| | শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী |

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় চট্টগ্রাম বিএনপি

প্রকাশিতঃ ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ১১, ২০১৯

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচনের পর কিছুটা সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখা গেলেও এখন অনেকটা নিশ্চুপ চট্টগ্রামের বিএনপি। দলটির অনেক নেতা এখনো জেলখানায় কিংবা আদালতের বারান্দায় ঘুরপাক খাচ্ছেন। দু-একটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ কার্যক্রম। ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। যদিও তৃণমূল শক্তিশালী করার কথাই জানাচ্ছেন দলটির নেতারা। এদিকে নির্বাচনে গণহারে গায়েবি মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি। এখন সেই মামলাগুলোয় জামিন নিতে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাদের। সাংগঠনিক কার্যক্রমের চেয়ে নতুন মামলা থেকে রক্ষা ও পুরনো মামলাগুলোতে জামিন পাওয়া মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের। এ জন্য নিত্য আদালতে ভিড় করছেন তারা। ইতোমধ্যে বেশ কিছু নেতাকর্মী কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়েছেন। জামিনে থাকা এসব নেতাকর্মী অনেকটা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন।

জামিনে কারাগার থেকে বের হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, সহ-সভাপতি সৈয়দ আহমদ, ইকবাল চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হালিম স্বপন ও সহ-প্রকাশনা সম্পাদক আবদুল হাই।

এ প্রসঙ্গে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর বলেন, সংগঠনের অবস্থা ভালো। রাষ্ট্রের কি অবস্থা সেটা দেখেন। জেল থেকে বের হলাম। সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। কেউ বের হচ্ছেন, কেউ জেলে ঢুকছেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটা সমাধানের চেষ্টা চলছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান আছে। তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালীভাবে গড়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে। অসমাপ্ত কমিটিগুলো সমাপ্ত করা হচ্ছে। অঙ্গসংগঠনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে বেশ সরগরম ছিল বিএনপির রাজনীতি।

ব্রুনাইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬ এমওইউ সই

দল ও জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে ছিলেন নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে নির্বাচনে ১৬টি আসনের একটিতেও জিতেনি দলটির কোনো প্রাথী। ভোটের আগে পরে কারাবরণ করতে হয়েছে অনেক নেতাকর্মীকে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকায় অনেক প্রার্থী মামলার শিকার কর্মীদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। এরই মধ্যে অনেক নেতাকর্মী কারাগার থেকে বের হয়েছেন। অনেকে মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ বা আবার আদালতে আত্মসমর্পণ করার অপেক্ষায় আছেন। ফলে এখনো পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি নেই।

আগামীতে দলের ভূমিকা কি হবে সেটাও বুঝে উঠতে পারছেন না দলের কর্মীরা। এতে করে কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। যদিও বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আটক হয়ে কারাগারে আছেন। অনেকে মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই আইনি কার্যক্রমেই আটকে আছে সবকিছু। তবে এরই মধ্যে তৃণমূল শক্তিশালী করার কাজ চলছে। একই সাথে শাখা কমিটি ও অঙ্গসংগঠনকে পুনর্গঠনের চিন্তা করা হচ্ছে। মহানগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমবেশি ছয় হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। বেশিরভাগ নেতাকর্মী জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। কারাগারে আছেন অনেক নেতাকর্মী। এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আদালতে বিএনপির কয়েকটি গায়েবি মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে না। নির্বাচন-পরবর্তী সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, জিয়া জাদুঘরের নামফলক নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছি। তাছাড়া কেন্দ্র ঘোষিত নিয়মিত কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares