| |

আগৈলঝাড়ায় ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের!

প্রকাশিতঃ 8:41 pm | April 22, 2019

স্টাফ রিপোর্টার :  দিগন্ত জোড়া পাকা ইরি-বোরো ফসলের মাঠ। ফলনও হয়েছে আশাতীত, কিন্তু ধানের বাজার মূল্য উৎপাদন খরচের অর্ধেক হওয়ায় মহা বিপাকে চাষিরা। মাঠ জুড়ে উঠতি পাকা ধান, কাল বৈশাখীর সাথে বৃষ্টির আশংকা আর ধানের মূল্য কম থাকায় ধান কাটতে শ্রমিকের অনীহায় শ্রমিক সংকটের কারনে দিশেহারা হয়ে পরেছে চাষিরা। এই চিত্র বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সর্বত্র।

উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার সুভাষ চন্দ্র মন্ডল জানান, উপজেলায় এ বছর ৯ হাজার ৬শ ৬ হেক্টর জমি চাষের লক্ষমাত্রা নেয়া হলেও বিভিন্ন সড়ক উন্ন্য়ন কাজের জন্য সেচ বিঘ্ন হওয়ায় ১৫ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষ কম হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৭ দশমিক ৫ মে. টন ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা হিসেবে ক্রপ কাটিং করে দেখা গেছে, প্রতি হেক্টরে ৫ মে.টন চাল উৎপাদন হয়েছে।

প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টির পানিতে ইউরিয়ার আধিক্য থাকায় বাম্পার ফলন হলেও কিছু জমিতে ব্যাকটেরিয়াল লিপ ব্রাইট বা পাতা মরা রোগ (বিএলবি) দেখা দিয়েছে। তাতে অন্তত ৫ হেক্টর জমি আক্রান্ত হলেও কৃষি অফিসের পরামর্শে চাষীদের গৃহীত ব্যবস্থায় তার ক্ষতি থেকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে কৃষকেরা। সব কিছুর পরেও এবছর বাম্পার ফলন ফলেছে।

ভালুকায় বোরধান মরে চিটা

কর্মকর্তা সুভাষ মন্ডল আরও জানান, ফসলের বাম্পার ফলন হলেও উৎপাদিত ধানের বাজার মূল্য কম হওয়ায় ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। বাজার ব্যবস্থার মনিটরিং না থাকায় কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না বলেও সত্যতা স্বীকার করেন তিনি। ধানের দাম কমাতে থাকায় ক্রমান্বয়ে জমির মুল মালিকেরা ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। নির্ভর হয়ে পরছে বর্গা চাষির উপর। ক্ষুদ্র ও বর্গা চাষিরা মৌসুমের শুরুতেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদনের টাকা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করে। ফসল বিক্রি করে তারা দাদনের টাকা পরিশোধ করার কথা। বর্তমানে ফসলের বাজার মূল্য অত্যান্ত কম হওয়ায় ওই ফসল বিক্রি করে তাদের দাদনের টাকা পরিশোধে মহা চিন্তায় পরেছেন। উঠতি মৌসুমে বর্তমানে ধানের বাজার মূল্যমন প্রতি ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা।

প্রতি বছর ফসল কাটার জন্য গোপলগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, শরনখোলা, মোড়লগঞ্জ জেলার ধানকাটা শ্রমিকরা আসলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। যারাও এসছেন তাদের অনেকেই ধানের দাম কম ও জমিতে কাঁদা-পানির কারণে ধান কাটতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

চাষিরা জানান, উফশি, হাই ব্রীড জাতের স্থানীয় বাজার মূল্য ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা আর ও ব্রী-২৯ জাতের ধানের বাজার মূল্য সাড়ে ৫শ থেকে ৬শ টাকা। যা চাষীদের উৎপাদন খরচের মাত্র অর্ধেক। ধানের বাজার মূল্য কম হওয়া, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকুল পরিবেশের কারনসহ সব মিলিয়ে উঠতি পাকা ফসল ঘরে তুলতে না পেরে কৃষকরা চরম হতাশায় রয়েছেন। অন্যদিকে বর্গা ও ক্ষুদ্র চাষিরা মহাজনদের দাদনের ধান ও সুদের টাকা পরিশোধের মহা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

চিতলমারীতে ‘ফাতেমা ধান’এ সাফল্য

চাষিরা জানান, সরকার বাজার ব্যবস্থা মনিটরিং করে চাষীদের কাছ থেকে সরকারের খাদ্য মন্ত্রনারয় সরাসরি ধান ও চাল কিনলে চাষিরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পেয়ে উপকৃত হতে পারেন।

ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে চাষিদের বঞ্চিত হবার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হবে। সরকার চাষিদের স্বার্থ চিন্তা করে অবশ্যই একটা ব্যবস্থা নেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares