| | বুধবার, ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ই সফর, ১৪৪১ হিজরী |

২০ বছর আগে চুরি যাওয়া চিত্রকর্ম উদ্ধার

প্রকাশিতঃ ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৭, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আর্ট ওয়ার্ল্ডের ইন্ডিয়ানা জোনস নামে খ্যাত এক ডাচ গোয়েন্দা, আর্থার ব্র্যান্ড, খুঁজে বের করেছেন ২০ বছর আগে চুরি যাওয়া পিকাসোর একটি শিল্পকর্ম।

১৯৯৯ সালে সৌদি শেখের ইয়ট থেকে চুরি হয়ে যাওয়ার আগে পাবলো পিকাসোর এই চিত্রকর্মটি শেষ বারের মতো দেখা যায়। আর্থার ব্র্যান্ড বলছেন, তারপর থেকেই কয়েক বছর ধরে এই ছবির জন্যে ডাচ অপরাধ জগতে চলেছে পুলিশি খোঁজ। খবর বিবিসির।

ছবিটি বুস্ট ডা ফাম বা ডোরা মারের। ১৯৩৮ সালে প্রথম এই নারীর প্রতিকৃতি আঁকা হয়। যে পেইন্টিংটির মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৫ মিলিয়ন ইউরো বা ২১ মিলিয়ন পাউন্ড (২৮ মিলিয়ন ডলার)।

ডোরা মার ছিলেন কিংবদন্তী শিল্পী পাবলো পিকাসোর প্রেমিকা এবং তাদের সম্পর্ক টিকে ছিল সাত বছর। পেইন্টিংটি শিল্পীর নিজের বাড়িতে ১৯৭৩ সাল অর্থাৎ তার মৃত্যু পর্যন্ত ঝোলানো ছিল।

ব্র্যান্ড গত বছরে সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছিলেন সেইন্ট মার্কের হারিয়ে যাওয়া একটি বাইজেন্টাইন মোজাইক মূর্তি উদ্ধার করে। ১৯৭০ সালে সাইপ্রাসের একটি গির্জা থেকে যেটি চুরি যায়।

আন্তর্জাতিক প্রশংসা এবং স্বীকৃতি মেলে যখন তিনি নাৎসি ভাস্কর জোসেফ থোরাকের তৈরি দুটি ঘোড়ার মূর্তি উদ্ধার করেন। যেটি হিটলারের ঘোড়া নামে পরিচিত, আর এ ঘটনাটি ২০১৫ সালের।

সংবাদ সংস্থা এএফপিকে তিনি পিকাসোর এই চিত্রকর্মটি সম্পর্কে বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই এটির খোঁজ করা হচ্ছিল। কখনো এই ছবিটি জালিয়াতির কাজে বা কখনো মাদক বেচাকেনার মূল্য হিসেবেও ব্যবহার হয়েছে।

ব্র্যান্ড জানান, চার বছর আগে অস্ত্র কেনাবেচার চুক্তি হিসেবেও এটি ব্যবহারের তথ্য জানা যায়। অনেকেই মনে করেছিল যে, এটি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে, যেটি প্রায় ৯০ শতাংশ চুরি হওয়া শিল্পের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। কেননা এগুলো পরে আর খোলা বাজারে বিক্রি করা যায় না।

সঙ্গে আবার এটাও বলেন যে, ডোরা মারের পোট্রেটটি খুঁজে পাবার পর একরাত তিনি সেটি নিজের শোবার ঘরে টাঙ্গিয়ে রেখেছিলেন আর ছবিটি খুঁতিয়ে দেখেছিলেন।

কীভাবে উদ্ধার হলো এটি?

২০১৫ সাল থেকে আর্থার ব্রান্ড এই শিল্পকর্মটির খোঁজ শুরু করেন, যখন তিনি জানতে পারেন যে একটি জাহাজ থেকে পিকাসোর একটি পেইন্টিং চুরি হয়েছে। এরপর নেদারল্যান্ডসের অপরাধ জগতে তিনি এটি প্রচার করে দেন, যদিও তিনি নিশ্চিত ছিলেন না যে এই কৌশলটি কাজ করবে কিনা। কয়েক বছরের অনুসন্ধানের পর ব্র্যান্ড জানতে পারেন যে, পেইন্টিংটি বুস্ট ডা ফাম এর যা কিনা ডোরা মারের পোট্রেট হিসেবেও পরিচিত।

একজন বিখ্যাত আলোকচিত্রী এবং শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ডোরা মার। ১৯০৭ সালে থিওডোর মার্কোভিচে তার জন্ম। ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত পাবলো পিকাসোর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ৮৯ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালে ডোরা মার মৃত্যু হয়।

একজন সৌদি ধনকুবের যার নাম শেখ আবদুল মোহসেন আব্দুলমালিক আল-শেখ, তার বিলাসবহুল ইয়ট থেকে এই শিল্পকর্মটি চুরি হয়ে যায়। সেসময় কোরাল আইল্যান্ডে জাহাজটির কিছু সংস্কারের কাজ চলছিল।

একবার যখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে তিনি ঠিক কোন চিত্রকর্মটি খুঁজছেন, তখন থেকে তিনি সেই সব লোকদের কাছে আবেদন করতে থাকেন- যেসব ব্যক্তি এই চিত্রকর্মটির সঠিক পরিচয় না জেনেই হয়ত কিনে থাকতে পারেন।

এই মাসের শুরুর দিকে এসে তার কাছে এর সাড়া মেলে। ব্যান্ড জানান, ‘একজন ডাচ ব্যবসায়ীর দু’জন প্রতিনিধি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, দাবি করেন যে তাদের মক্কেলের কাছে ছবিটি আছে। তিনি বিষয়টিতে কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, সেই ব্যক্তি ভেবেছিলেন যে পিকাসোর শিল্পকর্মটি বৈধ ছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে দেখা গেল যে, ছবিটি আসল হলেও যে উপায়ে তিনি সেটি কিনেছিলেন, সেটি বৈধ ছিলনা। বিষয়টি বোঝার পর তারা একটি কালো ময়লা ব্যাগে জড়িয়ে সেই মাস্টারপিসটি ব্র্যান্ডের আমাস্টাডার্মের ফ্ল্যাটে নিয়ে আসেন।

ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসের পুলিশ জানিয়েছে, তারা পেইন্টিংটির সর্বশেষ মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেনা। এখন একটি বীমা কোম্পানি পুরো বিষয়টি দেখছে, তারাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

Matched Content

দৈনিক সময় সংবাদ ২৪ ডট কম সংবাদের কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি,আলোকচত্রি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে র্পূব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সর্ম্পূণ বেআইনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোন কমেন্সের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।


Shares