| | মঙ্গলবার, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী |

পটিয়ায় পাহাড় থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে উজাড়

প্রকাশিতঃ ৮:৪৩ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৩, ২০১৯

পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী:- চট্টগ্রামে পটিয়া উপজেলার বন বিভাগকে মাইনেস করে গত ৩ মাস ধরে সেগুন কাঠসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাহাড় থেকে কোটি কোটি টাকার গাছ কেটে উজাড় করে দিয়েছে একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটটির প্রধান হোতা হলেন কেলিশহর মাঝিরা পাড়া এলাকার নজরুল ইসলাম লেদু, পৌর সদরের নাছির উদ্দিন, খরনা জাহাঙ্গীর সওদাগর নামে এই তিন ব্যক্তি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ।

বন বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ও পটিয়া থানার পুলিশকে মাইনেস করে পাহাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে জৈব বিচিত্রসহ ধবংস করার অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানাযায়, পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নে মাঝিরা পাড়া ৭নং ওয়ার্ড এলাকার পূর্ব পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জঙ্গল শীতল ছড়ি দিয়ে সুলতান মিয়ার মাঠ এলাকায় গেলে দেখা যায় এই সিন্ডিকেট পাহাড়ের সরকারী বনায়নের সেগুন বাগানসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাহাড়ি গাছ কেটে পাহাড় ধবংস করে ফেলছে। একটি সেগুন বাগান ক্রয় করার নাম দিয়ে পাহাড়ে সরকরী কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির পাহাড়ি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে একাবাসী সূত্রে জানা যায়। প্রত্যেক্ষদর্শী সূত্রে জানায় গত ৪ মাস আগে এই সিন্ডিকেট দলের মূল হোতা নজরুল ইসলাম লেদু বার্ম্মা থেকে ৩৫-৪০ জন মানুষ এনে পাহাড়ে আস্তানা গড়ে তুলে। এই বার্ম্মাইয়া রোহিঙ্গাদের দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সেগুন কাঠসহ পাহাড় থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে পটিয়া, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে গাছগুলি প্রশাসনকে মাইনেজ করে বিভিন্ন পরিবহন ট্রাক ও কার্ভাট ভ্যান করে পাচার করে আসছে। এছাড়া নজরুল ইসলাম লেদুসহ এই সিন্ডিকেট প্রতি বছর ব্যক্তিগত বাগান ক্রয় করার নাম করে পাহাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে আসে ও পাহাড় ধবংস করে আসছে বলে এলাকার সর্ব শ্রেণির মানুসের অভিমত।

এছাড়াও এ সিন্ডিকেট গাছ পাচারের পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া থেকে ঐ বার্ম্মাইয়া লোকদের ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার চোলাই মদের ব্যবসা করে বলে এলাকার লোকজন জানান। এত সবকিছুর পরও সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ ও প্রসাশন রহস্য জনক নিরবতা জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে পাহাড়ে গিয়ে দেখা যায় পাহাড় থেকে সেগুন কাঠসহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে এ সিন্ডিকেট। প্রশাসনের নজর না পড়ার জন্য এই সিন্ডিকেট প্রায় ২ হাজারের মত সেগুন গাছের গোড়ার শিকড় উপড়ে ফেলে। দেখা যায় পাহাড়ি পথ দিয়ে সহজভাবে যেন গাছগুলি ট্রাকে বুঝায় করে পরিবহন করা যায় সেজন্য স্কেবেটার দিয়ে পাহাড় কেটে এই সিন্ডিকেট প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করে। এছাড়াও সিন্ডিকেট গাছ পাচার ও চোলাই মদের ব্যবসায় কেউ বাধা দিলে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেয় বলেও স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান।

পাহাড়ের কাঠুরিয়া মোঃ লোকমানের সাথে কথা বলে জানা যায় গত ৩ মাস ধরে ৩০/৩৫ জন লোক পাহাড় থেকে সেগুন গাছসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ধ্বংস করে ফেলছে। পাহাড়ি গাছগুলি প্রতিদিন রাতে ও ভোরে ১০-১২টি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায় বন বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ও পটিয়া থানার পুলিশকে মাইনেস করে পাহাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ধবংস করছে একটি সিন্ডিকেট । এতে করে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজ¦স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হালুয়াঘাট থানায় বসে অন্তঃসত্ত্বার বিয়ে,আদালতে পাঁচ জনের নামে মামলা

পটিয়া বন বিভাগের কমকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান মোঃ লেদু একজন খারাপ প্রকৃতির লোক তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব। এছাড়া তিনি এই সিন্ডিকেট দলকে ধরতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। তবে টাকার বিষয় তিনি কিছু বলতে রাজি হয় নি।

এদিকে পরিবেশ বিশেজ্ঞরা জানান এইভাবে পাহাড় কেটে উজার করা এবং সংরক্ষিত সরকারি বনায়নের বিভিন্ন প্রজাতির সেগুন কাঠসহ পাহাড় থেকে কেটে ফেললে ভূমিকম্পসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়ে বড় ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্র্যয় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই পাহাড় ও বনকে রক্ষা করার জন্য সবাইকে স্বোচ্ছার হতে হবে। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেবে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares