ৮ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন। দুপুরের জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত ভেড়িবাঁধের তিনটি স্থান হতে নদীর নোনা পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করে। যা স্থানীয়রা মেরামতের চেষ্টা করছে। কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় (কন্ট্রোল রুম) সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারনে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৪৩৩টি কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও এক হাজার ৪০০ কাঁচাঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া অনেক স্থানে বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনও পর্যন্ত চিংড়ি ঘেরের কোন ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি

দক্ষিণ বেদকাশীর পাতাখালীর স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহর আলী সরদার জানান, গ্রামের বেশিরভাগ লোকের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। গবাদি পশুর ক্ষতি হয়েছে। অনেকের ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। তারা সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান করছেন।’ কয়রা-পাইকগাছার সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারজ্জামান বাবু ও কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের খোঁজ খবর নেন ও ভাঙন কবলিত ভেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন।

শে‌রপু‌রে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত

দাকোপ : দাকোপের বানিশান্তা ইউনিয়নের বানিশান্তা বাজারের ওয়াপদা ভেড়িবাঁধের ২৮ মিটার পশুর নদীগর্ভে বিলীন এবং সুতারখালী ইউনিয়নের গুনারী বৈদ্য বাড়ির সামনে ১২ মিটার ওয়াপদা ভেড়িবাঁধ ভেঙে শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঝড়ো হাওয়ার আঘাতে উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ নয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এক হাজার পাঁচশ’ ঘর বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নেয় উপজেলার বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে দমকা ঝড়ো হাওয়ায় উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ পানখালী, সুতারখালী, বানিশান্তা, তিলডাঙ্গা, কামারখোলা, বাজুয়া, লাউডোব, দাকোপ ও কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দেড় হাজার কাঁচাঘর বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া স্থানীয় নদ-নদীতে স্বাভাবিক অপেক্ষা ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের তোড়ে গভীর রাতে উপজেলার ৯নং বানিশান্তা ইউনিয়নের উত্তর বানিশান্তা বাজারের ওয়াপদা ভেড়িবাঁধের ২৮ মিটার বাঁধ পশুর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বানিশান্তা ও আমতলা গ্রাম ৫নং সুতারখারী ইউনিয়নের গুনারী বৈদ্য বাড়ির সামনে ১২ মিটার ওয়াপদা ভেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় গুনারী গ্রামের ভিতরে পানি প্রবেশ করায় সব মিলিয়ে দুইশ’ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া জোয়ারের পানি বৃদ্ধির কারণে ৭নং তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের কামিনী বাসিয়া মাওলাদের হ্যাচারীর সামনে প্রায় একশ’ মিটার ও ঝালবুনিয়া গ্রামে ৪০ মিটার ওয়াপদা ভেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে।

মোবাইল কোম্পানিগুলোর বকেয়া ১৫ হাজার কোটি টাকা

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলাসহ জনগণের জানমাল রক্ষায় চালনা পৌরসভাসহ নয়টি ইউনিয়নে অনেক আগে ভাগেই সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। প্রতিটি ইউনিয়নে তাৎক্ষণিকভাবে তিন টন করে চাল বরাদ্দসহ শুষ্ক খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কান্তি ব্যানার্জী বলেন, বানিশান্তা বাজারের উত্তর পাশে ভেঙে যাওয়া বাঁধটি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় আটকানো সম্ভব হয়েছে। তবে নানা জটিলতার কারণে এ বাঁধের পাশ দিয়ে বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করতে না পারায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

পাইকগাছা : ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে উপজেলায় প্রায় তিন হাজার কাঁচা-পাকা ঘর-বাড়ি, ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রায় পাঁচশ’ হেক্টর জমির আমের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। দেলুটি ইউপি’র কালিনগর ও গড়ইখালীর শান্তার ওয়াপদার ভেড়িবাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চললেও এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। ইউপি চেয়ারম্যানদের তত্ত্বাবধায়নে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে যেকোন মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ধসে গিয়ে বিস্তর্ণ এলাকা পল্লবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী ।

মুক্তিযুদ্ধে জিয়া ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট

উপজেলার গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস জানান, ইউনিয়নে কয়েকশ’ বাড়ি ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। শিবসা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ইউনিয়নের শান্তা এলাকার ভেড়িবাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও লোকজনের সহযোগিতায় বাঁধটি মেরামত করা গেলেও এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। কোনভাবে বাঁধটি ধসে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

গদাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জুনায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, ইউনিয়নের আলোকদ্বীপ গুচ্ছগ্রামের ১নং ব্যারাকের টিনের চাল সম্পূর্ণ উড়ে গেছে। এছাড়া ২০/২৫ টি ঘর কমবেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দেলুটির ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানিয়েছেন, ইউনিয়নের কালিনগর এলাকার ওয়াপদার ভেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের প্রবল স্রোতে ভদ্রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে কালিনগর এলাকার ১৫শ’ ফুট ভেড়িবাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাইকগাছার পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানিয়েছেন, এলাকার প্রায় তিন হাজার কাঁচা-পাকা ঘর-বাড়ি, ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রায় পাঁচশ’ হেক্টর জমির আমের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে উপজেলার কোথাও বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জানান তারা।

মোংলা : শনিবার ভোর রাত থেকে বাতাস আর বর্ষনে সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এছাড়া জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মাঝে নতুন করে ভীতি সৃষ্টি করে। আগের রাতে উপকূলীয় এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষ ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় রাত জেগে ছিল। এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের সাত নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে মোংলা সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ সতর্কতা এলার্ট-৩ পরিবর্তন করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সংকেত এলার্ট-১ জারি করেছে।

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করলেন মুনতাসীর মামুন

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার নূরুল হুদা জানান, বিপদ সংকেত পরিবর্তনের পর বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বন্দর সংশিলষ্ট ব্যবহারকারীদের (শিপিং এজেন্ট, স্টিটিভিডর অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্র“প ও লাইটারেজ এসোসিয়েশন) নোটিশ টু মেরিনার (এনটিএম) মেইলযোগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজে পণ্য খালাস ও বোঝাইয়ের কাজ চালু করতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শরণখোলা : বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালীতে গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে জোয়ারের তোড়ে পাউবো’র ৩৫/১ পোল্ডারের দু’টি পয়েন্ট বিধ্বস্ত হয়ে ছয়টি গ্রামের বিস্তর্ণ এলাকা পল্লবিত হয়েছে। এতে পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া, ফনি আতঙ্কে গত দুই দিন ধরে রাতে উপজেলার ৮৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া আনুমানিক ২০ হাজার মানুষ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সকাল থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। উপজেলার কোথাও কোন প্রানহানী কিংবা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী ও দক্ষিণ সাউথখালী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর ওই ভেড়িবাঁধের দু’টি স্থান জোয়ারের পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়ে আলাদা হয়ে গেছে। প্রবল স্রোতে ওই স্থান দু’টি থেকে ফসলের মাঠে পানি ঢুকে বিস্তর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বগী, দশ ঘর, সাত ঘর, দক্ষিন সাউথখালী, গাবতলা ও চালিতাবুনিয়া গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

কংগ্রেসের ব়্যালিতে আহত মহিমা, অভিনেত্রীর জন্য গাড়িতে ভক্তরা!

বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহিন হোসেন জানান, বিধ্বস্ত হওয়া ভেড়িবাঁধ এলাকায় যাতে দ্রত মেরামত করা হয়, তার ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্মাণাধীন ভেড়িবাঁধ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী শ্যামল দত্ত জানান, খুব শিগগিরই ভেঙে যাওয়া ভেড়িবাঁধ মেরামত করা হবে।

সাতক্ষীরায়: সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের দাবি ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র প্রভাবে জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৬০০ কাঁচা ঘর-বাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল। শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় প্রায় ৫ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার সুজন সরকার জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র প্রভাবে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর সংখ্যা খুবই নগন্য।

আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোহাগ হোসেন খান জানান, ‘ফণি’র আঘাতে প্রায় এক হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি পড়ে গেছে। প্রায় ৪৫০ মিটার ভেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এতে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, আশাশুনিতে ভেড়িবাঁধে ভাঙন অনেক আগে থেকেই। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র প্রভাবে এ এলাকায় এমন কোনো ক্ষতি দৃশ্যমান হয়নি।

সাতক্ষীরা জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র প্রভাবে জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৬০০ কাঁচা ঘর-বাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল। শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় প্রায় ৫ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল: ফখরুল

তিনি আরো জানান, দুর্যোগ কবলিত মানুষের মাঝে ইতিমধ্যে ২৭শ’ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৩১৬ মেট্রিক টন চাল, ১১ লক্ষ ৯২ হাজার ৫শ’ টাকা, ১১৭ বান ঢেউটিন, গৃহ নির্মাণ বাবদ ৩ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা ও ৪০ পিস শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় ১৬০টি আশ্রয় কেন্দ্রে এখনও দুর্যোগ কবলিত মানুষ অবস্থান করছে।

ফুলবাড়ীগেট : ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র ঝড় বাতাসের প্রভাবে খানজাহান আলী থানাধীন যোগীপোলে একটি মসজিদের টিনের চাল চাপায় ভ্যান চালক মোঃ সুমন (৩৪) গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সুস্থ হয়ে উঠছেন এটিএম শামসুজ্জামান, শিগগিরই ফিরবেন বাসায়

ইউপি সদস্য হাফিজা বেগম জানান, যোগীপোল ৭নং ওয়ার্ডের দরিদ্র আবুল কালামের ছেলে ভ্যান চালক মোঃ সুমন শনিবার জাব্দিপুর মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ পড়ে বের হলে ঝড়ো বাতাসে মসজিদের সিঁড়ি ঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়ে সুমনকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মুসল্লিরা সুমনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares