| | শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী |

ঈশিতার প্রত্যাবর্তনের গল্প

প্রকাশিতঃ ৬:০৬ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৫, ২০১৯

বিনোদন প্রতিবেদন :তখনও তিনি নীল দিগন্তের দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলেন। কী এক অপরূপ স্নিগ্ধতা ভর করে আছে আকাশের বুকজুড়ে। সবুজ পাতার ফাঁক গলে আলতো সূর্যের রশ্মি তার কপালে চুমু এঁকে দেয়। যাপিত জীবনের শত কষ্টময় সময় পেছেনে ফেলে প্রকৃতির মাঝেই যেন খুঁজে পান সঞ্জীবনী সুধা। বলছি ছোটপর্দার প্রিয়মুখ অভিনেত্রী রুমানা রশীদ ঈশিতার কথা। যার স্নিগ্ধতায় মাখা চাহনি যে কাউকে তন্ময়চিত্তে ভাবতে বাধ্য করে। অভিনয় ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকৃতির মতোই তার রূপের শোভা অপরিবর্তনীয়, অতল, অসীম। ক্যারিয়ার অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে অনেক আগেই দর্শকের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। কিন্তু দর্শকের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেলেও গত পাঁচ বছর ধরেই পর্দায় অতটা নিয়মিত নন ঈশিতা। মাঝে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি নাটকে দেখা গেলেও এরপর আবারও নেন লম্বা বিরতি। এরপর চার বছরের দীর্ঘ বিরতি ভেঙে গত ঈদে কাজ করলেন রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘পাতা ঝরার দিন’ নাটকে।

জার্মানিতে ওয়ালটন টিভি রপ্তানি শুরু

ছবিয়ালের ভাই-ব্রাদার এক্সপ্রেসের ব্যানারে নাটকটির মাধ্যমে ভক্তরা আবারও তাদের প্রিয় ঈশিতাকে একেবারে ভিন্নরূপে আবিস্কার করে। ব্যতিক্রমী চরিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয়শৈলী দেখে সবাই আশায় বুক বাঁধেন, এবার হয়তো ছোটপর্দায় নিয়মিত হবেন ঈশিতা। কিন্তু আবারও তিনি ডুব দিলেন নিভৃতের চাদরে। তবে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতে পছন্দ করেন বলেই হয়তো তার প্রত্যাবর্তনও হলো অনেকটা নীরবে। সম্প্রতি ইংরেজি গল্প ‘দ্য হসপিটাল উইন্ডো’ অবলম্বনে ফরহাদ শাহীর পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ভালো থেকো ফুল’-এ অভিনয় করেন ঈশিতা। তাসনিমুল তাজের চিত্রনাট্যে এটির সহপরিচালক কেএম কনক। এরই মধ্যে সম্প্রতি ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক কাল্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ সিনেমাটির প্রথম প্রিমিয়ার হয়েছে। সেখানে ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ জিতে নিয়েছে ছবিটি। তবে এ অর্জনের মাঝেও কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়- কেন প্রত্যাবর্তনের গল্পে তরুণ নির্মাতা ফরহাদ শাহীকে সঙ্গী করলেন? সহাস্য ভঙ্গীতে তিনি বিস্তারিত বলেন, ‘পাতা ঝরার দিন’ নাটকের পর বেশ কিছু দিন পর্দায় আমাকে দেখা যায়নি। এ বিরতিকালীন বারবার মনে হচ্ছিল, দর্শক কী আমাকে ভুলে যেতে বসেছেন? এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি স্ট্ক্রিপ্ট হাতে পেয়েছিলাম। কিন্তু একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা ও ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত থাকতে হয়। এ ছাড়াও পরিবারকেও সময় দিতে হয়। আগে যেমন শুধু নাটক নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে এখন সে অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। তাই ভালো গল্প না পেলে কোনো কাজ করতে ইচ্ছা করে না। ‘ভালো থেকো ফুল’-এর গল্পটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছিল। শুটিং ইউনিটের বেশিরভাগই পূর্বপরিচিত ছিল। ‘পাতা ঝরার দিন’-এ কাজ করার সময় থেকেই তাদের সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটা দারুণ। এ ছাড়া নির্মাতা ফরহাদ শাহী যখন প্রজেক্টটি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন তখন মনে হয়েছিল, একজন নির্মাতা কিংবা তার ইউনিটের লোকজনের কাজের প্রতি যে ধরনের ভালোবাসা কিংবা দায়বদ্ধতা থাকা দরকার তার পুরোটাই তারা বহন করেন। তাই এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হলাম।’ ‘ভালো থেকো ফুল’-এর আদ্যোপান্ত তো শোনা হলো। কিন্তু আবারও কবে তাকে নতুন কাজে দেখা যাবে? ঈশিতা সোজাসাপ্টা বলেন, ‘ভালো গল্প পেলে হয়তো আগামীকালই নতুন কোনো প্রজেক্টে আমাকে দেখা যাবে। আর যদি না পাই তাহলে আগামী এক বছরেও পর্দায় আমাকে দেখা যাবে না।’

হালুয়াঘাটে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

অভিনেত্রীর বাইরে ঈশিতার আরও একটি পরিচয় আছে। তিনি গান করেন। একটা সময় নিয়মিত গান করতেন তিনি। পরবর্তীতে অভিনয়ের ব্যস্ততায় গান প্রকাশ থেকে দূরে সরে যান। তবে গেল বছর একটি গানের মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর পর দর্শক-শ্রোতাদের সামনে আসেন তিনি। গানের শিরোনাম ‘তোমার জানালায়’। কথা লিখেছেন সোহেল আরমান। সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন ইবরার টিপু। এর আগে ২০১৩ সালে মাছরাঙা টিভিতে তিনি একটি গান করেন। প্রকাশিত গানটি প্রসঙ্গে ঈশিতা বলেন, ‘এর কথা খুবই চমৎকার। সবমিলিয়ে আমার মনের মতো একটি গান হয়েছে। নিজের কাছে গান এবং মিউজিক ভিডিওর একটি পূর্ণ সমন্বয়ের ভালো লাগা খুঁজে পাই।’

চিতলমারীতে বিদ্যালয় ভবন বাঁচাতে মানববন্ধন

অনেক পাঠকই হয়তো জানেন না, পর্দার নিয়মিত না হলেও বাসায় এখনও নিয়ম করে সঙ্গীতচর্চা করেন ঈশিতা। অবশ্য শিল্প-সাহিত্যের তৃষ্ণা যার ধমনিতে বহমান, তিনি কি আর সংস্কৃতি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন? এটা ঠিক, যাপিত জীবনের ব্যস্ততাকে সঙ্গী করে চলাই হয়তো নিত্য অভ্যাসে পরিণত করেছেন তিনি। তবুও ব্যস্ত সময়ে একটু ফিরিস্তি মিলতেই তিনি হারিয়ে যান বর্ণময় শৈশবে। ব্রিটিশ কাউন্সিলে নাচের অনুষ্ঠানে প্রযোজক আল মনসুরের হাত ধরেই ১৬ ডিসেম্বর নাচের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর নতুনকুঁড়ির মাধ্যমে পান জনপ্রিয়তা। এরপর একের পর এক ভালো কাজ উপহার দিয়ে জয় করেছেন সবার মন। শিতা নিজে যেহেতু প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আপন প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন। তাই বর্তমানে রিয়েলিটি শো থেকে উঠে আসা শিল্পীদের নিয়েও তিনি ভীষণ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘নতুনরা এখন আরও বেশি পরিপকস্ফ। তারা এখন শুধু দেশের কাজ নয়, বহির্বিশ্বের মিডিয়ার মানসম্মত নানা অনুষ্ঠান দেখে নিজেদের সমৃদ্ধ করছে। ব্যক্তিজীবনে মানুষকে বিশ্বাস করতে ভালোবাসেন ঈশিতা। তাই তো জ্যোর্তিময় রূপ-লাবণ্যের দ্যুতি ছড়িয়েও তিনি অহমিকার স্রোতে ভাসতে চান না।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares