| | শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী |

খুলনায় উষা হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ তিন জনের নামে মামলা

প্রকাশিতঃ ১০:২১ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৯, ২০১৯

আতিয়ার রহমান,খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমনি বাদামতলা এলাকায় স্ত্রী জোয়ানা আক্তার উষা (২০) কে হত্যার কথা স্বীকার করলো পুলিশ সদস্য মো. মাহমুদ আলম (২৯)। রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। মহানগর হাকিম মো. আমিরুল ইসলাম তার জবানবন্দী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেছেন।

এদিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই জিএম সোহেল ইসলাম বাদি হয়ে পুলিশ সদস্য মাহমুদসহ তিন জনের নাম উল্লেখ করে খানজাহান আলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন (নং-৪)। এজাহারের অপর আসামিরা হলেন-মাহমুদ আলমের পিতা মো. জবেদ আলী (৬৫) ও তার মা মোসা. লুৎফুননেছা (৫৫)।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালি ইউনিয়নের বাসিন্দা জি এম জামাল উদ্দিনের মেয়ে জোয়ানা আক্তার উষার সাথে আশাশুনির বাসিন্দা আমর্ড পুলিশের নায়েক মাহমুদ আলমের সাথে গত বছরের ২ ডিসেম্বর বিয়ে হয়। তারা শিরোমনি বাদামতলা এলাকার মনিরুল ইসলামের বাসায় ভাড়া থাকতো। গত শুক্রবার রাতে স্ত্রী জোয়ানা আক্তার উষাকে মারপিট করে মাহমুদ। শনিবার দুপুরে উষার ভাই সোহেল ওই বাড়িতে গিয়ে বোন জোয়ানাকে খাটের উপর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জোয়ানাকে গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ ও গলায় কামড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খানাজাহান আলী থানার এসআই নৃপেন বিশ্বাস জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে শ্বাসঃরোধে আসামি মাহমুদ আলম তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত অপর আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত গৃহবধূ উষা’র বড় ভাই জিএম সোহেল ইসলাম বলেন, চার মাস আগে ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার জালালনগর গ্রামের জবেদ আলীর ছেলে পুলিশ সদস্য মাহমুদ আলমের সঙ্গে পারিবারিকভাবেই তার বোন উষা’র বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হয়। তারপরও একটি মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিল তারা। এ নিয়ে বোনের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং নির্যাতন চলছিল। কিন্তু বোন কখনও তাদের এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি।
তিনি জানান, শুক্রবার রাতে তুচ্ছ বিষয়ে মাহমুদ তার বোনের ওপর নির্যাতন করে।

বিষয়টি ঘটনার দিন শনিবার সকাল ৭টার দিকে বোন তার মাকে ফোন করে জানায়। বলে, ‘মা তোমার জামাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে’। এ কথা শোনার পর মা তাকে বলে তোমার ভাইকে (সোহেলকে) পাঠাচ্ছি, সে গিয়ে বিষয়টি দেখবে, তুমি রান্না করো, সে দুপুরে তোমাদের বাসায় গিয়ে খাওয়া দাওয়া করবে’। এ কথা বলে মা ফোন কেটে দেন।

জিএম সোহেল ইসলাম জানান, ফোন কেটে দেওয়ার পরই শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে মাহমুদ আলম তার বোনকে আবারো নির্যাতন করে। এক পর্যায় সে উষা’র গলায় গামছা লাগিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। এতে বোনের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়লে সে গলায় কামড় দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপরই তাকে বিছানায় শুইয়ে রেখে শরীরে কাঁথা জড়িয়ে ঢেকে তড়িঘড়ি করে অফিসে চলে যায়। ১টা ২০ মিনিটের দিকে সোহেল বোনের বাসায় প্রবেশের পথে ভগ্নিপতি মাহমুদের সঙ্গে দেখা হয়। তখন তাদের মধ্যে কি হয়েছে-জানতে চাইলে মাহমুদ মারধরের কথা স্বীকার করে বলে, ‘আপনি বাসায় যান, উষা রান্না করে রেখেছে, আমি আসছি, দুপুরে একসঙ্গে খাবো’। কিন্তু তিনি বাসায় প্রবেশ করে খাটের ওপর বোনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে প্রতিবেশিদের ডেকে বোনকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে, খবর পেয়ে কিছু না জানার ভান করে মাহমুদও তার সঙ্গে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক বোনের শরীর পরীক্ষা করে অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে-জানালে উপস্থিত পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদে মাহমুদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেও জানান সোহেল।

উল্লেখ্য, নগরীর শিরোমণি বাদামতলা এলাকার মনিরুল ইসলামের ভাড়া বাসায় থাকতেন এপিবিএন সদস্য মাহমুদ আলম ও তার স্ত্রী উষা। পারিবারিক কলহের জের ধরে শনিবার স্বামী মাহমুদ আলম তার স্ত্রী জোয়ানা আকতার উষাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। নিহত জোয়ানা আকতার উষা খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালি গ্রামের জিএম জালাল উদ্দিনের কন্যা। তিনি স্থানীয় পাইকগাছা কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের সমাজ কল্যাণ বিভাগের ছাত্রী ছিলেন।#

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares