| |

ভালুকায় বোরধান মরে চিটা

প্রকাশিতঃ 12:17 pm | April 19, 2019

ভালুকা (ময়মনসিংহ) থেকে তমাল কান্তি সরকার : ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার গোয়ারী গ্রামে ধলি বিলে বেশ কয়েকটি ক্ষেত সহ আশপাশের বোর ক্ষেতে ধান মরে সাদা হয়ে শিষ ঝুলে পরেছে। দুর থেকে দেখলে মনে হয় পাকা ধান ক্ষেত ভরে রয়েছে। কাছে গিয়ে দেখা যায় চাল বিহিন সাদা চিটায় ভরা শিষ শুকিয়ে নিচের দিকে ঝুকে আছে।

আশপাশের লোকজনের কাছে জিজ্ঞেস করে জানা যায় মরা ক্ষেতটি উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি আহসান হাবিব মোহনের। জুয়েল ও মেহেদী হাসান এসব জমি বর্গা চাষ করেছেন। কৃষকরা জানায় ক্ষেত গুলি প্রথমে পাতামরে যায় পরবর্তীতে চিটা হয়ে ধানের শিষ বের হতে থাকে সারা ক্ষেত জুরে। তারা নানা রকম ঔষধ ছিটিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। কিছু জমির ধানগাছ কেটে গরুর খাদ্য বানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জমির মালিক উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি আহসান হাবিব মোহনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে জানা যায় প্রায় ৪ একর জমি তিনি ওই এলাকার জুয়েল ও মেহেদী সহ কয়েকজন কৃষকের কাছে বর্গা দিয়েছেন। ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়ার বিষয়টি বর্গা চাষিরা তাকে জানিয়েছেন।

ফসল হানির কারনে তিনি অর্থনৈতিক ভাবে যথেষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। অপরদিকে উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের ছিটাল গ্রামে দুলাল মিয়ার .৭০ শতাংশ জমির পাতা মরা রোগে আক্রান্ত হয়ে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান স্থানীয় দোকান হতে বিভিন্ন ঔষধ ক্ষেতে দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। সাতেঙ্গা গ্রামের আবুল কাসেম পাহাড়ী জানান তার ক্ষেত আক্রান্ত হলে তিনি সময়মত ঔষধ দেয়ায় দমন হলেও একপাশে সম্পুর্ণ মরে গেছে। একই গ্রামের সবুজ মিয়া, কাজল, আলাল কারী, হরমুজ আলী সহ অনেকের জমি যারা ব্রীধান ২৮ জাতের আবাদ করেছেন সকলের ক্ষেতের ধান মরে চিটা হয়ে গেছে। কারন হিসেবে তারা কিছু বলতে পারছেননা। ঔষধ ব্যবসায়ীদের পরামর্শে ঔষধ দিয়ে কোন ফল হয়নি।

অপরদিকে ভালুকা খীরু নদীর পাড়ঘেষা ভান্ডাব গ্রামের মনির হোসেন ও একই গ্রামে রুপীর খালের পূর্বপাড়ে আবুল কালামের ক্ষেত সহ অনেকের ক্ষেতের ধান মরে সাধা হয়ে গেছে। এছাড়া রাজৈ, উড়াহাটি, পনাশাইল, বিরুনিয়া, মল্লিকবাড়ী ব্রিজের দুই পাশে বহু জমির ধান মড়ে চিটা হয়ে গেছে, পানিভান্ডা ও হবিরবাড়ী এলাকায় অনেক কৃষকের জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। এসব কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা সকলেই ব্রীধান ২৮ জাতের আবাদ করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে বোর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া জনিত কারনে কিছু কিছু এলাকায় ব্লাষ্ট দেখা দিলেও ধানের মরগ ও বালাই নিয়ন্ত্রনে আছে।


দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares