| | বুধবার, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ই সফর, ১৪৪১ হিজরী |

গরিবের জমি অধিগ্রহণ না করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকাশিতঃ ৬:৫৮ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১০, ২০১৯

অর্থনৈতিক প্রতিবদেক: উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গরিব মানুষ ও বর্গাচাষিদের জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। যদি একান্ত দরকারই হয় তবে আগে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় নতুন সাতটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৮ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এসব কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব মো. নুরুল আমিন, জিইডি সদস্য সিনিয়র সচিব ড. অধ্যাপক শামসুল আলমসহ অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্প পরিচালকদের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও পদায়ন হলে যেন মাঠপর্যায় থাকেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ সরকারি কর্মকর্তারা গ্রামে থাকতে চান না। আবার তারা গ্রামে থাকলেও তাদের পরিবার থাকে ঢাকায়।

এ অবস্থায় তাদের মন পড়ে থাকে পরিবারের কাছে। ফলে জনগণকে সঠিক সেবা দিতে পারেন না। তবে তারা যাতে কর্মস্থলেই থাকতে পারেন সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে— প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। এমএ মান্নান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আরও নির্দেশ হচ্ছে— এখন থেকে যেসব ভবন তৈরি হবে, সেগুলো যেন খোলামেলা হয়, যেন দর্শনার্থীরা সহজেই হাঁটাচলা করতে পারেন। বর্তমানে যেসব পুকুর রয়েছে, সেগুলো কোনোভাবেই ভরাট করা যাবে না। প্রয়োজন হলে নতুন করে পুকুর কাটতে হবে। যেন কোথাও আগুন লাগলে সেই পুকুরের পানি ব্যবহার করা যায়। নদীর নব্য ও ভাঙ্গনরোধে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে বলে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দেশের সব মিটারগেজ রেললাইন ডুয়েলগেজ করা হবে। এরই অংশবিশেষ গতকাল বাংলাদেশ রেলওয়ের আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয় সভায়। এতে ব্যয় হবে ১৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার ঋণ দেবে ১০ হাজার ৬৫৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে— পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

ব্রুনাইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬ এমওইউ সই

এতে ব্যয় হবে ২৪৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। গত মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে প্রকল্পটি।এমএ মান্নান বলেন, দেশের সব বাঁকা রাস্তা সোজা করা হবে। এরই অংশবিশেষ মাগুরা-শ্রীপুর জেলা মহাসড়ক বাঁক সরলীকরণসহ সমপ্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ২১৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। ভারতের প্রয়োজনেই মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৯২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতের ঋণ প্রায় ৯১৫ কোটি টাকা। বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করবে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।এছাড়া বিসিএসআইআর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ এবং ইনডোর ফার্মিং গবেষণাসংক্রান্ত সুবিধাদি স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয় সভায়। এতে ব্যয় হবে ৮৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের মার্চে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ঘুঘুমারী থেকে ফুলুয়ারচর ঘাট ও রাজিবপুর উপজেলা সদর (মেম্বারপাড়া) থেকে মোহনগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৪৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। গত মে থেকে ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares